• আইনগুলো নিয়ে তীব্র আপত্তি তোলে বিরোধী দল

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন শেষ হয়েছে নানা ঘটনা ও বিতর্কের মধ্য দিয়ে। নয় কার্যদিবসের এ অধিবেশনে ছয়টি বিল পাস হয়েছে। গঠন ও পুনর্গঠন করা হয়েছে ৩৫টি সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। গঠন করা হয়েছে তিনটি বিশেষ কমিটিও। কমিটির সভাপতির পদ বণ্টন নিয়ে বিরোধী দলের ওয়াকআউট, স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সংসদে উত্তেজনা এবং গ্যাস-বিদ্যুৎ, সার, দুর্নীতি ও ঋণখেলাপি নিয়ে সরকারের জবাব ছিল আলোচনায়। তবে সরকার কোরআন সুন্নাহ বিরোধী সম্পত্তি হস্তান্তর বিল ২০২৬ইং, র‌্যাবের নাম পরিবর্তন করে এসবিআর বিল ও মানবাধিকার আইন করা নিয়ে বিতর্ক বেশি হয়েছে। আইনগুলো আলেম ওলামা এবং সংশ্লিষ্ট সুবিধাভোগীদের আপত্তি এবং বিরোধী দলের তীব্র সমালোচনার মুখেও তাদের পাশ কাটিয়ে সরকার আইনগুলো পাশ করেছে জাতীয় সংসদে।

গত ২৭ আগস্ট শুরু হয়ে বৃহস্পতিবার শেষ হওয়া এ অধিবেশনে আইন প্রণয়নের পাশাপাশি সংসদীয় আচরণ ও মতপ্রকাশের অধিকার নিয়েও বিতর্ক হয়েছে। অধিবেশনের শেষ দিকে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমানের বক্তব্যে উঠে আসে সংসদে সহনশীলতা, যুক্তিনির্ভর বিতর্ক এবং সরকারের সামনে থাকা বিভিন্ন সংকটের কথা।

তৃতীয় অধিবেশনে পাস হওয়া ছয়টি বিলের মধ্যে রয়েছে—ব্যাংক রেজল্যুশন (সংশোধন) বিল, ২০২৬; আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) বিল; এসবিআর বিল; সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল, ২০২৬; জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (সংশোধন) বিল এবং গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল। ব্যাংক খাতের সংকট মোকাবিলা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাঠামো ও ক্ষমতা, সম্পত্তি হস্তান্তর, মানবাধিকার এবং গুমের মতো বিষয়ে আইনি কাঠামো তৈরিতে এসব বিল আনা হয়। অধিবেশনে ৩৫টি সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠন ও পুনর্গঠন করা হয়। গঠন করা হয় তিনটি বিশেষ কমিটিও। তবে স্থায়ী কমিটির সভাপতির পদ বণ্টন নিয়ে আপত্তি জানায় জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন বিরোধী দল। দলটির বক্তব্য ছিল, সংসদে তাদের প্রতিনিধিত্ব থাকা সত্ত্বেও গুরুত্বপূর্ণ কমিটির সভাপতির পদে তাদের যথাযথ অংশ দেওয়া হয়নি। এ নিয়ে একপর্যায়ে জামায়াতের সদস্যরা সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেন।

