মানিকগঞ্জে ভাঙা সড়কে অটোরিক্সায় বাড়ী ফিরছিলেন আসাদুজ্জান (৩৪) নামে এক ব্যাক্তি। পথিমধ্যে গাড়ির ঝাঁকুনিকে কেন্দ্র করে যাত্রী ও চালকের মধ্যে বাগবিতণ্ডের সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে দুজনেই সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে গাড়ির চালক কিশোর সাকিবুল (১৬)-কে টেনে হেঁচড়ে পাশের পাটখেতের ভিতরে নিয়ে হত্যা করে লাশ ফেলে পালিয়ে যায় যাত্রী আসাদুজ্জান।
সিসিটিভির ফুটেজ দেখে হত্যার সাতদিন পর হত্যাকারী আসাদুজ্জানকে ( ৩৪) গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার এবং বিভিন্ন তথ্য যাচাই-বাছাই শেষে বুধবার (৮ জুলাই) সন্ধ্যায় সাভার হেমায়েতপুরের জাদুরচর মাদ্রাসা গেইট থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এর আগে গত ১ জুলাই খুন হয় কিশোর সাকিবুল।
গ্রেফতার কৃত আসাদুজ্জান মানিকগঞ্জের গোলাই নতুনপাড়া বরুন্ডী গ্রামের হাফেজ মো: ইদ্রিস আলীর ছেলে। তিনি সাভারে কথিত আপ্যায়ন হোটেলে সহকারী ম্যানেজার হিসেবে কাজ করতেন। তিনি বিবাহিত এবং তিন সন্তানের জনক।
আজ বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুরে মানিকগঞ্জে পিবিআইয়ের জেলা কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার জয়িতা শিল্পী জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসাদুজ্জান হত্যার ঘটনা স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।
পিবিআই জানায়, গত ৩০ জুন বাড়ি থেকে অটোরিক্সা নিয়ে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় কিশোর সাকিবুল ইসলাম।
পরদিন তার মরদেহ একটি পাটক্ষেত থেকে উদ্ধার করা হয়। সুরতহাল প্রতিবেদন ও ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করলে পিবিআই ছায়া তদন্ত শুরু করে।
তদন্তে একটি সিসিটিভি ফুটেজে সন্দেহভাজন ব্যক্তির উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়। পরে গোপন অনুসন্ধান, তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার এবং বিভিন্ন তথ্য যাচাই-বাছাই শেষে বুধবার (৮ জুলাই) সন্ধ্যায় সাভারের হেমায়েতপুর এলাকা থেকে আসাদুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পিবিআই এর ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন আসাদুজ্জামান হেমায়েতপুর থেকে গ্রামের বাড়িতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বের হন। মিতরা এলাকায় আসার পর বৃষ্টির কারণে একটি দোকানে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে। পরে বৃষ্টি কমলে সাকিবুলের অটোরিক্সা দুইশত টাকা ভাড়া মিটিয়ে রিক্সা যুগে বাড়ির দিকে রওনা দেয়। পথিমধ্যে ভাঙা সড়কে গাড়ির ঝাঁকুনিকে কেন্দ্র করে চালক সাবিকুলের সাথে তার বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে দুজনের মধ্যে হাতাহাতি হয়। এর পর রাস্তার পাশের একটি পাটক্ষেতে গিয়ে দুজনে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন এবং সাকিবুলকে মারধর করে। আসাদুজ্জামান সাকিবুলকে পাটখেতে কাঁদা মাটির মধ্যে উপুড় করে ফেলে মুখের ভিতর কাদা ঢুকািয়ে দেয় এবং গলা চেপে ধরে। এতে নিশ্বাস বন্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই সাকিবুলের মৃত্যু হয়।
হত্যার পর সাকিবুলের দেহ নিস্তেজ হয়ে গেলে ভয়ে আসাদুজ্জামান ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পালানোর সময় তার একটি স্যান্ডেল ঘটনাস্থলে পড়ে থাকে, যা আলামত হিসেবে জব্দ করা হয়েছে বলে জানান পিবিআই।
এছাড়া নিহতের অটোরিক্সাটিও সিংগাইর থানা পুলিশ জব্দ করেছে।
পিবিআই আরো জানান, সিসিটিভি ফুটেজ, ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া আলামত এবং অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণের মাধ্যমে আসামিকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।
গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে আসাদুজ্জামান হত্যার দায় স্বীকার করে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন বলে জানান পিবিআই।।