যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার বাংলাদেশী শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির লাশ ঢাকায় পৌঁছেছে। বাংলাদেশ সময় গতকাল শনিবার সকাল নয়টার দিকে বৃষ্টির লাশ বহনকারী উড়োজাহাজটি ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। সকাল ১০টার দিকে বৃষ্টির লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্স বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজ এলাকা থেকে বেরিয়ে আসে। এ সময় বৃষ্টির মা-বাবা, পরিবারের সদস্য ও স্বজনেরা শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়েন। এদিকে বৃষ্টি কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি করছিলেন। আর লিমন পিএইচডি করছিলেন ভূগোলে, পরিবেশবিজ্ঞান ও নীতি বিষয়ে। তাদের মরণোত্তর ডক্টরেট ডিগ্রি দিয়েছে ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডা কর্তৃপক্ষ।
যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় গত বৃহস্পতিবার ফ্লোরিডার অরল্যান্ডো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে এমিরেটাসের একটি ফ্লাইট (ইকে ০২২০) বৃষ্টির লাশ নিয়ে ঢাকার পথে যাত্রা করে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই হয়ে লাশটি ঢাকায় পৌঁছেছে। ওয়াশিংটনের বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রেস মিনিস্টার গোলাম মোর্তোজা তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে জানান, বিমানবন্দরে ফ্লোরিডার মায়ামির বাংলাদেশ কনস্যুলেটের একজন প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে স্থানীয় সময় গত বুধবার বেলা দুইটায় ফ্লোরিডার টাম্পায় বৃষ্টির প্রথম জানাযা সম্পন্ন হয়। ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও বাংলাদেশি কমিউনিটির অনেকে জানাযায় অংশ নেন। মায়ামির বাংলাদেশ কনস্যুলেটের একজন প্রতিনিধিও জানাযায় উপস্থিত ছিলেন। ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার পিএইচডি শিক্ষার্থী ছিলেন বৃষ্টি (২৭)। একই বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক বাংলাদেশী পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমনও (২৭) নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। তার লাশ ৪ মে ঢাকায় আসে।
গত ১৬ এপ্রিল লিমন ও বৃষ্টি নিখোঁজ হন। তাদের একজন বন্ধু বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নজরে আনেন। পরে পুলিশ নিশ্চিত করে, দুজনই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে লিমনের রুমমেট মার্কিন নাগরিক হিশাম আবুঘরবেহকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।