যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে হত্যাকাণ্ডের শিকার বাংলাদেশী পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমনের লাশ দেশে এসেছে। গতকাল সোমবার সকাল ৮টা ৪৭ মিনিটে তার লাশবাহী উড়োজাহাজটি ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছেছে। বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক বিমানবাহিনীর গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ বলেন, জামিল আহমেদ লিমনের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় হত্যাকাণ্ডের শিকার বাংলাদেশী শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমনের (২৭) লাশ তার গ্রামের বাড়ি জামালপুরের মাদারগঞ্জে পৌঁছেছে। গতকাল সোমবার বেলা সাড়ে তিনটার দিকে তার লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্সটি উপজেলার কড়ইচড়া ইউনিয়নের মহিষবাথান গ্রামে পৌঁছায়। এ সময় স্বজন ও গ্রামবাসীর আহাজারিতে সেখানে এক শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

ওয়াশিংটনের বাংলাদেশ দূতাবাস এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় রাত ৮টা ৫০ মিনিটের দিকে ফ্লোরিডার অরল্যান্ডো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে এমিরেটসের একটি উড়োজাহাজে লিমনের লাশ পাঠানো হয়েছে। এর আগে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় বেলা দুইটার দিকে ফ্লোরিডার টাম্পা বে এলাকায় ইসলামি সোসাইটিতে লিমনের জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার শিক্ষার্থী ও বাংলাদেশ কমিউনিটির লোকজন জানাযায় শরিক হন। লিমন (২৭) ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় ভূগোল, পরিবেশবিজ্ঞান ও নীতি বিষয়ে পিএইচডি করছিলেন। গত ১৬ এপ্রিল তিনি নিখোঁজ হন। লিমনের সঙ্গে নিখোঁজ হন নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি (২৭)। তাদের এক বন্ধু বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নজরে আনেন।

এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে জামিলের রুমমেট মার্কিন নাগরিক হিশাম আবু ঘরবেহকে তার পারিবারিক বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় থেকে বলা হয়, আবু ঘরবেহকে জিজ্ঞাসাবাদের পর গত ২৪ এপ্রিল ফ্লোরিডার হাওয়ার্ড ফ্রাঙ্কল্যান্ড ব্রিজ এলাকায় আবর্জনা ফেলার কালো রঙের কয়েকটি ব্যাগের মধ্যে জামিলের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ খুঁজে পাওয়া যায়। আদালতের নথি অনুযায়ী, লিমনের লাশ কোনো কাপড় ছিল না এবং নিহতের শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। এ ঘটনায় আবু ঘরবেহর বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ মাত্রার (ফার্স্ট ডিগ্রি) হত্যার দুটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তার কাছ থেকে একটি অস্ত্র উদ্ধারের কথাও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। আবু ঘরবেহ লিমনের রুমমেট ছিলেন।

লিমনের লাশ খুঁজে পাওয়ার দুই দিন পর গত ২৬ এপ্রিল ম্যানগ্রোভ এলাকায় কয়েকজন মাছ শিকারি কায়াক চালানোর সময় একটি কালো রঙের পলিথিন দেখতে পান। হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজে যেখানে জামিলের লাশ খুঁজে পাওয়া গেছে, এলাকাটি এর কাছেই। খবর দেওয়া হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পলিথিনের ভেতর মৃত দেহের খণ্ডিত অংশ দেখতে পায়। তবে খণ্ডিত অংশগুলো এমন অবস্থায় ছিল যে পুলিশ সেগুলো শনাক্ত করতে পারছিল না। ৩০ এপ্রিল সংবাদ সম্মেলনে এসে হিসলবরো কাউন্টি শেরিফ নিশ্চিত করেন, উদ্ধার হওয়া খণ্ডিত অংশ বৃষ্টির। আদালতের নথি অনুযায়ী, লিমনের দেহে কোনো কাপড় ছিল না এবং মরদেহে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। এ ঘটনায় আবু ঘরবেহর বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ মাত্রার (ফার্স্ট ডিগ্রি) হত্যার দুটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তার কাছ থেকে একটি অস্ত্র উদ্ধারের কথাও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। আবু ঘরবেহ লিমনের রুমমেট ছিলেন।

স্থানীয় সংবাদকর্মীদের মাধ্যমে জানাযায়, জামিলের লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্সটি গ্রামে প্রবেশ করতেই স্বজন ও গ্রামবাসী যানটির পেছনে ছুটতে থাকেন। সেটি বাড়ির আঙিনায় পৌঁছাতেই তারা মরদেহটিকে একনজর দেখার জন্য ভিড় করেন। লাশবাহী গাড়িটি আঙিনায় রাখামাত্র নারী-পুরুষ সবাই সেটিকে ঘিরে ধরেন। শেষবারের মতো জামিলকে একনজর দেখার আকুলতায় ভিড় বাড়তেই থাকে। এ সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন তার পরিবার-পরিজন। তাদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পুরো পরিবেশ। একপর্যায়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন জামিলের বাবা জহুরুল হক। তাকে ধরে ঘরের বারান্দায় রাখা চেয়ারে বসান কয়েকজন।

জামিলের চাচা হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘ছেলের নিথর লাশ বাড়িতে ফিরছে এই কষ্ট আমরা কোথায় রাখব, কীভাবে সহ্য করব বুঝতে পারছি না। যে বা যারা এই নির্মম হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, তাদের ফাঁসি চাই।’ নিহত জামিল আহমেদ ওরফে লিমন জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার কড়ইচড়া ইউনিয়নের মহিষবাথান এলাকার বাসিন্দা জহুরুল হকের ছেলে। কর্মসূত্রে জহুরুল হক দীর্ঘদিন গাজীপুরের মাওনা এলাকায় বসবাস করেন। সেখানেই জামিলের বেড়ে ওঠা ও পড়াশোনা। দুই ভাইয়ের মধ্যে তিনি ছিলেন বড়। ছোট ভাই জোবায়ের হোসেন।