গাজীপুর মহানগরে এসএসসি, দাখিল ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ ও এ+ অর্জনকারী কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। কৃতি শিক্ষার্থীদের সাফল্যকে স্বীকৃতি দেওয়া এবং তাদের ভবিষ্যৎ পথচলায় উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা জোগাতে বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) মহানগরের পিটিআই অডিটোরিয়ামে ‘এ+ সংবর্ধনা ২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম। গাজীপুর মহানগর ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইয়াছিন আরাফাতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক ছিলেন সংগঠনের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ও জাতীয় সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আইউবী।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, জিপিএ-৫ বা এ+ অর্জন জীবনের চূড়ান্ত সাফল্য নয়, বরং এটি জীবনের পরবর্তী বড় দায়িত্ব পালনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। শিক্ষার্থীদের অর্জিত মেধা ও জ্ঞান দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজে লাগাতে হবে। শুধু ভালো ফলাফল অর্জন নয়, নৈতিকতা, দেশপ্রেম, মানবিক মূল্যবোধ ও ইসলামী আদর্শে নিজেদের গড়ে তুলে আগামী দিনের যোগ্য নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য প্রস্তুত হতে হবে।
তিনি বলেন, একজন শিক্ষার্থীর প্রকৃত সাফল্য শুধু পরীক্ষার ফলাফলে সীমাবদ্ধ নয়। জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি সততা, দায়িত্ববোধ, শৃঙ্খলা ও মানুষের প্রতি ভালোবাসা অর্জন করতে পারলেই তারা সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য সম্পদে পরিণত হবে। কৃতি শিক্ষার্থীদের নিজেদের যোগ্যতা ও মেধাকে কাজে লাগিয়ে দেশ গঠনে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
প্রধান আলোচক সালাহউদ্দিন আইউবী শিক্ষার্থীদের সাফল্যের জন্য অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, আজকের মেধাবী শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। প্রচলিত সাফল্যের গণ্ডি পেরিয়ে জ্ঞান, সৃজনশীলতা ও মানবিক গুণাবলি বিকশিত করে নিজেদের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। দেশের মানুষের প্রত্যাশা পূরণে মেধাবী প্রজন্মকে প্রস্তুত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন তুরস্কের তোকাত গাজী উসমান পাশা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ড. হাফিজুর রহমান এবং বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক ও ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) এস এম ফরহাদ।
বিশেষ অতিথিরা শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা, জ্ঞানচর্চা ও দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি নৈতিক চরিত্র গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা বলেন, প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে টিকে থাকতে শিক্ষার্থীদের একদিকে আধুনিক জ্ঞান ও প্রযুক্তিতে দক্ষ হতে হবে, অন্যদিকে নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধকে ধারণ করতে হবে।
অনুষ্ঠানে কৃতি শিক্ষার্থীদের সাফল্যকে সম্মান জানিয়ে তাদের হাতে ক্রেস্ট ও বিশেষ উপহারসামগ্রী তুলে দেন আমন্ত্রিত অতিথিরা। সম্মাননা পেয়ে শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে আরও ভালো ফলাফল অর্জন এবং নিজেদের জ্ঞান ও দক্ষতাকে দেশ ও সমাজের কল্যাণে কাজে লাগানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে কৃতি শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবক ছাড়াও শিক্ষক, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং ছাত্রশিবিরের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। শিক্ষার্থীদের সাফল্য উদযাপনের পাশাপাশি তাদের ভবিষ্যৎ শিক্ষাজীবন ও দেশগঠনের দায়িত্ব সম্পর্কে উৎসাহিত করার মধ্য দিয়ে আয়োজনটি শেষ হয়।