কেশবপুর (যশোর) সংবাদদাতা : ইসলামিক ফাউন্ডেশন পরিচালিত মসজিদ ভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম (মউশিক) প্রকল্পের শিক্ষক-শিক্ষিকাসহ সকল জনবলকে রাজস্ব খাতে স্থানান্তরসহ ৫ দফা দাবিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মরকলিপি প্রদান করা হয়েছে। এ উপলক্ষে যশোরের কেশবপুর মউশিক শিক্ষক কল্যাণ পরিষদের উদ্যোগে কেশবপুর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করা হয়।
মউশিক কেশবপুর শাখার সভাপতি আব্দুল আজিজ লিখিত বক্তব্য পাঠাকালে বলেন, ১৯৯৩ সালে নিরক্ষরতা দূরীকরণের লক্ষ্যে ইসলামিক ফাউন্ডেশন পরিচালিত মসজিদ ভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম (মউশিক) প্রকল্প চালু করা হয়। বর্তমান প্রকল্পটি ৮ম পর্যায়ে পদার্পণ করেছে। সর্বশেষ ৭ম পর্যায়ে প্রকল্পটি সারাদেশে ১ কোটি ২১ লাখ ৫১ হাজার শিশু শিক্ষার্থীকে প্রাক-প্রাথমিক ও সহজ কুরআন শিক্ষা প্রদান করা হয়েছে। বর্তমান সারাদেশে এই প্রকল্পে ৭১ হাজার ৯৪৯ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা ও কর্মচারী রয়েছেন। মউশিক শিক্ষকরা শুধু পাঠাদানের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে সরকারি তহবিলে জাকাত সংগ্রহ, মাদক, বাল্য বিয়ে, সন্ত্রাস ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সচেতনতা বৃদ্ধিসহ শিশুদের টিকাদান কর্মসূচী বাস্তবায়নে কাজ করছে। এতকিছুর পরও ওই প্রকল্পের শিক্ষক, কর্মচারীরা বেতন-ভাতা না পেয়ে বর্তমানে মানবেতর জীবনযাপণ করছেন।
সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত দাবিগুলোর মধ্যে, জাতীয় শিক্ষা ধারায় অবদান রাখার জন্যে এই বৃহৎ প্রকল্পের সকল শিক্ষক, শিক্ষিকাসহ কর্মচারীদের রাজস্ব খাতে স্থানান্তর, সকল জনবলকে সরকারি গ্রেড অনুযায়ী নিয়মিত বেতন-ভাতা প্রদান এবং চাকরী স্থায়ীকরণ। সংবাদ সম্মেলন থেকে সারাদেশের লাখো শিক্ষকের ভাগ্যোন্নয়নে প্রধানমন্ত্রীর মানবিক ও সহানুভূতিশীল দৃষ্টিভঙ্গি থেকে এই প্রকল্পের বঞ্চনার অবসান ঘটিয়ে দ্রুত একটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত গ্রহণের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।