খুলনা ব্যুরো
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, অর্থনৈতিক মন্দা, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, চাঁদাবাজি, খুন, শিশু ধর্ষণ ও আইনশৃঙ্খলার অবনতির কারণে সরকার জনগণের আস্থা হারাচ্ছে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক সংকট নিরসনে সরকারকে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। তিনি বলেন, দুই-তিন মাস যেতেই পারে নাই, মন্ত্রীরা কোথাও গেলেই ‘ভুয়া, ভুয়া’ স্লোগান শুনতে হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী, আইনমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যেখানেই যাচ্ছেন, সাধারণ মানুষ প্রতিবাদ জানাচ্ছে। এটা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে নজিরবিহীন। তিনি আরও বলেন, জনগণের রায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার কারণেই সরকারের প্রতি মানুষের আস্থা কমে যাচ্ছে। সরকারকে এ অবস্থা থেকে শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, অর্থনৈতিক লুটপাট বন্ধ করতে হবে। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে। দলীয় দৃষ্টিভঙ্গি বাদ দিয়ে জনগণের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। ৩০ মে সকাল ৯ টায় ডুমুরিয়া উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে ডুমুরিয়া উপজেলার খর্ণিয়ার টিপনা মাদরাসার অডিটোরিয়ামে ঈদ পুণর্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বক্তৃতায় তিনি এ সব কথা করেন।
উপজেলা আমীর ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মাওলানা মোক্তার হোসেনের সভাপতিত্বে ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি আব্দুর রশীদ বিশ্বাসের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা জেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা এমরান হুসাইন, সেক্রেটারি মুন্সি মিজানুর রহমান, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য ও ডুমুরিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী এডভোকেট আবু ইউসুফ মোল্যা, খুলনা-১ এর সংসদ সদস্য প্রার্থী বাবু কৃষ্ণ নন্দী। এতে অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন ডুমুরিয়া উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর গাজী মো. সাইফুল্লাহ ও মাওলানা হাবিবুর রহমান, উপজেলা শূরা ও কর্মপরিষদ মাওলানা ফরহাদ আল মাহমুদ, মাওলানা হাফিজুর রহমান, মাওলানা শফিকুর রহমান, উপজেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি মাওলানা সাইদুল্লাহ হোসাইন, উপজেলা যুব বিভাগের সভাপতি বি এম আলমগীর হোসাইন, মো. আমান উল্লাহ আমান, ডুমুরিয়া সদর থানা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মেহেদী হাসান, রঘুনাথপুর ইউনিয়ন আমীর শেখ বিল্লাহ হোসেন, রুদাঘরা ইউনিয়ন আমীর মাওলানা মোস্তফা কামাল, খর্ণিয়া ইউনিয়ন আমীর ও চেয়ারম্যান প্রার্থী শেখ আবুল হোসেন, আটলিয়া ইউনিয়ন সভাপতি মাওলানা মতিয়ার রহমান, মাগুরাঘোনা ইউনিয়ন আমীর ও চেয়ারম্যান প্রার্থী মাওলানা আব্দুল হালিম, শোভনা ইউনিয়ন সভাপতি মোসলেম উদ্দিন, শরাফপুর ইউনিয়ন সভাপতি আব্দুল হাকিম, ভান্ডারপাড়া ইউনিয়ন আমীর মাওলানা কামরুজ্জামান, ডুমুরিয়া ইউনিয়ন আমীর আব্দুল গণি খান, রংপুর ইউনিয়ন সভাপতি মাওলানা আব্দুল মান্নান, গুটুদিয়া ইউনিয়ন সভাপতি মাওলানা আব্দুর রশীদ আল আজাদ, রুদাঘরা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান প্রার্থী মাওলানা কামারুজ্জামান, শরাফপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান প্রার্থী মঞ্জুরুল ইসলাম, ভান্ডারপাড়া চেয়ারম্যান প্রার্থী আব্দুল মান্নান সরদার, ডুমুরিয়া ইউনিয়ন চেয়ারম্যান প্রার্থী আব্দুল কাদের, মাওলানা মোস্তফা কামাল প্রমুখ।
