আজাদুর রহমান আজাদ, মৌলভীবাজার : গত ৭ মে বৃটেনের স্থানীয় নির্বাচনে বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত মৌলভীবাজার জেলার ৮ জন কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন। বৃটেনের মূলধারার রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে সে দেশের নির্বাচনে ধারাবাহিক সাফল্য অর্জন করায় জেলার সর্বত্র আনন্দের বন্যা বইছে। বিদেশের মাটিতে তাদের এমন সাফল্যে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়েছে। বৃটেনের বিশিষ্ট সাংবাদিক ও কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব আবু তাহের চৌধুরী দৈনিক সংগ্রামের মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধিকে এ তথ্য জানান। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এখন পর্যন্ত মৌলভীবাজার জেলার ৮ জন কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে। তবে এ পরিসংখ্যান আরও বাড়তে পারে বলে সেখানকার বাঙালি কমিউনিটির নেতৃবৃন্দরা ধারণা করছেন।
নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা লেখাপড়া, চাকরি ও অন্যান্য প্রয়োজনের তাগিদে তাদের পূর্বপুরুষ ও তারা পাড়ি জমিয়েছিলেন বৃটেনে। সেখানে নিজেদের মেধা, যোগ্যতা, পরিশ্রম ও ভালো ব্যবহার দিয়ে জয় করেছেন স্থানীয়দের মন। অনেকে কাজের পাশাপাশি যুক্ত হয়েছেন স্থানীয় রাজনীতিতেও। প্রথমে বাঙালি কমিউনিটির নেতৃত্ব দিয়েছেন। পরে যুক্ত হয়েছেন ঐ দেশের জাতীয় ও স্থানীয় রাজনীতির সঙ্গে। তারা পাল্লা দিয়ে রাজনীতি ও সমাজসেবায় নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন দীর্ঘদিন থেকে। গেল ৭ মে বৃটেনের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কাউন্সিলর পদে বাংলাদেশের মৌলভীবাজারের ঐ ৮ কৃতীসন্তান প্রার্থী হয়েছিলেন। ওখানকার স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে ভোটযুদ্ধে নেমে তারা বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছেন। এর মধ্যে কয়েকজন একাধিকবারও জয়ের মালা ছিনিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছেন তাদের মেধা, মনন, যোগ্যতা ও ব্যবহার দিয়ে।
গেল ৭ই মে ভোট শেষে ফলাফল প্রকাশের পর দেশে-বিদেশে অবস্থানরত বাঙালিদের মধ্যে আনন্দের বন্যা বইতে থাকে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপ ছিল সরব। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিজয়ীদের জানানো হচ্ছে উষ্ণ অভ্যর্থনা ও অভিবাদন।
জানা যায়, এসপায়ার পার্টি থেকে বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত সাবিনা আক্তার টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল নির্বাচনে স্টেপনি গ্রিন ওয়ার্ড থেকে টানা চতুর্থবারের মতো কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়ে অনন্য ইতিহাস গড়েছেন। তিনি টাওয়ার হ্যামলেটের স্পিকারেরও দায়িত্ব পালন করেছেন। সাবিনা আক্তার মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলার বরমচাল ইউনিয়নের উছমানপুর গ্রামের যুক্তরাজ্য প্রবাসী ফারুক আলী (সুন্দর)'র মেয়ে। পূর্ব লন্ডনের গুরুত্বপূর্ণ বারা নিউহ্যাম কাউন্সিলের চতুর্থ বারের মতো লেবার পার্টি থেকে নির্বাচিত হয়েছেন সাবেক মেয়র রহিমা রহমান। মৌলভীবাজারের বাসিন্দা রহিমা রহমানের স্বামী মৌলভীবাজার জেলার সাবেক ছাত্রনেতা মুজিবুর রহমান জসিম একাধিকবার এই বারাতে কাউন্সিলর ছিলেন। রেডব্রিজ কাউন্সিল থেকে তৃতীয়বারের মতো নির্বাচিত হয়েছেন লেবার পার্টি থেকে মনোনীত কাউন্সিলর মৌলভীবাজার সদর উপজেলার একাটুনা ইউনিয়নের উত্তর মোলাইম গ্রামের সন্তান জুসনা ইসলাম। তিনি তৃতীয় বারের মতো নির্বাচিত হয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন। তিনি এই কাউন্সিলের সাবেক মেয়র হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। রেডব্রিজ কাউন্সিল থেকে লেবার পার্টির হয়ে সদর উপজেলার মেয়ে ও বড় লেখার পুত্রবধূ সাংস্কৃতিক কর্মী সাঈদা চৌধুরী কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন। মৌলভীবাজার সদর উপজেলার একাটুনা ইউনিয়নে সিংকাপন গ্রামের ছেলে আবু তালহা চৌধুরী এসপায়ার পার্টি থেকে টাওয়ার হ্যামলেটের বেথনাল গ্রিন ওয়েস্ট কাউন্সিলরের ২য় বারের মতো সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি এসপায়ার পার্টির চেয়ারম্যান বৃটেনের কমিউনিটি লিডার ও সিনিয়র সাংবাদিক জনপ্রিয় কমিউনিটি লিটার কে এম আবু তাহের চৌধুরীর সন্তান। নর্থ ইংল্যান্ড ব্র্যাডফোর্ড কাউন্সিল থেকে চতুর্থবারের মতো লেবার পার্টির কাউন্সিলর হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন মৌলভীবাজার সদর উপজেলার কামালপুর ইউনিয়ন আজমনী গ্রামের সন্তান কাউন্সিলর হাসানুজ্জামান খান। তিনি মৌলভীবাজার সদর উপজেলার শাহবন্দর পতন এলাকার (জমাদারবাড়ি) সন্তান। সাবেক জেলা ছাত্রনেতা একে এম গোলাম জিলানী চৌধুরী জিবু। লন্ডন বোরো অফ ইসলিংটনের বার্নসবারি ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হিসেবে ষষ্ঠবারের মতো নির্বাচিত হয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন। তিনি এই বারার সাবেক মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ইংল্যান্ডের 'ওয়েল্ডস্টোন নর্থ ওয়ার্ড' থেকে শাহানিয়া চৌধুরী আবারো কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন। শাহানিয়া চৌধুরীর পৈতৃক নিবাস মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলার কালাপুর ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী কালাপুর চৌধুরী বাড়িতে। বিদেশে তাদের এমন সাফল্যে অভিনন্দন জানাচ্ছেন জেলার সর্বস্তরের নাগরিকবৃন্দ।