কলকাতার নিউমার্কেট এলাকায় হোটেল অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৯ জনের ময়নাতদন্ত শেষ হয়েছে। নিহতদের মধ্যে সাতজন বাংলাদেশী নাগরিক। কলকাতাস্থ বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশন সূত্র জানিয়েছে, আগামী শনিবার বাংলাদেশী নাগরিকদের লাশ দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার প্রস্তুতি চলছে। এএনআই, রয়টার্স
গতকাল বৃহস্পতিবার কলকাতা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের মর্গে নিহত নয়জনের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। দুই ভারতীয় নাগরিকের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হলেও সাত বাংলাদেশীর লাশ মর্গেই রাখা হয়েছে। কলকাতাস্থ বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশন সূত্রে জানা গেছে, কাল শনিবারের মধ্যে লাশগুলো দেশে ফেরত পাঠানো হবে।
ইতোমধ্যে কুষ্টিয়ার নিহত সাংবাদিক দেবাশীষ দত্তের পরিবারের সদস্যরা এবং সাতক্ষীর মোহাম্মদ আলিমুজ্জামানের পরিবারের সদস্যরা কলকাতায় পৌঁছেছেন। ভারতীয় দুই নাগরিক সন্দীপ পাশওয়ান ও যোগ নারায়ণ আগারওয়ালের পরিবারের সদস্যরাও মর্গে উপস্থিত হন।
মোহাম্মদ আলিমুজ্জামানের ভাগ্নে মোহাম্মদ আমিনুল হক আলিমুজ্জামান তার মামা। তিনি কলকাতায় অবস্থান করছিলেন। বাংলাদেশ থেকে মামার মৃত্যুর খবর পেয়ে লাশ দেখতে মর্গে এসেছেন। ব্যবসায়ী আলিমুজ্জামান চিকিৎসার জন্য কলকাতায় এসেছিলেন বলেও জানান তিনি।
প্রাথমিকভাবে এসি মেশিনে বিস্ফোরণ বা শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে জানা গেছে। পরে আগুন হোটেলের অন্তত চারটি কক্ষে ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের সঙ্গে ঘন কালো ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়লে অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়েন।ঘটনার তদন্তে কলকাতা পুলিশের পক্ষ থেকে বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট গঠন করা হয়েছে। দলের নেতৃত্বে রয়েছেন কলকাতা পুলিশের ডেপুটি কমিশনার ডিটেকটিভ ডিপার্টমেন্ট। অগ্নিকাণ্ডের উৎস, ভবনের অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় খতিয়ে দেখছে তদন্তকারী দল।
এদিকে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে কলকাতার মির্জা গালিব স্ট্রিট ও সংলগ্ন এলাকার হোটেল ও লজগুলোর অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা পরীক্ষা শুরু করেছে পুলিশ। ইতোমধ্যে কলিন লেনের সাতটি লজ ও চারটি গেস্ট হাউসে আপাতত অতিথি না রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পর্যাপ্ত অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকার কারণও জানতে চাওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে।
শুধু কলকাতা নয়, অগ্নিকাণ্ডের পর পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলাতেও আবাসিক হোটেল ও গেস্ট হাউসে অভিযান শুরু হয়েছে। বীরভূম, ঝাড়গ্রাম, মালদা, উত্তর ২৪ পরগনাসহ বিভিন্ন জেলায় জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা হোটেল ও গেস্ট হাউসগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখছেন।
ঘটনায় ইজারাদার গ্রেপ্তার
