মাত্র ১২ ঘণ্টার টানা ও রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিতে যশোর শহরের বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল জলাবদ্ধতায় ডুবে গেছে। শুক্রবার (১০ জুলাই) ভোর থেকে শুরু হওয়া ভারী বর্ষণে শহরের প্রধান সড়ক, অলিগলি এবং আবাসিক এলাকার অনেক অংশ পানিতে তলিয়ে যায়। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন পৌরবাসী। অনেক বাসাবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে পড়ায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়েছে।

যশোর বিমান বাহিনীর আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ২টা থেকে শুক্রবার দুপুর ২টা পর্যন্ত ১২ ঘণ্টায় মোট ১৯০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে শুক্রবার সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত মাত্র ছয় ঘণ্টায় ৮০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়। স্বল্প সময়ে এত বিপুল পরিমাণ বৃষ্টিপাতের কারণে শহরের নিচু এলাকাগুলো দ্রুত পানিতে তলিয়ে যায়।

১২ ঘন্টার বৃষ্টিতে জলমগ্ন যশোর ২

বৃষ্টিতে যশোর শহরের বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল জলাবদ্ধতায় ডুবে গেছে

সরেজমিনে দেখা গেছে, শহরের টিভি ক্লিনিক মোড়, ষষ্ঠীতলা, আরবপুর মোড়, এম এম কলেজের সামনের সড়ক, ফুড গুদাম ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সামনের এলাকা, কারবালা রোড, পানি উন্নয়ন র্বোড অফিসের সামনে, ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন অংশ এবং শংকরপুর এলাকায় জলাবদ্ধতা সবচেয়ে বেশি দেখা দিয়েছে। কোথাও হাঁটু সমান, আবার কোথাও তারও বেশি পানি জমে রয়েছে। ফলে পথচারী, শিক্ষার্থী, কর্মজীবী মানুষ ও যানবাহন চলাচলে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে।

অনেক পরিবারের বসতঘরে পানি ঢুকে প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একইভাবে বিভিন্ন দোকান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানেও পানি প্রবেশ করায় ব্যবসায়ীদের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, শুধু অতিবৃষ্টিই নয়, জলাবদ্ধতার অন্যতম প্রধান কারণ শহরের অপরিকল্পিত ও অকার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা। দীর্ঘদিন ধরে ড্রেন পরিষ্কার না করা, বিভিন্ন স্থানে পলি জমে পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়া এবং হোটেল-রেস্টুরেন্টসহ বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের বর্জ্য সরাসরি ড্রেনে ফেলার কারণে অধিকাংশ ড্রেন কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, অনেক ড্রেনে আবর্জনার স্তূপ জমে পানি চলাচলের পথ সংকুচিত হয়ে গেছে। কোথাও কোথাও ড্রেন প্রায় পুরোপুরি বর্জ্যে ভরাট হয়ে থাকায় বৃষ্টির পানি স্বাভাবিক গতিতে নিষ্কাশিত হতে পারছে না। ফলে সামান্য সময়ের ভারী বৃষ্টিতেই শহরের বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে।

পৌরবাসীর অভিযোগ, প্রতি বর্ষা মৌসুমেই একই ধরনের পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি ঘটলেও কার্যকর ও স্থায়ী সমাধানে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না। নিয়মিত ড্রেন পরিষ্কার, অবৈধভাবে বর্জ্য ফেলা বন্ধ এবং আধুনিক ও পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তোলার দাবি জানিয়েছেন তারা।

টানা বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় শুক্রবার পৌরবাসীর জনজীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে। প্রয়োজন ছাড়া অধিকাংশ মানুষ ঘর থেকে বের হননি। পৌরবাসীর প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট পৌর কর্তৃপক্ষ দ্রুত ড্রেন পরিষ্কার, পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এড়াতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়নে উদ্যোগী হবে।