শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও মানবতার কাঙ্ক্ষিত মুক্তি কোনো তন্ত্র-মন্ত্রের মাধ্যমে সম্ভব নয়, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর দেখানো আদর্শ ও পথ অনুসরণের মাধ্যমেই তা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. আতিকুর রহমান।

তিনি বলেন, 'বিশ্বব্যাপী আজ জাগরণ শুরু হয়েছে। শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং মানবতার কাঙ্ক্ষিত মুক্তির জন্য মহানবী (সা.)-এর আদর্শ ও দেখানো পথ অনুসরণ করতে হবে।'

বৃহস্পতিবার রাতে গাজীপুর মহানগরের চান্দনা চৌরাস্তার ঈদগাহ ময়দানে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন গাজীপুর মহানগরের উদ্যোগে সিরাতুন্নবী (সা.) উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত সাংস্কৃতিক সন্ধ্যায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অ্যাডভোকেট মো. আতিকুর রহমান বলেন, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনাদর্শে মানবতার কল্যাণ, ন্যায়বিচার, সাম্য ও অধিকার প্রতিষ্ঠার সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা রয়েছে। শ্রমিকসহ সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় তাঁর আদর্শ অনুসরণ করা প্রয়োজন। শোষণ, বৈষম্য ও অন্যায় থেকে মানবতার মুক্তির জন্য মহানবী (সা.)-এর দেখানো পথই অনুসরণ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, শ্রমজীবী মানুষের অধিকার রক্ষা এবং তাদের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজের গুরুত্বপূর্ণ শর্ত। মহানবী (সা.) শ্রমজীবী মানুষের প্রতি সম্মান ও ন্যায়সংগত আচরণের যে শিক্ষা দিয়েছেন, তা সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি মানবিক পরিবেশ গড়ে তোলা সম্ভব।

গাজীপুর মহানগর শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি মো. হোসেন আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মহানগর শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মো. জামাল উদ্দিন এবং শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি মো. কবির আহমেদ।

বিশেষ অতিথিরা মহানবী (সা.)-এর জীবন, আদর্শ ও কর্মময় জীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বলেন, ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে তাঁর আদর্শ অনুসরণ করলে ন্যায়, সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও শান্তি প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হবে। শ্রমজীবী মানুষের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও তাঁর আদর্শ গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দেয়।

সাংস্কৃতিক সন্ধ্যায় মহানবী (সা.)-এর জীবন, আদর্শ ও কর্মময় জীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। এ সময় ইসলামী সংগীতসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী, শ্রমিক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।