- শাপলা চত্বরের হত্যাকাণ্ডকে গণহত্যা হিসেবে বিএনপিই প্রথম স্বীকৃতি দিয়েছিল : তথ্যমন্ত্রী
- শাপলা চত্বরে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে নৃশংসতা চালানো হয়েছিল : মিয়া গোলাম পরওয়ার
- শাপলা শহীদদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি চাই : মামুনল হক
শাপলা স্মৃতি সংসদ আয়োজিত স্মারক গ্রন্থ ‘শহীদনামা’র মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে বিশিষ্টজনরা বলেছেন, ২৪-এর জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান আর ২০১৩ সালের ৫ মে এর ঘটনা বিচ্ছিন্ন নয়। একটির সঙ্গে আরেকটি ফলোআপ হয়ে কর্তৃত্ববাদী শাসনের বিরুদ্ধে এদেশের ১৮ কোটি মানুষের সংগ্রামের একটি বিজয় হয়েছে।
গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় জাতীয় জাদুঘর প্রধান মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সভায় এসব কথা বলেন তারা। শাপলা স্মৃতি সংসদের চেয়ারম্যান মাওলানা মুহাম্মাদ মামুনুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত অনুষ্ঠানে তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার, মানবতাবিরোধী অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান রতন, মাওলানা সাইদ উদ্দীন আহমাদ হানজালা, জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি’র মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়া, বিশিষ্ট আলেম ও গবেষক শায়খ মুসা আল হাফিজ, এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন ।
তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, শাপলা চত্বরের হত্যাকাণ্ডকে গণহত্যা হিসেবে বিএনপিই প্রথম স্বীকৃতি দিয়েছিল। বিএনপি কখনও ইসলাম অবমাননাকারীদের প্রশ্রয় দেয়নি বরং শাপলা চত্বরের ঘটনার বিচার ও শহীদদের মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় রাজনৈতিকভাবে অবস্থান নিয়েছে। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দুইদিন হরতালের ডাক দিয়েছিল বিএনপি।
তিনি বলেন, সংসদে শাপলা শহীদদের সম্মান দিয়েছে বিএনপি। শাপলা চত্বর শহীদদের পরবর্তী দায়িত্ব বিএনপি অবশ্যই পালন করবে। মুক্তিযুদ্ধের গণহত্যা থেকে শুরু করে শাপলা চত্বরের হত্যাকাণ্ড পর্যন্ত মানবতাবিরোধী, অন্যায় ও ন্যায়বিচারবিরোধী কোনো অপরাধকেই সরকার তামাদি হতে দেবে না ।
তথ্যমন্ত্রী আরও বলেন, এসব অপরাধের বিচার নিশ্চিত করতে সরকার উদ্যোগী হলেও বাস্তবায়নের জন্য রাজনৈতিক ও সামাজিক সব শক্তির সম্মিলিত সহযোগিতা প্রয়োজন। রাজনৈতিক শক্তি ও সামাজিক শক্তি কখনো সমান নয়; একটি রাজনৈতিক দল তখনই সফল হয়, যখন দলমতের বাইরে বৃহত্তর সমাজের কাছেও গ্রহণযোগ্যতা পায়।
২০১৩ সালের ৫ মে’র প্রেক্ষাপট স্মরণ করে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, তৎকালীন ফ্যাসিবাদী সরকার যখন ঈমানি আন্দোলনে বাধা দিচ্ছিল এবং গণমাধ্যম ব্যবহার করে মিথ্যা বয়ান তৈরি করছিল, তখন জনগণের অভিভাবক হিসেবে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া সাহসিকতার সাথে সেই সমাবেশের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, শাপলা চত্বরে সব বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে দিয়ে নৃশংসভাবে প্রায় ২ লাখ গোলাবারুদ, আর্মস-অ্যামুনিশন ব্যবহার করা হয়েছিল।
তিনি বলেন, তখনকার প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, কেউ মরে নাই, ণ্ডজুররা সব গায়ে লাল রং মাখিয়ে শুয়ে আছে। দেশের প্রধানমন্ত্রী কী পরিমাণ মিথ্যা কথা বলতে পারে! আজ অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার চলছে, ধীরে ধীরে তদন্তে ৭২ জনের বেশি হত্যার প্রমাণই পাওয়া গেছে, নিখোঁজ আছে। এজন্য আমরা মনে করি, এটা কোনো সাধারণ ঘটনা ছিল না, দীর্ঘকালের ইসলামি জনতার প্রতি যে কর্তৃত্ববাদী সরকারের জুলুম, নির্যাতনের বা বিস্ফোরণের একটা আউটবার্স্ট হিসেবে সেদিন সর্বস্তরের জনগণ দাঁড়িয়েছিল।
তিনি বলেন, ২৪ এর জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান আর ২০১৩ সালের ৫ মে এর ঘটনা বিচ্ছিন্ন নয়। একটির সঙ্গে আরেকটি ফলোআপ হয়ে কর্তৃত্ববাদী শাসনের বিরুদ্ধে এদেশের ১৮ কোটি মানুষের সংগ্রামের একটি বিজয় হয়েছে।
গোলাম পরওয়ার বলেন, যে কারণে মানুষ জীবন দিয়েছিল, সেই আদর্শ, সেই সংগ্রাম, সেই স্বপ্ন পূরণের জন্য আমরা যেন জাতির কাছে দেওয়া ওয়াদা থেকে মুখ ফিরিয়ে না নেই। জাতির কাছে যেন অপরাধী হিসেবে বিবেচিত না হই। এই ব্যাপারে নিজেদের বিবেকের কাছে যেন আমরা বিশ্লেষণ করে, বোঝাপড়া করে আমরা সবাই যেন আমাদের জনগণের আকাক্ষা পূরণের সেই সংগ্রামকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাই।
শাপলা শহীদদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি করেছেন শাপলা স্মৃতি সংসদের চেয়ারম্যান মাওলানা মামুনুল হক। তিনি বলেন, আমরা টাকা-পয়সা চাই না। আমরা শুধু রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি চাই।
মাওলানা মামুনুল হক বলেন, ’৭১ এর মুক্তিযুদ্ধারা রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পেয়েছেন। ২৪ এর গণঅভ্যুত্থানের শহীদরাও পেয়েছেন। আল্লাহর নবীর প্রেমে যারা শাপলা চত্বরে শহীদ হয়েছেন তারা এখনো কোনো স্বীকৃতি পাননি। আমরা টাকা-পয়সা চাই। শুধু রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি চাই।
আন্তর্জাতিক মানবতাবিরোধী অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম বলেন, দিন শেষে আপনারা (এদেশের আলেম-ওলামারা ও মুসলমানরাই) এদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের ধারক ও রক্ষক।
তাজুল ইসলাম বলেন, ৫ মে গণহত্যার মাধ্যমে ইসলামের উত্থানকে রোধ করতে চেয়েছে বিষয়টি তেমন নয়। বরং সেই ফ্যাসিস্ট সরকার আমাদের সংস্কৃতি থেকে বিশ্বাস উঠিয়ে দিতে চেয়েছে। যাতে করে এই বাংলাদেশে কেউ টুপি-দাড়ি রাখতেই সাহস না পায়। আমি বলবো, মুসলমানরা যদি সক্রিয় ভূমিকা পালন না করেন তাহলে বারবার আমাদের শাপলা চত্বরের মোকাবিলা করতে হবে।