• আয়ের অর্থ পরিবারের কাছে পাঠাবেন বন্দীরা
  • মাত্র দু’জন চিকিৎসক, অস্থায়ী আছেন ১০১ জন
  • বিদেশী বন্দী ৩৭৯, দেশে ফেরার অপেক্ষায় ১৭০
  • মাদক নিয়ন্ত্রণে দু’টি বিশেষ কারাগার চালু

দেশের বিভিন্ন কারাগারে বন্দী থাকা আসামীদের দিয়ে সাবান তৈরির কাজ শুরু করেছে কারা অধিদফতর। তাদের তৈরি সাবানগুলোই পরে বিভিন্ন কারাগারে বন্দীদের ব্যবহারে দেওয়া হচ্ছে। এতে সরকারের কারাগারে ব্যয়ের কিছু টাকা বেঁচে যাচ্ছে। এসব সাবান তৈরির কাজে নিয়োজিত বন্দী কারিগররা প্রতি মাসে ৫ থেকে ৬ হাজার আয় করবেন। যা তারা নিজের জন্য ব্যয় করার পর বাকি টাকা পরিবারকে পাঠাতে পারবেন। এমন সুযোগ তৈরি করতে যাচ্ছে কারা কর্তৃপক্ষ। ইতোমধ্যে সেই কাজ শুরুও হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে পুরান ঢাকায় অবস্থিত কারা অধিদফতরের প্রধান কার্যালয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে এসব তথ্য জানান কারা মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজন) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহার হোসেন।

তিনি বলেন, কারাগারকে শুধু শাস্তির জায়গা হিসেবে না দেখে বন্দীদের সংশোধন ও পুনর্বাসনের দিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্যে খেলাধুলা, মনোসামাজিক সহায়তা এবং বিভিন্ন কর্মমুখী প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, বন্দীদের দক্ষতা বাড়াতে ৩৯টি ক্যাটাগরিতে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। এসব প্রশিক্ষণকে সার্টিফিকেশনের আওতায় আনার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। কারাগারে থাকা বন্দীদের মধ্যে যারা পড়াশোনায় আগ্রহী, তাদের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার সুযোগ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। একটি কারাগারকে স্টাডি সেন্টার হিসেবে ব্যবহারের পরিকল্পনাও রয়েছে।

কারা মহাপরিদর্শক বলেন, বন্দীদের উৎপাদনমুখী করতে কাশিমপুর কারাগারে সাবান তৈরির কারখানা চালু করা হয়েছে। সেখানে বন্দীরাই সাবান তৈরি করছেন। পরে এসব সাবান কারাগারে বন্দীদের ব্যবহারের জন্য দেওয়া হচ্ছে। এতে একদিকে সরকারের বাইরে থেকে সাবান কেনার খরচ কমছে। কারা বন্দীরা ভেতরে আয় করে পরিবারকে পাঠাতে পারবেন জানিয়ে তিনি বলেন, বন্দীরাও উৎপাদনের মাধ্যমে আয় করার সুযোগ পাচ্ছেন। সংশ্লিষ্ট বন্দীরা মাসে প্রায় ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করতে পারবেন। নিজেদের খরচ মেটানোর পাশাপাশি পরিবারের জন্যও অর্থ পাঠানোর সুযোগ থাকবে। এ কাজে বন্দীদের আগ্রহ ব্যাপক। প্রায় ২০ হাজারের মতো আবেদন করেছেন। কাজের সুযোগের তুলনায় আগ্রহী বন্দীর সংখ্যা কয়েক গুণ বেশি। এতে করে তাদের পরিবারগুলো কিছুটা সাপোর্ট পাবে। সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি বলেন, গত দুই বছরে নেওয়া এসব উদ্যোগ কোনো বিচ্ছিন্ন কর্মসূচি নয়। দীর্ঘমেয়াদি কারা সংস্কার ও আধুনিকায়নের অংশ হিসেবেই এগুলো বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকালে দেশের বিভিন্ন কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়া ২ হাজার ২৪৭ জন বন্দীর মধ্যে বর্তমানে ৬৯০ জন এখনো পলাতক। তাদের মধ্যে নরসিংদী কারাগার থেকে পালানো ১৬৬ জনের কোনো তথ্য এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন আইজি প্রিজন। তিনি বলেন, কারাগারের তথ্য ও সার্ভার পুড়ে যাওয়ায় তাঁদের পরিচয়-সংক্রান্ত তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না। তবে পলাতকদের তথ্য উদ্ধারে আদালত থেকে তথ্য নেওয়া হচ্ছে। অন্য পলাতকদের বিষয়ে তথ্য পাওয়া গেছে এবং তাদের নামে মামলা করা হয়েছে। কারাগারে থাকা কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা মোবাইল ফোনে কোনো অবৈধ সুবিধা ভোগ করছেন কি না, সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে আইজি প্রিজন বলেন, অবৈধ মোবাইল ফোনের ব্যবহার ঠেকাতে গত এক বছরে বিভিন্ন কারাগার থেকে প্রায় তিন হাজারের বেশি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। এ সময় বিভিন্ন অনিয়মের সঙ্গে জড়িত অভিযোগে এক হাজারের বেশি কারারক্ষীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। আইজি প্রিজন বলেন, শুরুর দিকে অবৈধ মোবাইল ফোনের সংখ্যা বেশি থাকলেও ধীরে ধীরে তা কমে এসেছে। কোনো কারারক্ষী বা অন্য কেউ অবৈধভাবে মোবাইল ফোন ঢোকানোর সঙ্গে জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

