অনলাইন জুয়া, সাইবার প্রতারণা ও অবৈধভাবে ডিজিটাল আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা চীনে পাচারের অভিযোগে দেশটির ছয় নাগরিকসহ নয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ ঘটনায় ডিবি পুলিশের সাইবার টিমের এসআই সুব্রত দাশ রমনা মডেল থানায় মামলা করেন। বুধবার রাজধানীর উত্তরা ও তুরাগ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদ গতকাল বৃহস্পতিবার তাদের মধ্য থেকে আটজনকে দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। সেইসঙ্গে রোকন উদ্দিন নামে এক আসামীকে কারাফটকে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। রিমান্ড আদেশ পাওয়া আসামিরা হলেন- এমএ জি (৩৩), ঝাং জিয়াহাও (২২), লিও জিঞ্জি (৩২), ওয়াং শিবো (২৪), চাং তিয়ানতিয়ান (২৯), জেমস ঝু (৪৩), মো. কাউসার হোসেন (২৪) ও মো. আব্দুল-কারিম (২৮)।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিএমপি ডিবির সাইবার টিম দক্ষিণের এসআই মো. রাশেদুল ইসলাম প্রত্যেকের পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। আসামী পক্ষে পরিমল পাল, হেলাল উদ্দিন, সবুজ শেখসহ কয়েক আইনজীবী রিমান্ড বাতিল করে জামিনের প্রার্থনা করেন। প্রয়োজনে তাদের কারাফটকেও জিজ্ঞাসাবাদের প্রার্থনা করেন। গ্রেপ্তার রোকন উদ্দিনের আইনজীবী দাবি করেন, রোকন ঠিকমতো কথা বলতে পারে না। পরে আদালত আটজনের রিমান্ড ও রোকনকে কারাফটকে জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ দেয়। গতকাল দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে সাংবাদিক সম্মেলনে বলা হয়, নিয়মিত সাইবার নজরদারিতে ফেইসবুক, ইউটিউব, টেলিগ্রাম গ্রুপে এবং বিভিন্ন ভুয়া ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনলাইন জুয়ার বিজ্ঞাপন, ডিপোজিট বোনাসের প্রলোভন এবং বিকাশ বা নগদ ব্যবহার করে অবৈধ লেনদেনের তথ্য শনাক্ত হয়। এসব ওয়েবসাইটের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে স্বল্প সময়ে দ্বিগুণ-তিনগুণ লাভের প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণার ফাঁদে ফেলা হচ্ছিল। এমন তথ্যের ভিত্তিতে উত্তরা ১৩ নম্বর সেক্টর ও তুরাগ এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে তিনটি ৬৪-পোর্ট বিশিষ্ট, একটি ২৫৬ পোর্ট বিশিষ্ট এবং একটি ৮ পোর্ট বিশিষ্ট জিএসএম সিম মডিউল বা জিএসএম গেটওয়ে (ভিওআইপি গেটওয়ে), বিভিন্ন অপারেটরের প্রায় ২৮০টি সিম কার্ড, একাধিক ল্যাপটপ এবং স্মার্টফোন জব্দ করা হয়েছে।
সাংবাদিক সম্মেলনে ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশীদের প্রলুদ্ধ করা ‘সহজ হওয়ায়’ এ ধরনের চক্রগুলো এখানে বেশি সংখ্যায় ফাঁদ পাতছে। আর বিকাশ ও নগদের মত মোবাইল আর্থিক সেবার মাধ্যমে সাধারণ নাগরিকদের কাছ থেকে পাওয়া টাকা তারা তাৎক্ষণিকভাবেই বিদেশে পাচার করে ফেলতে পারছে।