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের কলকাতার একটি হোটেলে ভয়াবহ আগুনে নয়জন নিহত হওয়ার ঘটনায় আবু জাফর নামের একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় হোটেলের দুই কর্মীকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে কলকাতা পুলিশ। পুলিশের দাবি, হোটেলটির ইজারাদার হিসেবে আবু জাফরের নাম রয়েছে।
গত বুধবার ভোরে কলকাতার মির্জা গালিব স্ট্রিটের শিখা ইন হোটেলে আগুন লাগে। পরে এ ঘটনায় বিশেষ তদন্ত দল গঠন করে কলকাতা পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, আবু জাফরকে কলকাতার এনটালি মেইন মার্কেট এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গত মঙ্গলবার দিবাগত রাত দুইটার দিকে নিউমার্কেট থানায় হোটেলে আগুন লাগার খবর আসে। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে যায়। একই সঙ্গে ফায়ার সার্ভিস ও কলকাতার বিদ্যুৎ সরবরাহকারী সংস্থাকে খবর দিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে বলা হয়।
দীর্ঘ সময় ধরে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা হোটেল থেকে প্রায় ৬০ জনকে উদ্ধার করে নিরাপদে সরিয়ে নেন। এ সময় নয়জনকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। তাঁদের মধ্যে দুজন নারী ও একটি শিশুও ছিল। পরে তাঁদের হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। সেখানে পর্যাপ্তসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তবে আগুন লাগার সঠিক কারণ এখনো জানা যায়নি।
নিহতদের মধ্যে ৭ বাংলাদেশী
ভয়াবহ এ দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে সাতজন বাংলাদেশের নাগরিক। দু’জন ভারতীয়। আহত হয়েছেন ছয়জন। তাঁদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
আগুনে মারা যাওয়া বাংলাদেশীদের মধ্যে চারজন কুষ্টিয়ার, একজন ঢাকার এবং দুজন সাতক্ষীরার। কুষ্টিয়ার চারজন হলেন দেবাশীষ দত্ত (৩৯), তাঁর স্ত্রী আফসানা শারমীন (২৭), ছেলে শর্ণশীষ দত্ত (৩) ও শ্বশুর আকরাম হোসেন (৬০)।
চিকিৎসার জন্য ১৫ দিন আগে এই পরিবারের সদস্যরা ভারতে গিয়েছিলেন। ঢাকার সাভারের যে ব্যক্তি মারা গেছেন, তাঁর নাম আহমেদ বাবু (৩৭)। আর সাতক্ষীরার দুজন হলেন এস এম আলিমুজ্জামান ও রেবতী সরকার। তাঁরা সাতক্ষীরার কালিগঞ্জের বাসিন্দা।
এ ছাড়া পূর্ব ভারতের ঝাড়খন্ডের এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে, নাম সন্দীপ পাশওয়ান। তিনি ওই হোটেলের কর্মচারী ছিলেন। আরেকজন যোগনারায়ণ আগরওয়াল (৬৮), তাঁর বাড়ি পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়ি।
কলকাতার হোটেলগুলোর অনুমোদন যাচাই
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন পশ্চিমবঙ্গের পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তিনি বলেন, কলকাতায় যেসব হোটেল চলছে, সেগুলোর বৈধ অনুমতিপত্র ও অগ্নিনিরাপত্তার ছাড়পত্র আছে কি না, তা যাচাই করতে একটি দল গঠনের পরিকল্পনা করছে রাজ্য সরকার।
মন্ত্রী বলেন, ওই ভবনের ৩টি তলায় প্রায় ১০টি হোটেল চালানো হচ্ছিল। কক্ষগুলোও ছিল ছোট। এ ধরনের ব্যবস্থাপনা কোনোভাবেই চলতে দেওয়া যায় না।
বিপজ্জনক ভবনে আবাসিক হোটেল, ছিলেন ৯৩ পর্যটক