কারাগার নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে আইজি প্রিজন বলেন, অভিযোগগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের চেষ্টা চলছে। দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি প্রায় ৬০টি কারাগার পরিদর্শন করেছেন। এসব সফরে জেল সুপারদের উপস্থিতির বাইরে বন্দীদের সঙ্গে আলাদাভাবে কথা বলার চেষ্টা করেছেন বলেও জানান তিনি। কারাগারের খাবারের পরিমাণ নিয়ে বর্তমানে তার কাছে কোনো অভিযোগ নেই বলে জানান আইজি প্রিজন। বিভিন্নভাবে তদন্ত করে তারা দেখেছেন, বরাদ্দের পুরো চাল রান্না করলে অনেক সময় খাবার নষ্ট হয়। এ কারণে চালের পরিমাণ কিছুটা কমিয়ে অন্য কাজে ব্যবহারের জন্য সরকারের কাছে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। সকালের রুটি, সবজি, মাছ ও তরকারির বিষয়ে তিনি বলেন, শক্ত হওয়া ছাড়া বাকি খাবার তার দৃষ্টিতে পর্যাপ্ত। তবে খাবারের স্বাদ নিয়ে অভিযোগ আছে। বন্দীদের দিয়েই রান্না করানো হয় বলে দক্ষতার অভাবে অনেক সময় খাবারের স্বাদে সমস্যা হতে পারে। এ কারণে মসলা বাড়ানোর প্রক্রিয়া নেওয়া হয়েছে। আইজি প্রিজনের ভাষ্য, আগে বাইরে থেকে রান্না করা খাবার বা বাসা থেকে খাবার কারাগারে যাওয়ার অভিযোগ থাকলেও বর্তমানে দু-একটি ব্যতিক্রম ছাড়া তা হচ্ছে না। প্রায় ৮৫ থেকে ৯০ হাজার বন্দী এই ব্যবস্থার খাবার গ্রহণ করছেন। আর্থিকভাবে সক্ষম বন্দীদের জন্য কারাগারের ক্যানটিন থেকে সীমিত পরিমাণে বিভিন্ন জিনিস কেনার সুযোগ আছে। ক্যানটিনে অতিরিক্ত দামের অভিযোগের বিষয়ে কারা মহাপরিদর্শক বলেন, কেন্দ্রীয় দলের মাধ্যমে দাম নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হয়। কোথাও অতিরিক্ত দাম বা অব্যবস্থাপনা পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। স্বচ্ছতা বাড়াতে বন্দীদের জন্য নির্ধারিত পণ্যের দাম বড় অক্ষরে টাঙানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সম্মেলনে জানানো হয়েছে, ক্যানটিনের লেনদেনে ক্যাশলেস ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে। এতে বন্দী তাঁর আরএফআইডি ও আঙুলের ছাপ ব্যবহার করে টাকা উত্তোলন ও কেনাকাটা করতে পারবেন। ফলে পুরো লেনদেনের রেকর্ড থাকবে। মুন্সিগঞ্জে এই ব্যবস্থা চালু হয়েছে। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারেও তা চালুর পরিকল্পনা আছে। সরকারি অতিরিক্ত অর্থ ছাড়াই পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের মাধ্যমে এটি করা হচ্ছে। কারাগারে মাদক প্রবেশের বিষয়ে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হচ্ছে না জানিয়ে আইজি প্রিজন বলেন, বর্তমানে প্রায় ২০ হাজার বন্দী মাদকসংক্রান্ত মামলায় কারাগারে আছেন। তাদের বড় একটি অংশ মাদকসেবী। মাদক না পেলে তাদের কেউ অসুস্থ হয়ে পড়ছেন, কেউ সহিংস আচরণ করছেন, আবার কেউ কথা শুনছেন না।

