জাকির আহমেদ, মদন (নেত্রকোনা) সংবাদদাতা : নেত্রকোনার হাওর বেষ্টিত উপজেলা মদন।বছরের অর্ধেক সময় পানিতে ডুবে থাকে এই উপজেলা। আগাম বন্যা, খরা আর প্রাকৃতিক দুর্যোগের সঙ্গে লড়াই করে জীবন কাটে হাওরাঞ্চলের মানুষের। বর্ষা এলেই কমে যায় কাজের সুযোগ, বাড়ে অনিশ্চয়তা। এমন বাস্তবতায় উপজেলার কুটুরীকোণা গ্রামে হাঁসের বাচ্চা উৎপাদনের সনাতনী হ্যাচারিকে ঘিরে তৈরি হয়েছে বিকল্প অর্থনীতির নতুন সম্ভাবনা। আর এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে ও বাবার কষ্ট বুকে লালন করে সফল উদ্যোক্ত হয়ে উঠেছেন এই গ্রামের ছেলে আমিনুল ইসলাম।
উদ্যোক্তা আমিনুল ইসলামের দাবি, ১৯৯০ সালে কুটুরীকোণা গ্রামে প্রথমে তার বাবা ইদ্রিস মিয়া মাত্র ১২ হাজার টাকা পুঁজি নিয়ে গড়ে তোলেন ‘নাজাহ হাঁসের খামার ও হ্যাচারি’ নামে একটি হ্যাচারি প্রতিষ্ঠান। পরে তাঁর ছেলে আমিনুল ইসলাম শিক্ষকতার পাশাপাশি সেই উদ্যোগকে আরও বড় পরিসরে সম্প্রসারণ করেন।
একসময় ছোট পরিসরে শুরু হওয়া এই উদ্যোগ এখন শুধু একটি গ্রামের নয়, পুরো হাওরাঞ্চলের কর্মসংস্থানের অন্যতম ভরসায় পরিণত হয়েছে।প্রত্যোক্ষ কিংবা পরোক্ষভাবে এই কাজের সঙ্গে যুক্ত হয়ে কর্মসংস্থান হয়েছে প্রায় দুই লাখ নারী-পুরুষের। এখন এই হ্যাচারি থেকে সরাসরি ও অনলাইনের মাধ্যমে বিক্রি হচ্ছে হাজার হাজার হাঁসের বাচ্চা।
বর্তমানে তাঁর সফলতা দেখে গ্রামের আরও অনেক পরিবার হাঁসের বাচ্চা উৎপাদনে যুক্ত হয়েছে। ফলে বর্ষাকালের কর্মহীন সময়েও স্থানীয় মানুষের আয় হচ্ছে। কমছে শহরমুখী মানুষের চাপ, বাড়ছে গ্রামভিত্তিক কর্মসংস্থান। এ কাজে সংশ্লিষ্টরা জানান, গ্রামের টিনসেড বা কাঁচা ঘরের ভেতরে তৈরি ছোট ছোট হ্যাচারিতে সারিবদ্ধভাবে রাখা হয় ডিম। হ্যারিকেনের আলো ও তুষের তাপে তৈরি হয় প্রয়োজনীয় উষ্ণতা। অভিজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে ২৭ থেকে ২৮ দিনের মধ্যেই ডিম ফুটে বের হয় বাচ্চা।
কয়েকজন ক্রেতা জানান, এই সনাতনী পদ্ধতিতে উৎপাদিত হাঁসের বাচ্চার মৃত্যুহার তুলনামূলক কম এবং রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বেশি। এ কারণে বাজারেও এসব বাচ্চার চাহিদা রয়েছে ব্যাপক।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি,আমিনুলের এই উদ্যোগকে সকলের সম্মান জানানো উচিত। তাছাড়া তার উদ্যোগকে সরকারিভাবে স্বীকৃতি দেওয়া প্রয়োজন। এতে দেশের তরুণ যুব সমাজ উদ্যোক্তা হতে আগ্রহী হবে।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ মতিউর রহমান জানান, কুটুরীকোণা গ্রামে বছরে প্রায় তিন কোটি হাঁসের বাচ্চা উৎপাদন হয়। এই বাচ্চা বিক্রি করে লক্ষ লক্ষ টাকা আয় করছেন খামারিরা। এই উদ্যোগকে আরও সম্প্রসারণে সরকারি সহায়তা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে আমাদের।