ইবরাহীম খলিল ও শহিদুল্লাহ মনসুর
সরকারি চাকরিতে ১১ থেকে ২০ গ্রেডের নিয়োগে লিখিত পরীক্ষার তুলনায় ভাইভার নম্বর বাড়ানোর প্রস্তাব ঘিরে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে চাকরিপ্রার্থী ও সংশ্লিষ্ট মহলে। সরকারের পক্ষ থেকে দক্ষ ও যোগ্য প্রার্থী বাছাইয়ের কথা বলা হলেও, মৌখিক পরীক্ষায় নাম্বার বাড়লে নিয়োগে রাজনৈতিক প্রভাব, স্বজনপ্রীতি, লবিং ও অনিয়মের সুযোগ বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে লিখিত পরীক্ষায় এগিয়ে থাকা প্রার্থীও যদি ভাইভার বেশি নম্বরের কারণে পিছিয়ে পড়েন, তাহলে মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠবে। ফলে ভাইভার নম্বর বাড়ানোর পাশাপাশি কীভাবে এই ধাপে জবাবদিহি ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা হবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, ১১ ও ১২ গ্রেডের ১০০ নম্বরের পরীক্ষায় লিখিত ও মৌখিক—দুই অংশে ৫০ করে নম্বর রাখার কথা বলা হয়েছে। ১৩ থেকে ১৬ গ্রেডে লিখিত পরীক্ষায় ৬০ এবং মৌখিকে ৪০ নম্বর এবং ১৭ থেকে ২০ গ্রেডে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় ২৫ করে নম্বর রাখার প্রস্তাব রয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে এটিকে দক্ষ ও যোগ্য জনবল বাছাইয়ের উদ্যোগ হিসেবে তুলে ধরা হলেও, ভাইভার ওজন বাড়লে নিয়োগপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা কীভাবে নিশ্চিত করা হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সরকারের যুক্তি, শুধু লিখিত পরীক্ষার ফল দিয়ে একজন প্রার্থীর সামগ্রিক যোগ্যতা নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। চাকরির দায়িত্ব পালনের জন্য যোগাযোগ দক্ষতা, ব্যক্তিত্ব, উপস্থিত বুদ্ধি, সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা ও পরিস্থিতি মোকাবিলার দক্ষতাও গুরুত্বপূর্ণ। সে কারণেই মৌখিক পরীক্ষার গুরুত্ব বাড়ানোর কথা ভাবা হচ্ছে।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেন, সরকারি চাকরিতে শুধু লিখিত পরীক্ষায় ভালো করাই একজন প্রার্থীর সামগ্রিক যোগ্যতার একমাত্র মাপকাঠি হতে পারে না। প্রশাসনে কাজ করার জন্য বইভিত্তিক জ্ঞানের পাশাপাশি যোগাযোগ দক্ষতা, বিচারবোধ, সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা ও অন্যান্য অ্যাপটিটিউডও প্রয়োজন। তাঁর মতে, এসব যোগ্যতা মূল্যায়নের ক্ষেত্রে মৌখিক পরীক্ষা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। নিজের কয়েকটি বিসিএসের ভাইভা নেওয়ার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, এমন প্রার্থীও তিনি দেখেছেন, যাঁদের লিখিত পরীক্ষার ফল খুব ভালো না হলেও ভাইভায় তাঁদের পারফরম্যান্স দেখে চাকরির জন্য উপযুক্ত মনে হয়েছে।