এর আগে ঈদ উল আযহার পরের দিন ২৯ মে (শুক্রবার) সকাল ৯টায় ফুলতলা জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে শিরোমনি খানজাহান আলী আদর্শ মহাবিদ্যালয় অডিটোরিয়ামে ঈদ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন মিয়া গোলাম পরওয়ার। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন খানজাহান আলী থানা আমীর ও ফুলতলা উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী সৈয়দ হাসান মাহমুদ টিটো। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা জেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা এমরান হুসাইন ও জেলা সেক্রেটারি মুন্সি মিজানুর রহমান। এ সময় খুলনা জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক মিয়া গোলাম কুদ্দুস, সহকারী সেক্রেটারি ফুলতলা উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী গাউসুল আযম হাদী, ফুলতলা উপজেলা আমীর অধ্যাপক আব্দুল আলীম মোল্লা, সেক্রেটারি সাইফুল ইসলাম, খানজাহান আলী থানা সেক্রেটারি গাজী মুর্শেদ মামুন প্রমুখ।
রাজনৈতিক সংকট নিরসনে সংবিধান সংস্কার পরিষদের বৈঠক ডাকার আহ্বান জানিয়ে জামায়াতের এই সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাবের বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছে। গণভোটে যেসব বিষয়ে জনগণ মতামত দিয়েছে, সেগুলো সংবিধানের তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করা হলে চলমান সংকট অনেকটাই নিরসন হতে পারে। তিনি বলেন, সরকারের সামনে এখনও সময় আছে। চাইলে তারা বাজেট অধিবেশন শুরুর আগেই উদ্যোগ নিতে পারে। সংসদকেই সব রাজনৈতিক আলোচনা ও সমাধানের কেন্দ্রবিন্দু বানাতে হবে। রাজপথে সংঘাতমুখী পরিস্থিতি তৈরি করা সমীচীন হবে না।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জামায়াতে ইসলামী গঠনমূলক ও দায়িত্বশীল বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করতে চায়। আমরা আগের মতো জ্বালাও-পোড়াও, ভাঙচুর, হরতালের রাজনীতিতে ফিরতে চাই না। ভালো কাজে সহযোগিতা করব, খারাপ কাজে প্রতিবাদ করব।
অর্থনৈতিক পরিস্থিতির অবনতির চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশে মূল্যস্ফীতি ও মুদ্রাস্ফীতি ক্রমাগত বাড়ছে। ঈদ উল ফিতর ও ঈদ উল আযহাকে কেন্দ্র করে সড়ক দুর্ঘটনা, খুন, অপহরণ ও শিশু ধর্ষণের মতো লোমহর্ষক ঘটনায় মানুষ আতঙ্কিত ও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন, সরকার বিভিন্ন এলাকায় ত্রাণ বিতরণ, কার্ড কার্যক্রম ও উন্নয়ন প্রকল্পের নামে দলীয়করণ করছে। শুরুতেই ভাগ-বাটোয়ারা, নিজেদের মধ্যে হানাহানি, মারামারি ও লুটপাট শুরু হয়ে গেছে।
প্রশাসনে দলীয় প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ এনে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, বদলি, পোস্টিং, ওএসডির মাধ্যমে প্রশাসনকে একদলীয়করণের চেষ্টা চলছে। সচিবালয় থেকে উপজেলা প্রশাসন পর্যন্ত ব্যাপক রদবদল হচ্ছে। এটা অতীতের ফ্যাসিবাদী শাসনের মতো পরিস্থিতির সৃষ্টি করছে।
তিনি আরও বলেন, যে ব্যক্তি সৎ, ঘুষ খায় না, নামাজ পড়ে তাকেও সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে শুধু রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে। এটা প্রশাসনিক নিরপেক্ষতার জন্য অশনি সংকেত।
দেশের বর্তমান পরিস্থিতিকে বহুমাত্রিক সংকট হিসেবে উল্লেখ করে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, রাজনৈতিক, প্রশাসনিক, বিচারিক ও অর্থনৈতিক সব ক্ষেত্রেই অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। ঈদ উল আযহার এই সময়েও মানুষ উদ্বেগের মধ্যে দিন পার করছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, এই সংকট সরকারই সৃষ্টি করেছে। তাই সংকট নিরসনের দায়িত্বও সরকারের। তবে দেশের কল্যাণে যেকোনো ইতিবাচক উদ্যোগে জামায়াতে ইসলামী সহযোগিতা করতে প্রস্তুত রয়েছে।