গাজীপুর মহানগরবাসীর দীর্ঘদিনের যানজট ও রেলক্রসিং দুর্ভোগ নিরসনে ৩১৭ কোটি টাকা ব্যয়ে শহরের জয়দেবপুর রেলগেটের ওপর একটি ফ্লাইওভার নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছেন গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. শওকত হোসেন সরকার। তিনি জানান, আগামী মাস থেকেই প্রকল্পটির নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই লেভেল ক্রসিংটিতে প্রতিদিন প্রায় ৭০-৭২ বার ট্রেন চলাচল করে।
শনিবার গাজীপুর পিটিআই অডিটোরিয়ামে গাজীপুর সিটি কলেজের ২০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী, এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় ও দোয়া অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ ঘোষণা দেন।
প্রশাসক বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে গাজীপুরকে আধুনিক, পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশবান্ধব নগরীতে রূপান্তরের লক্ষ্যে একাধিক মেগা উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে ঢাকা-গাজীপুর বিআরটি প্রকল্প সিটি কর্পোরেশনের আওতায় হস্তান্তরের জন্য মন্ত্রণালয়ের প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।
তিনি আরও জানান, নগরীর সৌন্দর্য বৃদ্ধি ও বিনোদনের সুযোগ সম্প্রসারণে ভাওয়াল রাজদীঘি, কাজী আজিমউদ্দিন কলেজ সংলগ্ন দিঘি, গাজীপুর ক্লাবের পূর্ব পাশের পুকুর এবং শিববাড়ি পুকুরের আধুনিকায়ন ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ শিগগিরই শুরু হবে। পাশাপাশি কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট থেকে শিববাড়ি পর্যন্ত সড়কের দক্ষিণ পাশের খালি জায়গায় একটি আধুনিক শিশু পার্ক নির্মাণ করা হবে।
বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধানে হাটুভাঙ্গা ও মজলিশপুর এলাকায় প্রায় ১০০ বিঘা জমির ওপর আধুনিক ডাম্পিং স্টেশন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চীনের প্রযুক্তিগত সহযোগিতায় বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন, জৈব সার তৈরি এবং প্লাস্টিক, কাচ ও পলিথিন পুনর্ব্যবহারের মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব শিল্প গড়ে তোলা হবে। এছাড়া নদী, খাল ও জলাশয় দূষণ রোধে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে প্রণীত নীতিমালার আলোকে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে প্রশাসক বলেন, 'তোমরাই আগামীর বাংলাদেশ। অধ্যবসায়, সততা ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজেদের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। গাজীপুর সিটি কলেজের শিক্ষার্থীরা অতীতেও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সাফল্যের স্বাক্ষর রেখেছে। তোমরাও দেশ ও জাতির কল্যাণে অবদান রেখে গাজীপুরের গর্বে পরিণত হবে-এটাই আমার প্রত্যাশা।'
অনুষ্ঠানে গাজীপুর সিটি কলেজের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অধ্যাপক আনোয়ার শাহাদাতের সভাপতিত্বে এবং কলেজের নির্বাহী কমিটির সভাপতি মো. শফিকুল ইসলাম ও উপাধ্যক্ষ সোহরাব হোসাইনের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন আব্দুল মালেক সরকার, অ্যাডভোকেট খন্দকার আমিনুল হক টুটুল, কৃতি সাবেক শিক্ষার্থী মো. হামিদুল হক ও মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম।
এ সময় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক, বীর মুক্তিযোদ্ধা, সাংবাদিক, সুধীজন, শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানের শেষে প্রধান অতিথিকে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। এছাড়া কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও সম্মাননা ক্রেস্ট বিতরণ এবং এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের সফলতা কামনায় বিশেষ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।