তবে নিয়োগ বিশেষজ্ঞ ও চাকরিপ্রত্যাশীদের আলোচনায় উঠে আসছে ভিন্ন আলাপ। তাঁদের প্রশ্ন, ভাইভার নম্বর বাড়ানো হলে প্রার্থীর সামগ্রিক দক্ষতা যাচাইয়ের সুযোগ হয়তো বাড়বে, কিন্তু একই সঙ্গে মৌখিক মূল্যায়নের ওপর নির্ভরশীলতাও বাড়বে। লিখিত পরীক্ষার তুলনায় ভাইভায় নম্বর দেওয়ার ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত মূল্যায়ন ও বিচার-বিবেচনার সুযোগ বেশি থাকায় এই ধাপে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা কতটা সম্ভব হবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। তাঁদের মতে, ভাইভার গুরুত্ব বাড়ানোর আগে কীভাবে নম্বর দেওয়া হবে, কোন কোন মানদণ্ডে প্রার্থীকে মূল্যায়ন করা হবে এবং মূল্যায়নে ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের প্রভাব কীভাবে কমানো হবে—এসব বিষয় স্পষ্ট করা জরুরি। কারণ শুধু ভাইভার নম্বর বাড়ালেই যোগ্য প্রার্থী বাছাই নিশ্চিত হয় না; বরং সেই নম্বর প্রদানের প্রক্রিয়াটিও হতে হবে স্বচ্ছ, কাঠামোবদ্ধ ও জবাবদিহিমূলক।
উদাহরণ হিসেব্ েবলা যায় দুই প্রার্থী লিখিত পরীক্ষায় যথাক্রমে ৬০ ও ৫০ নম্বর পেয়েছেন। অর্থাৎ একজন অন্যজনের চেয়ে ১০ নম্বর এগিয়ে। এখন ভাইভায় যদি দ্বিতীয় প্রার্থী প্রথমজনের চেয়ে ১৫ বা ২০ নম্বর বেশি পান, তাহলে পুরো চিত্রই বদলে যেতে পারে। নিয়ম অনুযায়ী এতে কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু প্রশ্ন হলো, ভাইভায় তৈরি হওয়া এই ১৫ বা ২০ নম্বরের ব্যবধান কতটা নির্ভরযোগ্যভাবে ব্যাখ্যা করা যাবে ? লিখিত পরীক্ষায় একজন কেন ৬০ পেলেন আর অন্যজন কেন ৫০ পেলেন, তার পেছনে উত্তরপত্র, প্রশ্ন ও নির্ধারিত মূল্যায়ন কাঠামো থাকে। একজন প্রার্থী চাইলে নিজের উত্তরপত্রের মূল্যায়ন নিয়েও প্রশ্ন তুলতে পারেন।
ভাইভার ক্ষেত্রে পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন। একই প্রশ্নের উত্তরে একজনকে ৮ এবং অন্যজনকে ৬ দেওয়া হলো—এই পার্থক্যের ভিত্তি কী? একজনের আত্মবিশ্বাসকে কেন ৯ এবং অন্যজনেরটিকে ৬ নম্বর দেওয়া হলো? একজনের যোগাযোগ দক্ষতা কেন অন্যজনের তুলনায় এত বেশি মূল্যায়িত হলো? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর যদি নির্দিষ্ট সূচক ও স্কোরিং কাঠামোর মাধ্যমে দেওয়া না যায়, তাহলে ভাইভার নম্বরের ওজন যত বাড়বে, সন্দেহের জায়গাটিও তত বড় হবে। তাছাড়া ভাইভার নম্বর বাড়লে রাজনৈতিক প্রভাব, লবিং, স্বজনপ্রীতি বা ব্যক্তিগত যোগাযোগের সুযোগ বাড়তে পারে—এমন আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। চাকরিপ্রার্থীরা যখন বছরের পর বছর প্রস্তুতি নেন, তখন তাঁদের কাছে নিয়োগপ্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একজন প্রার্থী যদি মনে করেন, তাঁর মেধার চেয়ে অন্য কোনো পরিচয় বা যোগাযোগ বেশি কার্যকর হতে পারে, তাহলে পুরো ব্যবস্থার ওপর তাঁর আস্থা নষ্ট হতে পারে। রাষ্ট্রের নিয়োগব্যবস্থার সবচেয়ে বড় সম্পদ শুধু দক্ষ জনবল নয়, জনগণের আস্থাও।
এখানে সরকারের উদ্দেশ্য নিয়েও প্রশ্ন নয় বরং দক্ষ ও যোগ্য জনবল নিয়োগ অবশ্যই একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য। তবে সেই লক্ষ্য অর্জনের জন্য ভাইভার নম্বর বাড়ানোর পাশাপাশি মূল্যায়ন পদ্ধতিকে আরও শক্তিশালী করা জরুরি। প্রার্থীর কোন দক্ষতার জন্য কত নম্বর থাকবে, কী ধরনের প্রশ্ন করা হবে, বোর্ডের সদস্যরা কীভাবে নম্বর দেবেন এবং অস্বাভাবিক নম্বরের ক্ষেত্রে কোনো পর্যালোচনার ব্যবস্থা থাকবে কি না এসব বিষয় আগে থেকেই স্পষ্ট করা প্রয়োজন।
