থাইল্যান্ডে চিকিৎসাধীন জুলাই আন্দোলনে আহতদের খোঁজখবর
জাপান বাংলাদেশকে গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করে বলে মন্তব্য করেছেন সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, জাপান ভবিষ্যতেও বাংলাদেশের উন্নয়নে সহযোগিতা বাড়াতে আগ্রহী। জাপান সরকারের সাথে ক্যান্সার চিকিৎসা, গ্রামীণ উন্নয়ন এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় সহযোগিতার বিষয়ও আলোচনায় এসেছে বলেও জানান তিনি।
গতকাল শনিবার এক সপ্তাহের জাপান সফর শেষে দেশে ফিরে হজরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত ব্রিফিংয়ে জামায়াত আমীর এ কথা বলেন। বিমানবন্দরে জামায়াত আমীরকে স্বাগত জানান, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমীর নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য, ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমীর মো. সেলিম উদ্দিন, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি কামাল হোসেন এমপি, ঢাকা-৪ আসনের সংসদ সদস্য জামায়াত নেতা সৈয়দ জয়নুল আবেদীন, ঢাকা মহানগরী উত্তরের প্রচার ও মিডিয়া সেক্রেটারি আতাউর রহমান সরকারসহ বহু নেতাকর্মী।
ডা. শফিকুর রহমান জানান, ফেরার পথে থাইল্যান্ডে চিকিৎসাধীন জুলাই আন্দোলনের আহতদের খোঁজখবর নেওয়া হয়েছে। আহতদের চিকিৎসা, পুনর্বাসন ও মানসিক সহায়তা নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
ডা. শফিকুর রহমান আরও জানান, জাপান সফরে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, জাইকা এবং বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে বাংলাদেশের উন্নয়ন, বিনিয়োগ, শিক্ষা বিনিময়, দক্ষতা উন্নয়ন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও অবকাঠামোগত সহযোগিতা নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। তাদের আলোচনায় বাংলাদেশের উন্নয়ন প্রকল্পে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, জাপান বাংলাদেশকে গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করে ।
উল্লেখ্য, গত ২ মে শনিবার রাত ৩টায় ডা. শফিকুর রহমান জাপান সফরের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন। তার সফর সঙ্গী ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন এমপি এবং আমীরে জামায়াতের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান এমপি।
বিমানবন্দরে সংক্ষিপ্ত ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, জাপান সফরে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, জাইকা এবং বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে বাংলাদেশের উন্নয়ন, বিনিয়োগ, শিক্ষা বিনিময়, দক্ষতা উন্নয়ন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও অবকাঠামোগত সহযোগিতা নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন প্রকল্পে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, জাপান বাংলাদেশকে গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করে এবং ভবিষ্যতেও সহযোগিতা বাড়াতে আগ্রহী। সফরে ক্যান্সার চিকিৎসা, গ্রামীণ উন্নয়ন এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় সহযোগিতার বিষয়ও আলোচনায় এসেছে। ডা. শফিকুর রহমান জানান, ফেরার পথে থাইল্যান্ডে চিকিৎসাধীন জুলাই আন্দোলনের আহতদের খোঁজখবর নেওয়া হয়েছে। আহতদের চিকিৎসা, পুনর্বাসন ও মানসিক সহায়তা নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, অপরাধ দমনে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন সবচেয়ে জরুরি। পাশাপাশি বাজার পরিস্থিতি সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্যও সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
প্রসঙ্গত, জাপান সফরকালে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা) দক্ষিণ এশিয়া বিভাগের মহাপরিচালক ইয়ামাদা তেতমুইয় জাপান সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভাইস মিনিস্টার শিমাদা তোমোকি (সহ দেশটির সরকারের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে দুই দেশের উন্নয়ন ও দ্বি-পাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে মতবিনিময় করেন। বৈঠকে বাংলাদেশের চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম, অবকাঠামো উন্নয়ন, মানবসম্পদ বিকাশ, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও টেকসই অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে জাইকার ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। জাইকার প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে তাদের বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগিতা কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বিষয়েও অবহিত করেন। এসব আলোচনায় জাইকার পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, বাংলাদেশ বর্তমানে জাইকার অন্যতম বৃহৎ উন্নয়ন সহযোগী দেশ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান অধিকার করে আছে। এ সময় ডা. শফিকুর রহমান আশা প্রকাশ করেন যে, পারস্পরিক আস্থা, সহযোগিতা ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ভিত্তিতে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ জাইকার উন্নয়ন সহযোগিতার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত দেশে পরিণত হবে।
বৈঠকে উভয় পক্ষ বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি জনগণের কল্যাণ, টেকসই উন্নয়ন, দক্ষ মানবসম্পদ গঠন এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে যৌথভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।
একইদিনে জাপান সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভাইস মিনিস্টার শিমাদা তোমোকি সঙ্গে বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান, এমপি'র বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে ভাইস মিনিস্টার শিমাদা তোমোকি এমপি’র সঙ্গে জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত সম্পর্ক, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, অবকাঠামো উন্নয়ন, মানবসম্পদ উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও প্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধিসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
উভয় পক্ষই বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় ও বহুমাত্রিক করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি বিরোধীদলীয় নেতা বিশেষভাবে বাংলাদেশে বিশেষায়িত ক্যান্সার হাসপাতাল স্থাপনের জন্য জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভাইস মিনিস্টারকে অনুরোধ করেন।
আলোচনায় জাপানের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি, সামাজিক উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতায় বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার প্রশংসা করা হয়। একই সঙ্গে জাপান বাংলাদেশের উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় ভবিষ্যতেও সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশাবাদ ব্যক্ত করে।
এ সময় আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান বাংলাদেশে জাপানের দীর্ঘদিনের উন্নয়ন সহযোগিতা ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বিশেষ করে অবকাঠামো উন্নয়ন, যোগাযোগ ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ ও মানবসম্পদ উন্নয়নে জাপানের অবদানের কথা উল্লেখ করে ভবিষ্যতে দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও সম্প্রসারিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।