প্রাচীর ঘেঁষে অ্যালুমিনিয়াম কারখানার শব্দ দূষণসহ নানান সমস্যায় জর্জরিত কুষ্টিয়ার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কুষ্টিয়ার আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। দীর্ঘদিন ধরে অবকাঠামোগত নানা সমস্যার কারণে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ। বিদ্যালয়টিতে জরুরি ভিত্তিতে নতুন ভবন নির্মাণ, সীমানা প্রাচীর নির্মাণ এবং স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নয়নের দাবি জানিয়েছেন অভিভাবক, শিক্ষক ও স্থানীয়রা।
জানা যায়, কুষ্টিয়ার শহরে কাটাইখানা মোড় এলাকায় ১৯৮০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিদ্যালয়। বিদ্যালয়টি এলাকায় প্রাথমিক শিক্ষার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসলেও বর্তমানে বিদ্যালয়ের ভবনটি জরাজীর্ণ ও ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়লেও সেই তুলনায় শ্রেণিকক্ষ না থাকায় পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
এছাড়াও বিদ্যালয়ের পাশেই একটি সমবায় সমিতির জায়গায় অ্যালুমিনিয়ামের কারখানা পরিচালিত হচ্ছে। কারখানায় প্রতিনিয়ত শব্দ ও বিভিন্ন কার্যক্রম চলমান থাকায় শিক্ষার্থীদের পাঠদানে বিঘ্ন ঘটছে। বিদ্যালয়ে কোনো সীমানা প্রাচীর না থাকায় শিক্ষার্থীরা সহজেই কারখানার কার্যক্রম দেখার কারণে অনেক সময় তারা পাঠে অমনোযোগী হয়ে পড়ে বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষক ও অভিভাবকরা।
অভিভাবকদের অভিযোগ, বিদ্যালয়ের বাথরুমের পানির সঠিক নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টির পানি জমে থাকে। ফলে পরিবেশ নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি স্বাস্থ্যঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে বর্ষাকালে এ সমস্যা আরও প্রকট আকার ধারণ করে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, "শিক্ষার্থীদের নিরাপদ ও মনোরম পরিবেশে শিক্ষা নিশ্চিত করতে দ্রুত একটি
নতুন একাডেমিক ভবন, সীমানা প্রাচীর এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থা নির্মাণ অত্যন্ত জরুরি।
"এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী। তাদের দাবি, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও শিক্ষার মান উন্নয়নের স্বার্থে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক।
এ বিষয়ে কুষ্টিয়া জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ মফিজুল ইসলাম জানান, নতুন ভবন নির্মাণের জন্য একটি প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। এতদিন ধরে যে প্রকল্প গুলোর কাজ চলমান ছিল সেগুলো ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হয়ে যাবে। সামনে একটি নতুন প্রকল্প আসবে এর জন্য বিদ্যালয়ে যাবতীয় তথ্য ফিলাপ করে আমরা পাঠিয়েছি আর বিদ্যালয়ের পিছনে যে কারখানার বিষয়টি বলছেন সেটি সমবায় সমিতির জায়গা। এখানে একটি অ্যালুমিনিয়ামের কারখানা করেছে।
এই বিষয়ে আমার প্রতিনিধি, ডিসি অফিসের প্রতিনিধি ও পৌরসভার প্রতিনিধি তদন্ত করে একটি প্রতিবেদন ডিসি অফিসে পাঠিয়েছেন।
এ বিষয়ে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ তৌহিদ বিন-হাসান বলেন, বিদ্যালয়ের পেছনে কারখানাটির বিষয়ে আমার উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) কে তদন্ত করার জন্য দেওয়া হয়েছে ভালোভাবে তদন্ত শেষ হলে আমরা পরবর্তী ব্যবস্থা নেব।
এদিকে বিদ্যালয়টিতে শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে ও প্রতিষ্ঠানের সকলের জান মাল হেফাজতে কর্তৃপক্ষ জরুরী ভিত্তিতে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন এ দাবী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের।