স্টাফ রিপোর্টার, গাজীপুর : সাত মাস বয়সী শিশু কন্যার জন্য দুধ কিনে ঘরে ফেরার কথা ছিল আসিফের। স্ত্রী ও মায়ের জন্য কাপড় আনার কথাও বলেছিলেন বের হওয়ার আগে। কিন্তু সেই ফেরা আর হলো না। রাত পেরিয়ে সকালে বাড়ির পাশের গজারি বনে মিললো তার গলা কাটা নিথর লাশ। হৃদয়বিদারক এ ঘটনায় শোক ও আতঙ্ক নেমে এসেছে গাজীপুরের শ্রীপুরে।

নিহত আসিফ হোসেন (২১) শ্রীপুর উপজেলার রাজাবাড়ি ইউনিয়নের ডোয়াইবাড়ি বগারভিটা উত্তরপাড়া এলাকার হুমায়ুন আহমেদ জাকিরের ছেলে। সংসারের হাল ধরতে মাত্র দেড় মাস আগে অটোরিকশা চালানো শুরু করেছিলেন তিনি। ছোট্ট সংসারে ছিল স্ত্রী ও সাত মাস বয়সী এক কন্যা সন্তান।

স্বজনরা জানান, বুধবার (১৩ মে) দুপুরে পরিবারের সঙ্গে খাবার খেয়ে বিকেলে অটোরিকশা নিয়ে বের হন আসিফ। যাওয়ার সময় স্ত্রীকে বলেছিলেন, ফেরার পথে শিশুকন্যার জন্য দুধ এবং পরিবারের জন্য কিছু কাপড় নিয়ে আসবেন। কিন্তু রাত বাড়লেও তিনি আর বাড়ি ফেরেননি।

রাত ১০টার পর থেকে পরিবারের সদস্যরা তার মোবাইল ফোনে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করেন। ফোন বেজে গেলেও কোনো সাড়া মেলেনি। দুশ্চিন্তায় রাতভর বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি চালান স্বজনরা।

বৃহস্পতিবার সকালে নিহতের শ্যালক জিসান বাড়ির পাশের গজারি বনের ভেতরে আসিফের রক্তাক্ত গলা কাটা লাশ দেখতে পান। খবর পেয়ে শ্রীপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

পরে পাশের একটি পরিত্যক্ত বাড়ি থেকে আসিফের অটোরিকশাটি উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থলে পড়ে ছিল নারীদের ব্যবহৃত স্পঞ্জ স্যান্ডেল, পুরুষের দুই জোড়া স্যান্ডেল, একটি মাথার ক্যাপ ও হলুদ রঙের ওড়না। নিহতের ডান হাতের কনুইয়ে কামড়ের দাগও দেখতে পায় পুলিশ।

এ ঘটনায় বিস্তারিত জানতে শ্রীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ, মোহাম্মদ নাছির আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোনে কোনো বক্তব্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন এবং থানায় এসে তথ্য সংগ্রহের পরামর্শ দেন। তবে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে এবং হত্যাকা-ের রহস্য উদঘাটনে তদন্ত কার্যক্রম চলছে।

স্থানীয়দের ভাষায়, ‘সন্ধ্যায় যে ছেলে শিশুর জন্য দুধ নিয়ে ফেরার কথা বলেছিল, সকালে তার লাশ দেখতে হবে-এমন নির্মম দৃশ্য কেউ কল্পনাও করতে পারেনি।’

উল্লেখ্য, এর মাত্র দুইদিন আগে গাজীপুর মেট্রোপলিটনের গাছা থানা এলাকা থেকেও এক অটোরিকশা চালকের গলা কাটা লাশ উদ্ধার করা হয়। পরপর এমন ঘটনায় অটোরিকশা চালকদের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক বেড়েছে।