নানা আয়োজন আর কর্মসূচিতে যথাযথ মর্যাদায় শুরু হয়েছে বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকীর উৎসব। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শুরু হয়েছে কবির জন্মবার্ষিকীর নানা অনুষ্ঠান। এ বছরের জন্মবার্ষিকীর মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয় ‘শান্তি ও মানবতার কবি রবীন্দ্রনাথ’। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে কুষ্টিয়ার শিলাইদহসহ কবির স্মৃতিবিজড়িত জেলাগুলোতে নেওয়া হয়েছে রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি। প্রধানমন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী।
কুষ্টিয়ার পাশাপাশি কবির স্মৃতিবিজড়িত নওগাঁর পতিসরেও বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। পতিসরের আয়োজনে প্রধান অতিথি ছিলেন, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম। অন্যদিকে, সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। এছাড়া খুলনার দক্ষিণডিহিতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। জাতীয় পর্যায়ের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের প্রথম দিন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির ব্যবস্থাপনায় প্রায় এক ঘণ্টার একটি বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান (নৃত্য, সংগীত ও আবৃত্তি) পরিবেশিত হয়। এছাড়া, ঢাকাসহ দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আলোচনা সভা ও রচনা প্রতিযোগিতার মাধ্যমে দিবসটি পালন করা হয়। কবির ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও বাংলা একাডেমির পক্ষ থেকে বিশেষ স্মরণিকা ও পোস্টার মুদ্রণ ও বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
ইন্দিরা গান্ধী কালচারাল সেন্টারে শিল্প প্রদর্শনী
এদিকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনের ইন্দিরা গান্ধী কালচারাল সেন্টার (আইজিসিসি) আয়োজন করেছে ১০ দিনব্যাপী শিল্প প্রদর্শনী ‘সম্প্রীতি’। বৃহস্পতিবার আইজিসিসি প্রাঙ্গণে এ প্রদর্শনীর উদ্বোধন করা হয়। প্রদর্শনীতে বাংলাদেশের ৩৩ জন খ্যাতিমান সমকালীন শিল্পীর শিল্পকর্ম স্থান পেয়েছে। দুই দিনব্যাপী একটি আর্টক্যাম্পে সৃষ্ট এসব শিল্পকর্মের মধ্যে রয়েছে শিল্পী রফিকুন নবী, মনিরুল ইসলাম, আব্দুস শাকুর, আব্দুস সাত্তার, ফরিদা জামান, রঞ্জিত দাস, জামাল আহমেদ, নাঈমা হকসহ আরও অনেক বিশিষ্ট শিল্পীর কাজ। অংশগ্রহণকারী শিল্পীদের অনেকেই ভারতীয় সাংস্কৃতিক সম্পর্ক পরিষদের (আইসিসিআর) সাবেক স্কলার। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা বলেন, ভারত ও বাংলাদেশের অভিন্ন শিল্প ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য দুই দেশের সম্পর্কের অন্যতম ভিত্তি। শিল্প এমন একটি শক্তিশালী মাধ্যম, যা সীমান্তের গণ্ডি পেরিয়ে মানুষের মধ্যে সংলাপ, সহমর্মিতা ও সম্প্রীতির ক্ষেত্র তৈরি করে। তিনি বলেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে সংযোগের সবচেয়ে প্রতীকী ব্যক্তিত্ব। তার সৃজনশীলতা, মানবতাবাদ ও সাংস্কৃতিক সম্প্রীতির আদর্শ আজও দুই দেশের সম্পর্ককে সমৃদ্ধ করছে।