মাহমুদ শরীফ, কুমারখালী (কুষ্টিয়া) সংবাদদাতা

পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে সারাদেশে যখন উৎসবের আমেজ বইছে তখন কুষ্টিয়ায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের আওতাধীন জেলায় কর্মরত শিক্ষকের মাঝে চলছে তীব্র অসন্তোষ। দীর্ঘদিন ধরে অত্যন্ত স্বল্প বেতনে শিশুদের ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষা প্রদান করে আসা এই শিক্ষকদের শেষ ভরসা ছিল ঈদের বেতন ও উৎসব ভাতা। কিন্তু জেলা কর্মকর্তাদের চরম উদাসীনতায় তা এখন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। ভুক্তভোগীরা জানান, উপ-পরিচালকসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা হজ্জে গেছেন। হয় তো ফিরে এসেই ব্যবস্থা করবেন। আমরা যে বেতন পাই তা দিয়ে সংসার চালানোই কষ্টকর। ঈদের কেনাকাটা তো দূরের কথা। চাকরি হারানোর ভয়ে অনেক শিক্ষক ক্যামেরার সামনে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেনা। আড়ালে অনেকেই কেঁদেছেন।

তাদের অভিযোগ, দেশের অন্যান্য জেলায় শিক্ষকরা ঈদ ভাতা পেয়ে গেলেও কুষ্টিয়ায় উপ-পরিচালক ও ফিল্ড অফিসার একসঙ্গে সৌদি আরবে হজে চলে যাওয়ায় কোনো বিকল্প ব্যবস্থা করা হয়নি। ফলে মাঠপর্যায়ের এই অসহায় শিক্ষকরা চরম মানবিক সংকটে পড়েছেন। ভুক্তভোগী শিক্ষক আবু ইউসুফ বলেন, আমরা অর্থনৈতিক দুরবস্থায় আছি। ঈদের বাজার করতে পারছি না, প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রও কিনতে পারছি না।

চলতি দায়িত্বে থাকা ঝিনাইদহের ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপ পরিচালক মোহাম্মদ রেজাউল করিম স্বীকার করেছেন যে, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা ছুটিতে যাওয়ায় এবং কাউকে দায়িত্ব না দিয়ে যাওয়ায় বেতন পরিশোধ সম্ভব হয়নি। তিনি জানান, হজ থেকে ফিরে ১ বা ২ তারিখের মধ্যে সব বেতন-বোনাস পরিশোধ করা হবে। তিনি আরো বলেন, ইফার মসজিদ ভিত্তিক শিশু ও গনশিক্ষা শিক্ষা কর্মসূচিতে কুষ্টিয়া জেলায় ৯৫০ জন শিক্ষক আছেন। তারা মাসিক ৫ হাজার টাকা সম্মানী/বেতন পান। গত এপ্রিল ও মে মাসের বেতনও তাদের বকেয়া রয়েছে। শিশুদের হাতে ধর্মীয় শিক্ষার আলো তুলে দেয়া এই শিক্ষকরা এখন বেতন বোনাস না পেয়ে চরম হতাশায় ভুগছে। ঈদের কয়েক ঘণ্টা বাঁকি এখনো অনেক শিক্ষক উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দিকে তাকিয়ে আছেনÑশেষ মুহূর্তে হলেও যেন তাদের প্রাপ্য বেতন ও ভাতার ব্যবস্থা হয়।