সংসদে পাস হওয়া আইনগুলোর মধ্যে সবচেয়ে আপত্তিকর আইন ছিল সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল, ২০২৬’। বিলটি পাসের মাধ্যমে ১৮৮২ সালের মূল সম্পত্তি হস্তান্তর আইনটি যুগোপযোগী করতে একটি বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। গত ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে এটি জাতীয় সংসদে পাস হয় এবং ইতিমধ্যে এর গেজেটও প্রকাশ করা হয়েছে। এই সংশোধিত আইনের মূল লক্ষ্য হলো বৃদ্ধ বয়সে মা-বাবা বা অভিভাবকেরা যাতে নিজেদের বাড়ি বা জমি সন্তানদের দান করার পর আবাসনহীন বা অসহায় হয়ে না পড়েন। আইনের মূল সুবিধাসমূহ ও নতুন নিয়মের মধ্যে আজীবন ভোগদখলের অধিকার ( Usufruct Rights ): কোনো ব্যক্তি তার জীবদ্দশায় সন্তান, নাতি-নাতনি বা জীবনসঙ্গীকে সম্পত্তি দান ( Gift ) করলেও, দাতা চাইলে ওই সম্পত্তিতে নিজের আজীবন বসবাস এবং তা থেকে আয় বা সুবিধা ভোগের আইনি অধিকার ধরে রাখতে পারবেন। সম্পত্তির মালিকানা গ্রহীতার কাছে চলে গেলেও দাতাকে সেখান থেকে উচ্ছেদ করা যাবে না। গ) এই বিশেষ সুবিধাটি কেবল বাবা-মা ও সন্তান, দাদা-দাদি/নানা-নানি ও নাতি-নাতনি (অথবা বিপরীতভাবে) এবং স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে করা হস্তান্তরের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। স্থাবর সম্পত্তির ক্ষেত্রে আজীবন অধিকারের এই শর্তটি রেজিস্ট্রিকৃত মূল দলিলে স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকতে হবে। গ্রহীতার মৃত্যু হলে যদি সম্পত্তি গ্রহীতা (যেমন: সন্তান) দাতার জীবদ্দশায় মারা যান, তবে সম্পত্তির মালিকানা উত্তরাধিকার আইন অনুযায়ী সন্তানের ওয়ারিশদের কাছে যাবে, কিন্তু দাতার আজীবন ভোগদখলের অধিকার অপরিবর্তিত থাকবে। দলিল বাতিল বা সংশোধনের ক্ষেত্রে রেজিস্ট্রি করার পর এই দলিল সাধারণত এককভাবে বাতিল করা যাবে না। তবে চিকিৎসা, শিক্ষা বা পারিবারিক জরুরি প্রয়োজনে উভয় পক্ষ যৌথভাবে আরেকটি রেজিস্ট্রি দলিলের মাধ্যমে এটি সংশোধন বা বাতিল করতে পারবে।

বিতর্ক ও বিরোধিতার মূল কারণ ছিল এই আইনটি পাস করার সময় সংসদে প্রধান বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ওয়াকআউট করে এবং সংসদের বাইরে বিভিন্ন ইসলামী দল, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, হেফাজতে ইসলাম তীব্র বিরোধিতা করে। তাদের আপত্তির মূল কারণগুলো হলো -শরিয়াহ আইনের সাথে সংঘাত। বিরোধীদের দাবি, ইসলামের ‘হেবা’ বা দান সংক্রান্ত বিধান অনুযায়ী কোনো জিনিস সম্পূর্ণ নিঃশর্তভাবে হস্তান্তর করতে হয়। শর্তযুক্ত এই দান ব্যবস্থা ইসলামের সম্পত্তি বণ্টন ও উত্তরাধিকার নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। বিলটি পাসের আগে দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেম-ওলামা এবং ইসলামী আইন বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেওয়া হয়নি বলে আপত্তি তোলা হয়। তবে সরকারের পক্ষ থেকে আইনমন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন যে, এই আইনটি দেশের সব ধর্মের মানুষের ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রযোজ্য হবে এবং এটি প্রচলিত মুসলিম পারিবারিক আইন বা সাধারণ ‘হেবা’ প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করবে না, বরং এটি একটি নতুন ও বিকল্প আইনি কাঠামো তৈরি করল।

সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের সংশোধনীকে গুরুত্বপূর্ণ বলে অভিহিত করেন চিফ হুইপ। তিনি বলেন, এর মাধ্যমে বাবা-মা তাঁদের জীবদ্দশায় সন্তানকে সম্পত্তি দান বা হস্তান্তর করার পরও সেই সম্পত্তি ভোগ করার অধিকার পাবেন। এর লক্ষ্য বৃদ্ধ মা-বাবাকে সুরক্ষা দেওয়া। অনেক ক্ষেত্রে সন্তানকে সম্পত্তি দেওয়ার পর বাবা-মা বৃদ্ধাশ্রমে থাকেন বা তাঁদের ভরণপোষণ হয় না। নতুন আইনে তাঁদের জীবদ্দশায় সম্পত্তির ওপর ভোগের অধিকার নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হয়েছে।

মানবাধিকার আইন এবং র‌্যাবের নাম পরিবর্তন করে পাশ করা বিল নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক হয়েছে এবারের অধিবেশনে। সংসদে প্রধান বিরোধী দল (বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী) এবং দেশের মানবাধিকার কর্মীরা এই বিলটির তীব্র বিরোধিতা করেছেন। তাদের আপত্তির মূল কারণগুলো হলো "নতুন পোশাকে একই র‌্যাব" ( Same RAB in new garb ) বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এবং অন্যান্য সংসদ সদস্যরা সমালোচনা করে বলেছেন, এই আইনের মাধ্যমে কেবল র‌্যাবের ‘সাইনবোর্ড’ বা নাম বদলানো হচ্ছে. র‌্যাবের পুরোনো জনবল, সম্পদ এবং কাঠামো ঠিক রেখে যেভাবে বিলটি পাস হলো, তাতে শুধু কাগজে-কলমেই পরিবর্তন আসবে, বাস্তবে চরিত্র বদলাবে না।

মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, আগের কাঠামো ঠিক রেখে যেভাবে বিল পাস হলো, তাতে কাগজে-কলমেই শুধু র‌্যাবের নাম বিলুপ্ত হবে। ২০০৩ সালে ‘আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন অর্ডিন্যান্স’ সংশোধন করে র‌্যাব গঠনের আইনি ভিত্তি দেওয়া হয়েছিল। নানা কর্মকাণ্ডে বাহিনীটি সমালোচিত হয়। গত বৃহস্পতিবার সংসদে ‘আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন অর্ডিন্যান্স’ রহিত করে নতুন এপিবিএন আইন করতে আরেকটি বিলও পাস হয়েছে। র‌্যাবের অতীত কর্মকাণ্ড বিবেচনায় নিয়ে জাতিসংঘ, গুম-সংক্রান্ত তদন্ত কমিশন এবং দেশি-বিদেশি মানবাধিকার সংগঠনগুলো বিভিন্ন সময়ে বাহিনীটি বিলুপ্ত করার সুপারিশ করেছিল। মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে ২০২১ সালের ১০ ডিসেম্বর র‌্যাব এবং বাহিনীটির তৎকালীন ও সাবেক সাত কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। এরই ধারাবাহিকতায় র‌্যাব বিলুপ্তির উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানায় বর্তমান সরকার। তবে র‌্যাব বিলুপ্ত করে একই কাঠামোতে এসআরবি গঠনে মন্ত্রিসভায় আইনের খসড়া পাস হওয়ার পর থেকে বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিলটি অবিলম্বে বিবেচনার জন্য সংসদে তোলেন। বিলটি নিয়ে জনমত যাচাই ও বাছাই কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাব দিয়ে আলোচনায় অংশ নেন বিরোধী দলের সদস্যরা। বিরোধী দলের আপত্তিগুলো কণ্ঠভোটে নাকচ হওয়ার পর বিলটি সংসদে পাস হয়।

অবশ্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ দাবি করেছেন, বিএনপির প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এই আইন পাসের মধ্য দিয়ে র‌্যাব বিলুপ্ত হচ্ছে। র‌্যাবের সঙ্গে এসআরবির কোনো সংস্পর্শ নেই। এসআরবি বিলে বলা হয়েছে—র‌্যাবের জনবল, আদেশ, ক্ষমতা, কর্তৃত্ব, বিদ্যমান সুবিধা, তহবিল, নগদ ও ব্যাংকে রাখা অর্থ, দায়, চুক্তি, স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি, রেজিস্টার, রেকর্ডপত্রসহ সব দলিল এসআরবির কাছে স্থানান্তর হবে।

বিলের আলোচনায় বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেন, এই বাহিনীর বিলুপ্তি ছিল সবার দাবি। বেগম খালেদা জিয়াও বারবার এ বিষয়ে কথা বলেছেন। দেশি-বিদেশি মানবাধিকার সংস্থাগুলো কথা বলেছে। এটা বিলুপ্ত করে আরেকটা বাহিনী গঠনের দাবি কারোরই ছিল না। শুধুই বিলুপ্তির দাবি ছিল। বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘আমরা এখন দেখতে পাচ্ছি যে সরকারি তরফ থেকে ঠিক একই ধরনের আরেকটা বাহিনী বিল্ড আপ করার দাবি নিয়ে আসা শুধু হয়নি, হুবহু বাহিনীটাকে জায়গায় রেখে সবকিছু জায়গায় রেখে, একটা প্রস্তাবনা নিয়ে আসা হয়েছে। ’বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, এই আইনটা কোনো অবস্থাতেই পাস করা উচিত নয়। আইনটা ফিরিয়ে নেওয়া দরকার।

আইনের খসড়ায় জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে ‘স্বাধীন প্রতিষ্ঠান’ বলা হয়েছে। কিন্তু ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন, ২০২৬’-এর খসড়ায় এই সুরক্ষা পাওয়ার সুযোগ নেই। কারণ, অভিযোগটি যদি কোনো শৃঙ্খলা বাহিনী বা তার সদস্যের বিরুদ্ধে হয়, তাহলে কমিশন নিজে স্বাধীনভাবে তদন্ত করতে পারবে না। প্রথমে তাকে অভিযুক্ত বাহিনী বা প্রতিষ্ঠানের কাছেই ঘটনার প্রতিবেদন চাইতে হবে। এখানেই জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইনের খসড়াটি নিয়ে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। মানবাধিকারকর্মী মো. নূর খান মনে করেন, এ আইনে আমাদের প্রত্যাশা পূরণে ঘাটতি থেকে যাবে। শৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে তদন্তের এখতিয়ার না রাখায় মানবাধিকারের মৌলিক চেতনাই অগ্রাহ্য হবে।’ টিআইবিও সাম্প্রতিক প্রতিক্রিয়ায় বলেছে, ২০০৯ সালের আইনের বিতর্কিত বিধান বহাল রেখে কমিশনকে সরকার বা বাহিনীপ্রধানের প্রতিবেদনের ওপর নির্ভরশীল করা হয়েছে।