১৫/এ, মির্জা গালিব স্ট্রিটের ওই বহুতল ভবনের হোটেলে ছিলেন ৯৩ জন পর্যটক। এর মধ্যে ছিলেন ৮১ জন বাংলাদেশী। তিনতলায় ‘শিখা ইন’ নামে ওই হোটেলে ভয়াবহ আগুন লাগে। প্রাথমিক অনুমান, এসির বিস্ফোরণ থেকে আগুনের সূত্রপাত। এটি ছিল পরিত্যক্ত আবাসিক ভবন। বাংলাদেশী নাগরিকদের আনাগোনা বাড়তেই রাতারাতি সেই ভবন হয়ে গেল আবাসিক হোটেল। একটি দুটি নয়; সব মিলিয়ে ১০টি হোটেল, গেস্ট হাউস। ঘুপচি ঘরের সেই হোটেলই এখন ‘মৃত্যুপুরী’। বহুতলের পেছন থেকে দেখলে মনে হবে পরিত্যক্ত ভবন। সামনে থেকে চকচকে। জরাজীর্ণ এই ভবনের বাইরে রীতিমতো ডেকোরেটিভ প্যানেল ব্যবহার করে সাজানো হয়েছে। রুমের ভেতরেও দুর্দান্ত ইন্টেরিয়রের কাজ। কিন্তু ছত্রে ছত্রে অব্যবস্থাপনা। পাঁচতলা ভবনের প্রতিটি তলাই কার্যত ভয়াবহ। অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল না! ঘুপচি পায়রার খোপের মতো ঘরেই মানুষজন এসে থাকত। প্রতিটি তলাতেই চলত একাধিক এসি। নিয়মকানুন মানার বালাই ছিল না। দমকল প্রতিমন্ত্রী কৌশিক চৌধুরী প্রশ্ন তুলছেন, ‘এ ধরনের হোটেলগুলো ট্রেড লাইসেন্স পেল? এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হবে। প্রত্যেক অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।’
সিরাজগঞ্জের বাসিন্দা মোহাম্মদ শামীম হোসেন জানান, ‘নিউমার্কেট এলাকার আবাসিক হোটেলগুলোর বেশির ভাগের অবস্থা শোচনীয়। ভেতরের ইলেকট্রিক ওয়্যারিং নিম্নমানের। অধিকাংশ জায়গায় ৫০ বছরের পুরোনো লিফট ব্যবহার করা হচ্ছে। বর্তমান রাজ্য সরকারের কাছে তাঁর আরজি– ‘বিষয়টি যেন গুরুত্ব সহকারে দেখা হয়।’ তবে দুর্ঘটনার পর অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত হোটেলকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন পুরসভার প্রশাসক স্মিতা পাণ্ডে। তিনি জানান, ‘শুধু নিউমার্কেট নয়; কলকাতায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা সব হোটেলই আনা হবে ফায়ার অডিটের আওতায়। কলকাতার ১৬টি বরোতে (একাধিক ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত হয়) পৃথকভাবে তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। এই তদন্ত কমিটি আগামী এক মাসের মধ্যে প্রাথমিক রিপোর্ট জমা দেবে।’
তবে চরম এই গাফিলতির কারণে সাতজন বাংলাদেশী ও দুজন ভারতীয় নাগরিকের প্রাণ গেল। এর পরও গ্রেপ্তার করা যায়নি হোটেলের মালিককে। তাঁর নাম বীরেশ্বর মিত্র। বাড়ি দক্ষিণ কলকাতার বেহালার ৩ নম্বর রায়বাহাদুর রোডে। সেই সূত্র ধরেই সকালে বেহালা থানার পুলিশ ও নিউমার্কেট থানার পুলিশ যৌথভাবে বেহালার ওই আবাসনে পৌঁছে তল্লাশি অভিযান চালায়।পুলিশের তল্লাশিতে ফ্ল্যাটের ভেতরে বীরেশ্বর মিত্রকে পাওয়া যায়নি। তাঁর খোঁজে বাড়ির একতলাতেও তল্লাশি চালানো হয়। বর্তমানে ওই ফ্ল্যাটের নিচে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বীরেশ্বর মিত্রের দুটি গাড়ি রয়েছে। এর একটি বাড়িটির নিচে থাকলেও অপরটি নেই। সেই গাড়ি নিয়েই তিনি এলাকা ছেড়ে পালিয়েছেন বলে অনুমান করছে পুলিশ।
চারটি মামলা হয়েছে
এর মধ্যে কলকাতা পুলিশের পক্ষ থেকে করা হয়েছে তিনটি। এগুলো হলো অনিচ্ছাকৃত খুনের ধারা (১০৫ বিএনএস), অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র (৬১ বিএনএস) এবং সমবেতভাবে অপরাধ (৩/৫ বিএনএস)। অন্যদিকে দমকলের পক্ষ থেকে একটি অভিযোগ করা হয়েছে। পাশাপাশি গোটা ঘটনার তদন্তে কলকাতা পুলিশের পক্ষে একটি সিট গঠন করা হয়েছে, যার নেতৃত্বে রয়েছেন কলকাতা পুলিশের ডেপুটি কমিশনার (গোয়েন্দা) শৈলজা দাস আইপিএস।আগুন লাগা হোটেলটি বিপজ্জনক বিল্ডিং এবং ফায়ার সেফটির কোনো ব্যবস্থাই ছিল না। দমকলের তরফে নোটিশ জারি করে হোটেলের গায়ে লাগানো হয়েছে।