মাত্র দু’জন চিকিৎসক

কারাগারে চিকিৎসকের অনুমোদিত পদ ১৫১টি। এর মধ্যে মাত্র দুজন চিকিৎসক পদায়িত আছেন। অন্য কারাগারগুলোতে সিভিল সার্জনের মাধ্যমে সাময়িকভাবে চিকিৎসক পাওয়া যায়। বর্তমানে বিভিন্ন কারাগারে ১০১ জন চিকিৎসক অস্থায়ী ভিত্তিতে কাজ করছেন বলে জানান আইজি প্রিজন। কারা মহাপরিদর্শক বলেছেন, চিকিৎসকের স্বল্পতার কারণে ফার্মাসিস্ট ও ডিপ্লোমা নার্সদের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। সম্প্রতি পিএসসি থেকে ৫৫ জন নার্সের নিয়োগপত্র দেওয়া হয়েছে। তারা শিগগিরই যোগ দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। ফার্মাসিস্টও নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সম্মেলনে আইজি প্রিজন জানিয়েছেন, ২০২৫ সালে কারাগারে ১৮৬ বা ১৮৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। চলতি বছর এখন পর্যন্ত ১২২ জনের মৃত্যুর তালিকা আছে। বর্তমানে ১২২ জন বন্দী কারাগারের বাইরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। গত সাত মাসে ৫৬ হাজার বন্দীকে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তার ভাষ্য, কোনো বন্দী অসুস্থ হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী তাকে হাসপাতালে পাঠানো হয়। গভীর রাতেও জরুরি পরিস্থিতিতে পুলিশ স্কোয়াড পাওয়া না গেলে নিজেদের স্কোয়াড দিয়ে বন্দীকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে অ্যাম্বুলেন্সের স্বল্পতার কারণে কখনো কখনো হাসপাতালে নেওয়ার পথেই বন্দীর মৃত্যু ঘটে। বন্দীর মৃত্যুর প্রতিটি ঘটনা তদন্ত করা হয়। প্রয়োজন হলে ফরেনসিক পরীক্ষা করে তা নথিবদ্ধ করা হয়। হাসপাতালে নেওয়ার ক্ষেত্রে সময় বেশি লাগার দুটি অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং এসব ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের শাস্তির আওতায় আনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আইজি প্রিজন।