কমিটিতে মানবাধিকার বিষয়ে অভিজ্ঞ তিনজন রাখা হলেও ৯ সদস্যের মধ্যে স্পিকার, দুই মন্ত্রী, সরকারদলীয় সংসদ সদস্য, মন্ত্রিপরিষদ সচিবসহ অন্তত পাঁচজন সরাসরি রাষ্ট্র ও ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক কাঠামোর অংশ। বিরোধী দলের সংসদ সদস্য ও স্বাধীন সদস্যরা একমত হলেও তাঁরা সংখ্যাগরিষ্ঠ হতে পারবেন না। কোরাম হবে ৫ সদস্য নিয়ে। সিদ্ধান্ত হবে উপস্থিত সদস্যদের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে। ভোট সমান হলে সভাপতির নির্ণায়ক ভোট থাকবে। ফলে স্বাধীন বা বিরোধী প্রতিনিধিদের অনুপস্থিতিতেও নিয়োগের সুপারিশ করার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, কমিশনের বাছাই কমিটিতে যাঁদের রাখা হয়েছে, একজন সদস্য বাদে বাকি প্রায় সবাই সরাসরি বা পরোক্ষভাবে রাষ্ট্রপতি-সংশ্লিষ্ট। এভাবে কমিশনের প্রকৃত স্বাধীনতা প্রশ্নসাপেক্ষ হয়ে ওঠে। তা ছাড়া যে সংস্থাগুলোর বিরুদ্ধে অপেক্ষাকৃত বেশি মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে, তাদের প্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে তদন্তের ব্যবহারিক পদক্ষেপ নেওয়ার দায়িত্বও কার্যত তাদেরই হাতে ন্যস্ত থাকছে। ধারা ও বিধানগুলো এমনভাবে সাজানো হয়েছে যাতে তারা যেকোনো পরিস্থিতিতে সুরক্ষা পায়। মৌলিক দিক থেকে ২০০৯ সালের আইনের সঙ্গে এর তেমন পার্থক্য নেই।

অধিবেশনের আলোচিত ঘটনাগুলোর একটি ছিল স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সংসদে উত্তেজনা। ব্যাংক রেজল্যুশন বিলের আলোচনায় রুমিন ফারহানা গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট, সার ব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি, অনিয়ম ও ঋণখেলাপির বিষয় তুলে সরকারের সমালোচনা করেন। তার বক্তব্যের সময় সংসদে হইচই শুরু হয়। একপর্যায়ে কয়েকজন সদস্যের আচরণ নিয়েও আপত্তি ওঠে। রুমিন ফারহানা বলেন, কোনো সদস্যের বক্তব্য পছন্দ না হলে তার জবাব যুক্তি দিয়ে দেওয়া যেতে পারে। বক্তব্য চলার সময় বাধা দেওয়া বা অশালীন ভাষা ব্যবহার করা কোনো গণতান্ত্রিক দেশের সংসদীয় রীতির মধ্যে পড়ে না।

এ বিষয়ে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল ও স্পিকার হাফিজউদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম সংসদীয় রীতিনীতি মেনে চলার ওপর গুরুত্ব দেন। স্পিকার বলেন, পয়েন্ট অব অর্ডার বা বৈধতার প্রশ্ন তোলার নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে। ইচ্ছা করলেই কোনো বক্তব্যকে পয়েন্ট অব অর্ডার হিসেবে সংসদে তোলা যায় না। অসংসদীয় শব্দ থাকলে তা কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার বিধানও রয়েছে।

অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীকে প্রশ্ন করার জন্য সংসদ সদস্যরা ১৪৪টি নোটিশ দেন। এর মধ্যে ১৫টি প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীদের কাছে সংসদ সদস্যরা ২ হাজার ৬৭৬টি প্রশ্ন পাঠান। এর মধ্যে ১ হাজার ৬৭৮টির উত্তর দেওয়া হয়েছে।