এদিকে নিউমার্কেট এলাকার ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে মিছিল করে হোটেলের সামনে এসে মোমবাতি জ্বালানো হলো ও ফুলের মালা দেওয়া হলো। মৃতদের প্রতি জ্ঞাপন করা হলো বিনম্র শ্রদ্ধা।
দীনেশ ত্রিবেদীর গভীর শোক
কূটনৈতিক রিপোর্টার: কলকাতায় অগ্নিকাণ্ডে ৭ বাংলাদেশীর মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। গতকাল বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে সচিবালয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেনের সঙ্গে শেষে তিনি এ শোক প্রকাশ করেন।
বৈঠক শেষে ভারতের কলকাতায় একটি হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে ৭ জন বাংলাদেশী নাগরিকের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, এই মর্মান্তিক ঘটনায় ক্ষতিপূরণ প্রদান ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতাসহ ভারত সরকারের পক্ষ থেকে যা যা করণীয়, তা বাস্তবায়নে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গত বুধবার কলকাতায় একটি হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে ৭ বাংলাদেশী নিহত হন।
প্রাণ গেল সাতক্ষীরার সাজু-রেবতীর
সাতক্ষীরা সংবাদদাতা:
ভারতের কলকাতায় আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারিয়েছেন সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার দুই বাসিন্দা। নিহতরা হলেন—কালীগঞ্জ উপজেলার তারালী ইউনিয়নের বরেয়া গ্রামের মৃত ইউনুস সরদারের ছোট ছেলে মো. আলিমুজ্জামান সাজু (৪৫) এবং একই ইউনিয়নের তেঁতুলিয়া গ্রামের ভবেশ সরকারের স্ত্রী রেবতী সরকার।
বুধবার রাতে তাদের মৃত্যুর খবর সাতক্ষীরায় পৌঁছালে দুই পরিবারে নেমে আসে শোকের ছায়া। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ।
জানা গেছে, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতার নিউমার্কেট সংলগ্ন মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি আবাসিক হোটেলে মঙ্গলবার গভীর রাতে ভয়াবহ আগুনের সূত্রপাত হয়। ওই সময় হোটেলে অন্তত ২৫ জন বাংলাদেশী নাগরিক অবস্থান করছিলেন। আগুন ও ধোঁয়ার কারণে অনেকেই সময়মতো বের হতে পারেননি।
নিহত সাজু দীর্ঘদিন ধরে কোমরের তীব্র ব্যথায় ভুগছিলেন। উন্নত চিকিৎসার জন্য চার-পাঁচ দিন আগে তিনি ভারতে যান। চিকিৎসা শেষে বুধবারই দেশে ফেরার কথা ছিল তাঁর। কিন্তু স্বজনদের কাছে ফেরার আগেই মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারান তিনি। অবিবাহিত সাজু এলাকায় সৎ, মিষ্টভাষী ও পরোপকারী ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
অন্যদিকে, নিহত রেবতী সরকারের এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে সন্তান, স্বজন ও প্রতিবেশীদের মধ্যে নেমে এসেছে গভীর শোক। এ ঘটনায় সাতক্ষীরার এই দুই বাসিন্দা ছাড়াও কুষ্টিয়ার এক সংবাদকর্মী ও তাঁর পরিবারের সদস্যসহ মোট ৯ জন বাংলাদেশী নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক কায়সার আজিজ জানান, নিহতদের পরিবারের সঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা যোগাযোগ করেছেন। কলকাতায় বাংলাদেশ হাইকমিশন ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিহতদের মরদেহ দেশে আনার প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছে।