কুষ্টিয়া সদর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমীর হামজা বলেছেন, "প্রবাসে আমাদের দেশের মানুষ প্রায়ই মারা যাচ্ছে। তাদের লাশ দেশে আনতে চরম বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে। সরকারি তহবিলে কোনো ফান্ড না থাকায় ব্যক্তিগতভাবে খরচ করে সেই লাশ দেশে আনতে হচ্ছে। একটি লাশ আনতে প্রায় ২০-২৫ লাখ টাকা লেগে যাচ্ছে। আজকে যে ব্যক্তির জানাজা পড়া হচ্ছে, এই কফিন আনতে ২৫ লাখ টাকা চেয়েছিল। রাশিয়ার দূতাবাস ও সরকারের সহযোগিতায় পরে তা ৮ লাখ টাকায় আনা হয়েছে। গরিব মানুষ তারা এত টাকা পাবে কোথায়? এটি মরার উপর খাঁড়ার ঘা। প্রবাসীদের লাশ দেশে আনতে সরকার কোনো বাজেট না দেওয়ায় চরম বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে। আমরা বিরোধী দলে থাকায় আমাদের এসব কাজে চরম অসুবিধা হচ্ছে।"
কুষ্টিয়া সদর উপজেলার আইলচারা ইউনিয়নের সওড়াতলায় রাশিয়ায় নিহত শিক্ষার্থী খালেকুজ্জামান অনিকের জানাজায় তিনি এসব কথা বলেন। রোববার দুপুরে রাশিয়া থেকে অনিকের লাশ দেশে আসলে বাদ জোহর সওড়াতলা মসজিদ সংলগ্ন মাঠে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
জানাজাপূর্ব সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন কুষ্টিয়া সদর আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমীর হামজা, মুফতি আলী হোসাইন ফারুকী, হাফেজ দেলোয়ার হোসেনসহ অন্যান্য ওলামাগণ। জানাজা শেষে মসজিদ সংলগ্ন গোরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
বুক ভরা আশা নিয়ে রাশিয়ায় পড়তে গিয়েছিলেন কুষ্টিয়া সদর উপজেলার আইলচারা ইউনিয়নের সওড়াতলার মেধাবী শিক্ষার্থী খালেকুজ্জামান অনিক (২৭)। তিনি রাশিয়ার সাউথ ইউরাল স্টেট ইউনিভার্সিটির (South Ural State University, Chelyabinsk, Russia) শিক্ষার্থী ছিলেন। তার পিতা মনোয়ার বিশ্বাস অনেক স্বপ্ন নিয়ে জমিজমা বিক্রি করে লেখাপড়া চালিয়ে আসছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সে স্বপ্ন ধূলিসাৎ হয়ে গেল।
গত দেড় মাস আগে তিনি রাশিয়ায় খুন হন। ৬ তলা বিল্ডিংয়ের উপর থেকে তাকে ফেলে দিয়ে হত্যা করে দুষ্কৃতকারীরা। এই হত্যাকাণ্ডের কোনো কারণ উদ্ঘাটনে ব্যর্থ হয় প্রশাসন। অবশেষে অনেক কষ্টে দেশে লাশ আনেন নিহত অনিকের পরিবার।
অনিক ছোটবেলায় খোর্দ্দ আইলচারা দাখিল মাদ্রাসায় ৫ম শ্রেণী পর্যন্ত লেখাপড়া করেন। পরে পোড়াদহ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে মেধার সাথে এসএসসি পাস করেন। এরপর কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করে রাশিয়ায় পড়াশোনা করতে যান।
তারা দুই ভাইয়ের মধ্যে তিনি ছোট। তার পিতা একজন কৃষক। এলাকায় ছোট-বড় সকলের মাঝে তার ব্যাপক সুনাম রয়েছে।
আততায়ীর আক্রমণে অকালেই অনিক চলে গেলেন পরপারে। সোনার সন্তান অনিক দেশে ফিরবেন, যুবকদের জন্য অনেক প্রেরণা ও উৎসাহের হাদিয়া নিয়ে আসবেন—এমনটাই আশা ছিল। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, তিনি আজ বাড়িতে এসেছেন কফিনে মুড়িয়ে। বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। এলাকার মানুষ শোকে স্তব্ধ। এলাকাবাসী একজন প্রতিভাবান উদীয়মান যুবককে হারালেন।