সব মিলিয়ে, সরকারি চাকরিতে যোগ্য ও দক্ষ প্রার্থী বাছাইয়ের লক্ষ্য নিয়ে ভাইভার গুরুত্ব বাড়ানোর যুক্তি থাকলেও, লিখিত পরীক্ষার তুলনায় মৌখিক পরীক্ষার ওজন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি রাখে। ভাইভা অবশ্যই থাকতে পারে, তবে এর নম্বর যেন লিখিত পরীক্ষায় অর্জিত মেধা ও যোগ্যতাকে অযথা ছাপিয়ে যাওয়ার সুযোগ না পায়। একই সঙ্গে ভাইভা বোর্ডের মূল্যায়নকে নির্দিষ্ট মানদণ্ড, একাধিক পরীক্ষক ও স্বচ্ছ স্কোরিং পদ্ধতির আওতায় আনা জরুরি। কারণ নিয়োগপ্রক্রিয়ার সাফল্য শুধু যোগ্য প্রার্থী খুঁজে পাওয়ার মধ্যে নয়; বরং এমন একটি ব্যবস্থা নিশ্চিত করার মধ্যেও, যেখানে একজন চাকরিপ্রার্থী শেষ পর্যন্ত বিশ্বাস করতে পারেন তাঁর নিয়োগ হয়েছে পরিচয়, প্রভাব বা ব্যক্তিগত পছন্দের ভিত্তিতে নয়, যোগ্যতার ন্যায্য মূল্যায়নের ভিত্তিতে।
এদিকে ভাইভা পরীক্ষায় নাম্বার বৃদ্ধির নিন্দা জানিয়েছেন রাজনীতিবিদ ও শিক্ষার্থীরা। তারা উদ্বেগ জানিয়ে বিবৃতি প্রদানের পাশাপাশি ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে মানববন্ধন করেছেন।
সরকারি চাকরির ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের নিয়োগে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার নম্বরের ভারসাম্য পরিবর্তন করে ভাইভার নম্বর অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধির সরকারের উদ্যোগে উদ্বেগ, নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার এক বিবৃতিতে বলেন, বর্তমান সরকার রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলোতে চরম দলীয়করণ শুরু করেছে। তারা ইতোমধ্যে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, সিটি করপোরেশন, জেলা প্রশাসনসহ সচিবালয়ের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে দলীয় বিবেচনায় মেধাহীন, অযোগ্য এবং বিতর্কিত লোকদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়েছে। এসব গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় মেধা ও যোগ্যতার পরিবর্তে অন্ধ দলীয় লোকদের নিয়োগ দিয়ে সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘‘বৈষম্যহীন, দুর্নীতিমুক্ত, ন্যায়ভিত্তিক ও মেধাভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ছিল জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম প্রধান আকাক্সক্ষা। অথচ সরকারি চাকরির নিয়োগব্যবস্থায় এমন একটি বিধিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা মেধার মূল্যায়নকে দুর্বল করে নিয়োগে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি, রাজনৈতিক প্রভাব ও দুর্নীতির পথ ন্যক্কারজনকভাবে উন্মুক্ত করবে। সরকারি চাকরির নিয়োগে ভাইভার নম্বর বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত বিএনপি সরকারের নির্লজ্জ দলীয়করণের অশুভ ইঙ্গিত।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘‘১১ থেকে ২০তম গ্রেডের চাকরিতে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় সমান ৫০ নম্বর রাখার সিদ্ধান্ত অত্যন্ত উদ্বেগজনক। দেশবাসী মনে করে, সরকারের বড় আকারে ভাইভার নম্বর বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত প্রশাসনকে দলীয়করণের সুদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্রের নগ্ন হাতিয়ার। লিখিত পরীক্ষা একজন প্রার্থীর