জৈন্তাপুর (সিলেট) সংবাদদাতা : জৈন্তাপুর উপজেলার হরিপুর বাজারে আবারও দখলারদের দৌরাত্ম্য শুরু হয়েছে। সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের জায়গা এবং মহাসড়কের দু’পাশ দখল করে গড়ে তোলা হচ্ছে বিভিন্ন স্থাপনা। ৬ মাস আগে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সহায়তায় এসব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হলেও সাম্প্রতিক সময়ে পুরোনো দখলচক্র পুনরায় সক্রিয় হয়ে উঠেছে। এতে জনগুরুত্বপূর্ণ সিলেট-তামাবিল মহাসড়কের এই অংশে ফের বিশৃঙ্খলা ও তীব্র যানজটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, সিলেট-তামাবিল মহাসড়কের কাপনা ব্রীজ সংলগ্ন স্থান থেকে প্রায় ৫শত গজ উত্তর অংশে সড়কের দু’পাশের জায়গায় উৎসবমুখর পরিবেশে পাকা ঘর ও টিনশেডের অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে। এসব জায়গা ভরাট ও দখল বন্ধে সড়ক ও জনপথ বিভাগের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও তারা এর তোয়াক্কা করছেন না। নিজেদের ইচ্ছেমতো ভরাট করে স্থাপনা নির্মাণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন তারা। স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, উচ্ছেদ অভিযানটি ছিল অনেকটাই আনুষ্ঠানিক। অভিযান শেষ হওয়ার ৬ মাসের মধ্যেই আগের দখলদাররা পুনরায় নির্মাণকাজ শুরু করে। তাদের মতে, রাজনৈতিক আশ্রয়ের কারণেই এসব অবৈধ কার্যক্রম বারবার ফিরে আসে। যারা আগে দখল করে দোকানপাট নির্মাণ করেছিল তারাই আবার নতুন করে এখন দোকানপাট নির্মাণ করছে। এ বিষয়ে সরকার ব্যবস্থা নেবে। আমাদের বলার কিছু নেই।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, যানজট সমাধানের জন্য ৬ মাস আগে উপজেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর যৌথ পরিচালনায় অভিযান চালিয়ে হরিপুর বাজার এলাকার মহাসড়কের দুই পাশের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে। এতে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এলেও তা টেকসই হয়নি। সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে আবারও স্থানীয় দখলদার উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি আলাউদ্দিন এর ছত্রছায়ায় পুনরায় (সওজ) বিভাগের জমি দখল করে অবৈধ স্থাপনা নির্মানের প্রতিযোগীতা শুরু হয়েছে, এতে বাজারের অংশে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হচ্ছে, ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। প্রতিদিন জাফলংগামী পর্যটন বাহী দূরপাল্লার বাস সহ পণ্যবাহী সহশ্রাধিক যানবাহন এই সড়ক দিয়ে চলাচল করে থাকে। বিগত দিনে হরিপুর বাজার এলাকায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের ফলে বাজার অংশে যানজট ছিলোনা, বর্তমানে আবারও যদি অবৈধ স্থাপনা গড়ে উঠে তাহলে পুনরায় যানবাহন চলাচলে বিঘœ ঘটবে এবং দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হবে বলে মনে করছেন সড়কদিয়ে চলাচলকারি পর্যটক ও যাত্রী সাধারণ।