চকরিয়া ও পেকুয়ায় সপ্তাহজুড়ে প্রবল বর্ষণে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা, বেড়িবাঁধ, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা পরিদর্শন এবং পানিবন্দি ও স্বজনহারা পরিবারের খোঁজ খবর নিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
শনিবার (১১ জুলাই) সকাল দশটা থেকে শুরু করে বিকাল চারটা পর্যন্ত দিনভর এ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। এতে নেতৃত্ব দেন কক্সবাজার জেলা জামায়াতের আমীর নুর আহমদ আনোয়ারী ও সদ্য সমাপ্ত জাতীয় নির্বাচনের এমপি প্রার্থী কক্সবাজার শহর জামায়াতের আমীর আবদুল্লাহ আল ফারুক। মানবিক এ কার্যক্রমের অংশগ্রহণ করেন জেলা-উপজেলার শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।
শনিবার সকাল দশটায় চকরিয়ার সুরাজপুর-মানিকপুর ইউনিয়নের জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে ৮নং ও ৯নং ওয়ার্ড বন্যা দুর্গত মানুষের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে এ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন কক্সবাজার জেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা নুর আহমদ আনোয়ারী।
তিনি বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে দুর্গত অসহায় মানুষগুলোর পাশে দাঁড়ানো উচিত ছিল সরকারের। এটি তাদেরই দায়িত্ব। তিনি বলেন, এখনও পর্যন্ত সরকারের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত ত্রাণ সহায়তা নিয়ে দৃশ্যমান কার্যক্রম পরিলক্ষিত হয়নি। তিনি অনতিবিলম্বে পর্যাপ্ত ত্রাণ সামগ্রী নিয়ে দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে সরকারের প্রতি উদাত্ত আহবান জানান।
তিনি আরো বলেন, জামায়াতে ইসলামী মানবতার সংগঠন। যেখানে মানবতা বিপন্ন হচ্ছে সেখানে জামায়াতে ইসলামী সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় পানিবন্দি বন্যা দুর্গত মানুষের কিছুটা কষ্ট লাঘব করতে জামায়াতে ইসলামী যত সামান্য উপহার নিয়ে আপনাদের পাশে দাঁড়িয়েছে। তিনি এভাবে সমাজের বিত্তবানদেরও বানভাসি পরিবারের সহায়তায় এগিয়ে আসার আহবান জানান।
ত্রাণ বিতরণকালে বিশেষ অতিথি ছিলেন সদ্য সমাপ্ত জাতীয় নির্বাচনের এমপি প্রার্থী কক্সবাজার শহর জামায়াতের আমীর আবদুল্লাহ আল ফারুক। এসময় চকরিয়া উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা আবুল বাশার, সাবেক নায়েবে আমীর মাস্টার মোহাম্মদ মুছাসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সেখান থেকে সকাল এগারোটায় জেলা আমীর নুর আহমদ আনোয়ারী ও শহর আমীর আবদুল্লাহ আল ফারুক উপজেলার কাকারা ইউনিয়নের মাইজপাড়া গ্রামে বসতঘরে ঢুকে পড়া বন্যার পানিতে পড়ে মারা যাওয়া দেড় বছর বয়সী শিশুর পিতা ওয়াকিম সোলতান আহমদ ও মাতাকে সমবেদনা জানাতে ছুটে যান। নেতৃবৃন্দ তাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং মানবিক সহায়তা প্রদান করেন।
সকাল সাড়ে এগারোটায় ছুটে যান চকরিয়ার হারবাং ইউনিয়নের কালাসিকদারপাড়া গ্রামে। সেখান বন্যা দুর্গত সহস্রাধিক মানুষের মাঝে রান্না করা খাবার বিতরণ কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেন। পরে ভাঙনের কবলে পড়া হারবাং ইউনিয়নের নোয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং সংলগ্ন বিধ্বস্ত সড়কটি পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শন শেষে উপজেলার বরইতলী রসুলাবাদ গ্রামের আশ্রয় কেন্দ্রে ফেরার পথে নৌকা ডুবির ঘটনায় (শুক্রবার) কিশোরী হাসনাতুল জান্নাত ঝর্নাসহ দুই বোন নিহতের পরিবারে সমবেদনা জানান এবং মানবিক সহায়তা প্রদান করেন জামায়াত নেতৃবৃন্দ।
এসব কার্যক্রমে জেলা আমীর নুর আহমদ আনোয়ারী ও জননেতা আবদুল্লাহ আল ফারুকসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতের সাংগঠনিক সেক্রেটারি মুহাম্মদ হেদায়েত উল্লাহ, চকরিয়া উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা আবুল বাশার, হারবাং সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান জহির উদ্দিন আহমদ বাবর, বরইতলী ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সালেকুজ্জামান, জামায়াত নেতা সিরাজুল ইসলাম, শেখ আহমদ প্রমুখ।
এরপর দুপুর সাড়ে বারোটায় পেকুয়া উপজেলার বিধ্বস্ত উত্তর মেহেরনামা বেড়িবাঁধ পরিদর্শন করেন এবং সেখানে জামায়াতে ইসলামীর ব্যবস্থাপনায় পানিবন্দি মানুষের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণের উদ্বোধন করেন। এতে জেলা আমীর নুর আহমদ আনোয়ারী ও জননেতা আবদুল্লাহ আল ফারুক ছাড়া অংশ নেন জেলা জামায়াতের সাংগঠনিক সেক্রেটারি মুহাম্মদ হেদায়েত উল্লাহ, পেকুয়া উপজেলা আমীর মাওলানা ইমতিয়াজ উদ্দিন, পেকুয়া উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান নুরুজ্জামান মনজুসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
সর্বশেষ বিকাল চারটায় চকরিয়া পৌরসভা জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে আমানপাড়ায় পানিবন্দি মানুষের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন জামায়াত নেতৃবৃন্দ। চকরিয়া পৌরসভা জামায়াতের আমীর মো. আরিফুল কবিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান ও বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা নুর আহমদ আনোয়ারী ও সদ্য সমাপ্ত জাতীয় নির্বাচনের এমপি প্রার্থী শহর জামায়াতের আমীর আবদুল্লাহ আল ফারুক। এসময় জেলা জামায়াতের সাংগঠনিক সেক্রেটারি মুহাম্মদ হেদায়েত উল্লাহ, চকরিয়া পৌরসভা জামায়াতের নায়েবে আমীর ফখরুল ইসলামসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।