জ্ঞান, মেধা, বিশ্লেষণী সক্ষমতা ও প্রস্তুতিকে তুলনামূলকভাবে বস্তুনিষ্ঠভাবে যাচাই করার সুযোগ দেয়। তিনি বলেন, ‘‘লিখিত পরীক্ষার উত্তরপত্র সংরক্ষণ, পুনর্মূল্যায়ন ও অডিট করা সম্ভব। কিন্তু মৌখিক পরীক্ষার মূল্যায়ন অনেকাংশেই বোর্ডের ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ ও বিবেচনার ওপর নির্ভরশীল। ফলে ভাইভার নম্বরের ওজন অস্বাভাবিকভাবে বাড়ানো হলে মেধার ব্যবধান কৃত্রিমভাবে পরিবর্তন করার সুযোগ সৃষ্টি হবে। ফলে লিখিত পরীক্ষায় অর্জিত মেধা ও যোগ্যতার অবমূল্যায়ন ঘটবে এবং যোগ্য চাকরি প্রার্থীরা ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হবে।’’ পরওয়ার বলেন, ‘‘সরকারি চাকরির ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের পদগুলোতে দেশের বিপুলসংখ্যক তরুণ-তরুণী প্রতিযোগিতা করেন। তাদের অনেকেই দীর্ঘদিন প্রস্তুতি নিয়ে, সীমিত আর্থিক সামর্থ্যের মথ্যে কঠোর পরিশ্রম করে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। তাদের মেধা ও পরিশ্রমের মূল্যায়নকে এমন কোনও অনিশ্চিত ব্যবস্থার ওপর ছেড়ে দেওয়া উচিত নয়, যেখানে মৌখিক পরীক্ষার অতিরিক্ত নম্বর দিয়ে লিখিত পরীক্ষার ফলাফল সহজেই উল্টে দেওয়া সম্ভব।’’
এদিকে ১০ম গ্রেডের সরকারি চাকরির নিয়োগ কার্যক্রম ত্বরান্বিত করার নামে বিএনপি সরকার ‘আরেকটি বাজে কাজ’ করতে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ। তিনি বলেছেন, ১০ম গ্রেডের নিয়োগ বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) কাছ থেকে সরিয়ে নিয়ে নিজেদের কমিটি গঠন করে নিয়োগ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বুধবার দিবাগত রাতে নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসে এসব কথা বলেন হাসনাত আব্দুল্লাহ।
তিনি বলেন, অন্যান্য ১০ম গ্রেডের পদের মতো উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা নিয়োগও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান পিএসসির মাধ্যমে অনেক বছর ধরে হয়ে আসছে। মন্ত্রণালয় শূন্য পদের সংখ্যা জানায়, পিএসসি পরীক্ষা নিয়ে যোগ্য প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করে এবং মন্ত্রণালয় নিয়োগ দেয়। ফলে নিয়োগ কার্যক্রম ভালোভাবেই চলছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, ‘বিএনপি সরকার কেন জানি সব নিয়োগ সরকারের নিয়ন্ত্রণে নিতে চাইছে।’ পিএসসির অধীনে হওয়া নিয়োগ কার্যক্রম ‘ত্বরান্বিত’ করার নামে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রীর নেতৃত্বে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ও জনপ্রশাসন সচিবকে নিয়ে একটি কমিটি করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তার দাবি, প্রজ্ঞাপনে এই কমিটি নিয়োগ কার্যক্রম ত্বরান্বিত করতে কাজ করবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ উদ্যোগের সমালোচনা করে হাসনাত প্রশ্ন করেন, ‘পিএসসি কী পারছে না? পিএসসি কী কোথায় বলেছে, আমরা পারছি না?’ তার ভাষ্য, খালি চোখেই বোঝা যাচ্ছে সরকার নিয়োগকে নিয়ন্ত্রণ করতে চাইছে। এর উদ্দেশ্য পছন্দের ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়া কিংবা দুর্নীতির মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়া হতে পারে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, সরকার কি ২০২৪ সালের কথা ভুলে গেছে? সরকারি চাকরির নিয়োগে বৈষম্য করার কারণেই দেশের ছাত্ররা আন্দোলনের সূত্রপাত করেছিল এবং সেখান থেকে ‘কালজয়ী অভ্যুত্থান’ হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, ‘ক্ষমতা আর সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে তা ভুলে গেলে সরকারকে মনে করিয়ে দিতে চাই, তরুণরা কিন্তু জাগ্রত আছে।’ নিয়োগ কার্যক্রমে হাত দিয়ে দুর্নীতির মাধ্যমে লাভবান হওয়ার চিন্তা করা হলে তা কখনও ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে না বলেও সতর্ক করেন হাসনাত আব্দুল্লাহ।
সরকারি চাকরির ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে লিখিত পরীক্ষার নম্বর কমিয়ে মৌখিক পরীক্ষার (ভাইভা) নম্বর বাড়ানোর প্রস্তাবের প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু)। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষা শহিদ রফিক ভবনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে জকসু ভিপি মো. রিয়াজুল ইসলাম বলেন, ‘বর্তমান সরকার দেশের গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট সমাধান না করে, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার দিকে কোনো প্রকার ভ্রƒক্ষেপ না করে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন খাতে দলীয়করণের ঘৃণ্য পাঁয়তারা শুরু করেছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘সরকারি চাকরিতে লিখিত পরীক্ষার নম্বর কমিয়ে মৌখিক পরীক্ষায় নম্বর বৃদ্ধি করা মূলত দুর্নীতির মাধ্যমে সরকারের বিভিন্ন খাতকে দলীয়করণ করার একটি কৌশল। অবিলম্বে এমন অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত বাতিল করতে হবে।’
জকসুর এজিএস মাসুদ রানা বলেন, ‘সরকারি চাকরিতে লিখিত পদ্ধতির নম্বর কমিয়ে ভাইভায় নম্বর বৃদ্ধি মূলত কোটা পদ্ধতির নব্যরূপ। এরকম প্রতারণামূলক পদ্ধতির আবির্ভাব ঘটিয়ে পূর্বের সরকারকে তীব্র জনরোষের মুখে দেশ ছাড়তে হয়েছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই পদ্ধতি বাতিল না করলে বর্তমান সরকারকেও শিক্ষার্থীরা ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করবে।’ জকসুর শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক মো. ইব্রাহীম খলিল বলেন, ‘সরকারের চারপাশে কুচক্রী মহল বসে আছে, যারা একের পর এক বিভ্রান্তিকর সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। চব্বিশের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পরবর্তী সময়ে এসে শিক্ষার্থীরা সরকারি চাকরিতে ভাইভায় নম্বর বৃদ্ধির মতো এমন হঠকারী সিদ্ধান্ত কোনোভাবেই মেনে নেবে না। আমাদের প্রত্যাশা, সরকারের শুভবুদ্ধির উদয় হবে এবং এই সিদ্ধান্ত দ্রুত বাতিল করবে।’
জাতীয় ছাত্রশক্তি, জবি শাখার সভাপতি মো. শাহীন মিয়া বলেন, ‘সরকারের এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। আমরা সরকারকে সতর্ক করে দিতে চাই, একের পর এক এমন শিক্ষার্থী ও গণবিরোধী সিদ্ধান্ত প্রণয়ন বন্ধ না করলে পূর্বের ফ্যাসিস্ট সরকারের মতো এই সরকারকেও কঠিন পরিণতি ভোগ করতে হবে।’