নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও শেষ হয়নি গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ নয়নপুর–বরমী আঞ্চলিক সড়কের সংস্কারকাজ। কাজ অসমাপ্ত রেখেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ বন্ধ করে দিয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারকাজ বন্ধ থাকায় সড়কের বিভিন্ন অংশে সৃষ্টি হয়েছে গর্ত, কাদা ও জলাবদ্ধতা। এতে প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন কয়েক হাজার শিল্পশ্রমিক, শিক্ষার্থী, রোগী, ব্যবসায়ী এবং সাধারণ মানুষ।

কাজ বন্ধ থাকার প্রতিবাদে সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুরে অসমাপ্ত সড়কের ওপর ধানগাছ লাগিয়ে প্রতীকী প্রতিবাদ করেছেন এলাকাবাসী। তাঁদের অভিযোগ, নির্ধারিত সময় শেষ হলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজনকে এখন আর এলাকায় দেখা যাচ্ছে না। দ্রুত সংস্কারকাজ শেষ করে জনদুর্ভোগ নিরসনের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নয়নপুর বাজারসংলগ্ন প্রায় ২৬০ মিটার সড়কের কাজ দীর্ঘদিন ধরে অসমাপ্ত পড়ে আছে। সামান্য বৃষ্টিতেই ওই অংশে পানি ও কাদা জমে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। এতে শিল্পকারখানার শ্রমিক, শিক্ষার্থী, রোগী, ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষকে প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, নয়নপুর বাজার থেকে সিসি ডিবি মোড় পর্যন্ত প্রায় ৬ কিলোমিটার সড়কের সংস্কারকাজের কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা শেষ হয়নি। বিশেষ করে নয়নপুর বাজারের প্রায় ২৬০ মিটার অংশ দীর্ঘদিন ধরে অসমাপ্ত। সড়কের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে ইট, পাথর, রডসহ নির্মাণসামগ্রী। কোথাও বড় বড় গর্ত, আবার কোথাও জমে আছে কাদা ও পানি। বৃষ্টি হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে।

স্থানীয়রা জানান, নয়নপুর-বরমী সড়কটি শ্রীপুর উপজেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক যোগাযোগপথ। নয়নপুর, বরমী, মাওনা ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকার মানুষ প্রতিদিন এ সড়ক ব্যবহার করেন।

শিল্পাঞ্চলের কয়েক হাজার শ্রমিক নিয়মিত এই পথ দিয়ে কর্মস্থলে যাতায়াত করেন। পাশাপাশি পণ্যবাহী ট্রাক, বাস, মাইক্রোবাস, সিএনজিচালিত অটোরিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহন চলাচল করে। নয়নপুর বাজারের ব্যবসায়ী মোফাজ্জল হোসেন বলেন, ‘বৃষ্টির পর রাস্তা আর গর্ত আলাদা করা যায় না। প্রতিদিন মানুষ পড়ে যাচ্ছে, যানবাহন আটকে যাচ্ছে। এতে ব্যবসা-বাণিজ্যও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।’

পল্লী চিকিৎসক শামসুল ইসলাম তারেক বলেন, ‘মাত্র ২৬০ মিটার রাস্তার জন্য পুরো এলাকার মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন। রোগী, গর্ভবতী নারী, শিশু ও বয়স্করা সবচেয়ে বেশি কষ্ট পাচ্ছেন। অনেক সময় অ্যাম্বুলেন্সও এ পথ এড়িয়ে বিকল্প সড়ক ব্যবহার করতে বাধ্য হয়।’ কারখানা শ্রমিক রুবেল মিয়া বলেন, ‘প্রতিদিন জীবন হাতে নিয়ে কাজে যেতে হয়। রাস্তার গর্ত ও ফেলে রাখা নির্মাণসামগ্রীর কারণে সব সময় দুর্ঘটনার ভয় থাকে।’

অটোরিকশাচালক আব্দুল কাদের বলেন, ‘এই রাস্তা দিয়ে গাড়ি চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। যাত্রী কমে গেছে, গাড়িরও ক্ষতি হচ্ছে। ফলে আয়-রোজগার অনেক কমে গেছে।’ স্থানীয়দের অভিযোগ, কয়েক সপ্তাহ আগেও অল্পসংখ্যক শ্রমিককে কাজ করতে দেখা গেলেও বর্তমানে পুরোপুরি কাজ বন্ধ রয়েছে। নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার পরও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট কাউকে এলাকায় দেখা যাচ্ছে না। এতে এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।

এদিকে ক্ষোভের প্রতীক হিসেবে সোমবার দুপুরে সড়কের অসমাপ্ত অংশে ধানগাছ রোপণ করেন এলাকাবাসী। তাঁদের ভাষ্য, সড়কের ওপর দীর্ঘদিন ধরে পানি-কাদা জমে থাকায় এখন সেখানে ধান চাষের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করতেই এই প্রতীকী প্রতিবাদ। শ্রীপুর উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, নয়নপুর বাজার থেকে সিসি ডিবি মোড় পর্যন্ত প্রায় ৬ কিলোমিটার সড়ক সংস্কারের কাজ বাস্তবায়ন করছে শাম্মী এন্টারপ্রাইজ। প্রকল্পটির ব্যয় প্রায় ৪ কোটি ৯ লাখ টাকা। প্রকল্পের আওতায় নয়নপুর বাজারসংলগ্ন প্রায় ২৬০ মিটার অংশে আরসিসি ঢালাই নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা থাকলেও সেই সময়সীমা ইতোমধ্যে অতিক্রম করেছে।

শ্রীপুর উপজেলা প্রকৌশলী তৌহিদ হাসান বলেন, ‘ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতির কারণেই কাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ হয়নি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী ঠিকাদারের বিরুদ্ধে আর্থিক জরিমানাসহ প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রয়োজনে বর্তমান কার্যাদেশ বাতিল করে পুনরায় দরপত্র আহ্বানের মাধ্যমে অবশিষ্ট কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা হবে। জনদুর্ভোগের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’ তবে এলাকাবাসীর দাবি, প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি দ্রুত সড়কের অসমাপ্ত অংশের কাজ শুরু করে চলাচলের উপযোগী করতে হবে। গুরুত্বপূর্ণ এই আঞ্চলিক সড়কের দুর্ভোগ থেকে দ্রুত মুক্তি চান তাঁরা।