বন্দীর সংখ্যা ৯৮ হাজার

কারাগারে বন্দীর সংখ্যা বাড়ছে উল্লেখ করে আইজি প্রিজন বলেন, আগে গড়ে প্রায় ৮০ হাজার বন্দী নিয়ে কারাগার পরিচালিত হলেও বর্তমানে প্রায় ৯৮ হাজার বন্দী আছেন। প্রতিদিনই বন্দীদের আসা-যাওয়া চলছে। গতকাল সোমবার ২ হাজার ৭৯৬ জন বন্দী কারাগারে এসেছেন এবং ৩ হাজার ৪৯ জন বের হয়েছেন। গত ১ জুন থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত ভ্রাম্যমাণ আদালতে ২৬ হাজারের বেশি আসামী দণ্ডিত হয়ে কারাগারে এসেছেন। এক দিন থেকে শুরু করে পাঁচ দিন, সাত দিন, এক মাস বা তিন মাসের মতো অল্প মেয়াদের সাজা পাওয়া এসব বন্দী কারাগারের সংখ্যা বাড়ানোর অন্যতম কারণ উল্লেখ করে আইজি প্রিজন বলেন, বিষয়টি সরকারকে জানানো হয়েছে। আইজি প্রিজন বলেন, বন্দীর সংখ্যা বাড়লেও বর্তমানে খাবারের পরিমাণ কমিয়ে দেওয়ার কোনো সমস্যা নেই। তবে ভবিষ্যতে বন্দীর সংখ্যা আরও বাড়লে খাবারের খাতে সরকারের রাজস্ব বাজেট বাড়াতে হবে। সম্মেলনে আইজি প্রিজন আরও জানিয়েছেন, নতুন কারাগারগুলোতে সুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (এসটিপি) স্থাপন নিশ্চিত করা হচ্ছে। তবে কিছু পুরোনো কারাগারে এসটিপি থাকার পরও সেগুলো সচল নেই। স্থানীয় একটি কোম্পানি ও একটি কোরিয়ান প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথভাবে এসব এসটিপি পুনরায় চালুর কাজ চলছে। পুরোনো কারাগারগুলোর অবকাঠামোগত সমস্যার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, পুরোনো অনেক কারাগার আশপাশের এলাকার তুলনায় নিচু হয়ে যাওয়ায় বৃষ্টির সময় জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। এসব কারাগার সংস্কার বা পুনর্র্নিমাণের মাধ্যমে উচ্চতা বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে বলে জানান তিনি। তিনি বলেছেন, সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের সঙ্গে বসে বিষয়টি কীভাবে আরও নিয়মতান্ত্রিক করা যায়, তা নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। বেল বন্ড যাচাইসহ বিভিন্ন সরকারি সংস্থার কিছু প্রক্রিয়া থাকায় সময় লাগে। তবে অযাচিতভাবে কাউকে আটকে রাখা যাতে না হয়, সে বিষয়ে কাজ চলছে। এ ধরনের অভিযোগ ধীরে ধীরে কমে এসেছে। বিনা আইনজীবীতে থাকা অসহায় বন্দীদের আইনি সহায়তা দেওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে জানিয়ে আইজি প্রিজন বলেন, কারাগারে থাকা বন্দীদের মধ্যে প্যারালিগ্যাল কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় তথ্য সরকারি পিপি ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার কাছে দেওয়া হয়। আইনজীবী নেই, এমন বন্দীদের সরকারি ব্যবস্থায় লিগ্যাল এইড সহায়তা দেওয়ার ব্যবস্থা আছে।

বিদেশী বন্দী ৩৭৯

সাংবাদিক সম্মেলনে জানানো হয়েছে, বর্তমানে দেশের বিভিন্ন কারাগারে ৩৭৯ জন বিদেশী বন্দী আছেন। তাঁদের মধ্যে সাজা শেষ করে দেশে ফেরার অপেক্ষায় আছেন ১৭০ জন। তাদের নিজ নিজ দূতাবাস, সংশ্লিষ্ট সংস্থা ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।বিদেশি বন্দীদের মৃত্যুর পর মরদেহ সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার বিষয়েও তথ্য দেন আইজি প্রিজন। তিনি জানান, গত দুই বছরে প্রায় ১৭টি এমন মরদেহের ব্যবস্থাপনা করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি বা দুটি মরদেহ ভারতে পাঠানো সম্ভব হয়েছে। বর্তমানে তিনটি লাশ বিভিন্ন হিমাগারে সংরক্ষিত আছে। সরকারি সিদ্ধান্ত পাওয়ার পর নিয়ম অনুযায়ী সেগুলো নিষ্পত্তি করা হবে।