মুঃ শফিকুল ইসলাম, গোমস্তাপুর (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) : আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে চাঁপাইনবাবগঞ্জে জমে উঠেছে কুরবানির পশুর হাট। জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও গ্রামীণ জনপদে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন খামারি ও গৃহস্থরা। খামার ও পারিবারিক পর্যায়ে লালন-পালন করা পশু নিয়ে তারা আশাবাদী ভালো দামের। এদিকে জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর জানিয়েছে, এ বছর জেলার চাহিদার তুলনায় প্রায় ৫৯ হাজার পশু উদ্বৃত্ত রয়েছে।

জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার পাঁচটি উপজেলায় কোরবানির জন্য মোট ২ লাখ ২৬ হাজার ৫০টি পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ৪৩ হাজার ৮২৪টি ষাঁড়, ৩৬ হাজার ৩৩১টি বলদ, ৩৬ হাজার ৮৫৫টি গাভী, ৫০৬টি মহিষ, ৮৪ হাজার ৮০১টি ছাগল, ১২ হাজার ৯২২টি ভেড়া এবং অন্যান্য ৫টি পশু। জেলায় মোট কোরবানিযোগ্য পশুর চাহিদা ধরা হয়েছে ১ লাখ ৬৭ হাজার ২০২টি। সে হিসাবে উদ্বৃত্ত রয়েছে ৫৮ হাজার ৮৪৮টি পশু।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোসা. শারমিন আক্তার বলেন, “এ বছর জেলায় কোরবানির জন্য ২ লাখ ২৬ হাজার ৫০টি পশু প্রস্তুত রয়েছে। চাহিদার তুলনায় প্রায় ৫৮ হাজার ৮৪৮টি পশু উদ্বৃত্ত থাকবে বলে আশা করছি।” তিনি আরও বলেন, “ঈদুল আজহা উপলক্ষে নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত পশু সরবরাহ নিশ্চিত করতে জেলা ও উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর নিরলসভাবে কাজ করছে।”

জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, পশুর হাটগুলোতে ভেজাল ও ক্ষতিকর উপায়ে মোটাতাজাকরণ রোধে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। একই সঙ্গে খামারিদের নিয়মিত পরামর্শ ও চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হচ্ছে, যাতে ক্রেতারা নিরাপদ ও সুস্থ পশু কিনতে পারেন।

ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে, ততই প্রাণ ফিরে পাচ্ছে জেলার পশুর হাটগুলো। খামারিদের প্রত্যাশা, এবার কোরবানির বাজারে তারা ন্যায্যমূল্য পাবেন এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের চাহিদাও মেটাতে সক্ষম হবেন।