সৈয়দপুর (নীলফামারী) সংবাদদাতা : নীলফামারীর সৈয়দপুরে ঈদ উপলক্ষে হতদরিদ্র দুস্থ অসহায় নিঃস্ব মানুষদের জন্য সরকারি বরাদ্দ ভিজিএফ এর চাল বিতরণে চরম অনিয়ম করা হচ্ছে। অসচ্ছলদের বঞ্চিত করে তাদের হক কেড়ে নিয়ে সচ্ছলদের দেওয়াসহ স্লিপ বিতরণে বৈষম্য করা হয়েছে। সেই সাথে ওজনে কম দিয়ে ও স্লিপ বিক্রি করার মাধ্যমে চাল আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠেছে। এসব বিষয়ে প্রশাসনকে জানানো হলেও কোন ব্যবস্থা না নেওয়ায় জনমনে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) দুপুরে সরেজমিনে উপজেলার বাঙালীপুর ইউনিয়নের শিবের হাটে গেলে দেখা যায়, সেখানে একটি দোকানে ডিজিটাল স্কেল পাল্লায় কয়েকজন ভিজিএফ এর চাল পরিমাপ করছেন। এসময় দুইজনের ৮ কেজি, একজনের ৮ কেজি ৮০০ গ্রাম ও একজনের ৯ কেজি চাল পাওয়া যায়। তারা সবাই ৮ নং ওয়ার্ডের জেলেপাড়ার বাসিন্দা। তাদের মধ্যে মনিবালা (৩৮), শান্তি রানী (৪৬), রমেশ্বর (৫৬) বলেন, ১০ কেজির জায়গায় এভাবে কম দিয়ে চাল আত্মসাৎ করছেন চেয়ারম্যান মেম্বাররা।

এসময় আলতাফ নামের একজন বলেন, ৮ নং ওয়ার্ডের মেম্বার স্বপন রায় স্লিপ বিতরণে ব্যাপক বৈষম্য করেছেন। এই ওয়ার্ডে প্রায় ৪ শ' পরিবার মুসলিম এবং ১ হাজার ৬ শ' পরিবার হিন্দু। মেম্বার অধিকাংশ হিন্দু পরিবারকে স্লিপ দিলেও রেসিও অনুযায়ী মুসলিমদের কম দিয়েছেন। অথচ মুসলমানদের ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষেই এই খাদ্য সহায়তা দেয় সরকার। অন্যান্য সুযোগ সুবিধার ক্ষেত্রেও তিনি সিংহভাগ মুসলিমদের বঞ্চিত করেন।

একই অভিযোগ করেন ওই ওয়ার্ডের ফকির পাড়ার লুৎফর রহমান। তিনি বলেন, আজ সকালে কাল বৈশাখীর তান্ডবে আমার বাড়ির গাছগুলো ভেঙে ঘরের চালের উপর পড়ে সবগুলো ঘর ধ্বংস হয়ে মাটিতে মিশে গেছে। আমরা কোন রকমে জীবন নিয়ে অন্যের বাড়িতে ঠাই নিয়ে রক্ষা পেয়েছি। মেম্বারকে মোবাইল করা হলে তিনি বলেন, আমার কিছুই করার নাই। কখনো ভিজিএফ এর স্লিপ বা অন্য কোন সুবিধা আমাদের দেওয়া হয়না।

অভিযোগের প্রেক্ষিতে ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে গেলে দেখা যায়, ট্যাগ অফিসারের অনুপস্থিতিতে চাল দেওয়া হচ্ছে। বস্তা থেকে বের করা খোলা চাল কোন পাল্লা বা ডিজিটাল স্কেল দিয়ে না মেপেই বালতি দিয়ে অনুমান করে তুলে দেওয়া হচ্ছে। এক্ষেত্রে চাল কম দেওয়ার আশঙ্কা থেকেই যায়।