গাজীপুরের ঐতিহাসিক ভাওয়াল রাজবাড়ী মাঠে মেলা বন্ধে জেলা প্রশাসনের নির্দেশের পরও মাঠে রয়ে গেছে মেলার অস্থায়ী স্থাপনা ও সরঞ্জাম। এরই মধ্যে মেলা আয়োজন নিয়ে হাইকোর্টে রিট পিটিশন হয়েছে। তবে এসবের মাঝেও মাঠের ফাঁকা জায়গায় ফুটবলসহ বিভিন্ন খেলায় ফিরতে শুরু করেছে স্থানীয় কিশোরেরা। মাঠটি দ্রুত পুরোপুরি উন্মুক্ত করে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

জেলা প্রশাসনের মেলা বন্ধের সিদ্ধান্তের পর স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরলেও সরঞ্জাম ও অস্থায়ী স্থাপনা সরানো না হওয়ায় মাঠের স্বাভাবিক পরিবেশ এখনো ফিরে আসেনি। বুধবার সরেজমিনে দেখা যায়, মাঠের বিভিন্ন অংশে মেলার স্টল, কাঠামো ও অন্যান্য সরঞ্জাম পড়ে রয়েছে। এসবের মাঝখানে থাকা ফাঁকা জায়গায় স্থানীয় কিশোরেরা ফুটবলসহ বিভিন্ন খেলাধুলায় মেতে উঠেছে।

মেলার সরঞ্জামের মধ্যেই কিশোরদের খেলাধুলার দৃশ্য যেন মাঠটির স্বাভাবিক প্রাণ ফিরে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষাকেই তুলে ধরছে। স্থানীয়রা বলছেন, রাজবাড়ী মাঠ শিশু-কিশোরদের খেলাধুলা ও শরীরচর্চার অন্যতম প্রধান জায়গা। মেলার সরঞ্জাম দ্রুত সরিয়ে মাঠটি সম্পূর্ণ উন্মুক্ত করা হলে আবারও নিয়মিত খেলাধুলার পরিবেশ ফিরে আসবে।

এ বিষয়ে গাজীপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) নাজির হাসান বলেন, 'মেলা বন্ধের নির্দেশনা দেওয়ার পর মাঠে থাকা মেলার সরঞ্জাম ও অস্থায়ী স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আশা করছি, দ্রুতই মাঠটি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।'

হাইকোর্টে করা রিট পিটিশনের বিষয়ে তিনি বলেন, 'রিট পিটিশনের বিষয়টি আমরা জেনেছি। বিষয়টি প্রশাসনের নজরে রয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত দিক পর্যালোচনা করে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'

তিনি আরও বলেন, 'রাজবাড়ী মাঠের ব্যবহার নিয়ে সাধারণ মানুষের আগ্রহ ও প্রত্যাশার বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। জনস্বার্থ, মাঠের ঐতিহ্য এবং শিশু-কিশোরদের খেলাধুলার সুযোগ—সবকিছু বিবেচনায় নিয়েই পরবর্তী কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।'

এদিকে রাজবাড়ী মাঠে মেলা আয়োজন নিয়ে আইনি বিষয়ও সামনে এসেছে। বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে রিট পিটিশন নং ১১৮৮৮/২০২৬-এর বিষয়ে একটি নোটিশ জারি হয়েছে। এতে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে গাজীপুরের জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্টদের বিবাদী করা হয়েছে।

২৩ আগস্ট ২০২৬ তারিখে অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে গৃহীত নোটিশে সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের অধীনে একটি আবেদন হাইকোর্ট বিভাগের ১৪ নম্বর আদালতে উপস্থাপনের কথা উল্লেখ রয়েছে। পিটিশনারের পক্ষে নোটিশে স্বাক্ষর করেছেন সিনিয়র অ্যাডভোকেট মোঃ শহিদুল ইসলাম।

রিটের বিষয়ে আদালতের সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত এর ফলাফল নিয়ে কোনো মন্তব্য না করলেও স্থানীয়দের প্রত্যাশা, আইনি প্রক্রিয়ার পাশাপাশি রাজবাড়ী মাঠের জনস্বার্থমূলক ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে।

এর আগে রাজবাড়ী মাঠে দীর্ঘমেয়াদি মেলা বন্ধের দাবিতে নাগরিক সমাজের উদ্যোগে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। পরে নেতৃবৃন্দ জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেন।

স্মারকলিপি গ্রহণের পর গাজীপুরের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ নূরুল করিম ভূঁইয়া জানান, রাজবাড়ী মাঠে আর কোনো মেলা অনুষ্ঠিত হবে না, মাঠটি জানাজার নামাজ, ঈদের জামাত ও খেলাধুলার জন্য ব্যবহৃত হবে।

জেলা প্রশাসকের এ ঘোষণাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা। তাদের প্রত্যাশা, দ্রুত মেলার সব সরঞ্জাম ও অস্থায়ী স্থাপনা সরিয়ে ঐতিহাসিক রাজবাড়ী মাঠ পুরোপুরি উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। এতে আবারও মাঠটি শিশু-কিশোরদের খেলাধুলা, শরীরচর্চা এবং সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক ব্যবহারের উপযোগী হয়ে উঠবে।

স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা বলেন, 'মেলার সরঞ্জামের ফাঁকে যখন কিশোররা খেলতে নেমেছে, তখন বোঝা যায় মাঠটি তাদের কতটা প্রয়োজন। মাঠটি পুরোপুরি খালি করে দেওয়া হলে এখানে আবারও প্রাণ ফিরে আসবে।'