দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে বিজয়ের ৮১তম বার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানী ঢাকায় দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির আয়োজন করেছে ঢাকার রাশিয়ান হাউস। এ আয়োজন বাস্তবায়নে সহযোগিতা করেছে ঢাকায় রাশিয়ার দূতাবাস। গতকাল শনিবার দিনের কর্মসূচি শুরু হয় বাংলাদেশে রাশিয়ার দূতাবাস প্রাঙ্গণে ‘ইমর্টাল রেজিমেন্ট’ শোভাযাত্রার মাধ্যমে। এতে অংশগ্রহণকারীরা স্বাধীনতার জন্য লড়াই করা পূর্বসূরিদের স্মরণ করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত অনেকে সামরিক বীরত্ব ও স্মৃতির প্রতীক ‘রিবন অব সেইন্ট জর্জ’ ধারণ করেন।

আনুষ্ঠানিক পর্বে বক্তব্য দেন রাশিয়ান হাউসের পরিচালক আলেকজান্দ্রা খেলভনয়, ‘রদিনা’ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এলেনা বাস, সোভিয়েত অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম এবং লিবারেশন ওয়ার একাডেমি ট্রাস্টের চেয়ারম্যান ড. আবুল কালাম আজাদ। অনুষ্ঠানের প্রধান আকর্ষণ ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার জি খোজিন। তিনি মোটরসাইকেল ও গাড়িবহরের এক বর্ণাঢ্য র‌্যালির উদ্বোধন করেন।

রাশিয়ার পতাকা ও বিজয় দিবসের প্রতীক দিয়ে সাজানো র‌্যালিটি গুলশান এলাকা প্রদক্ষিণ শেষে রাশিয়ান হাউসে গিয়ে শেষ হয়। পরে রাশিয়ান হাউসে ‘ওয়াল অব মেমোরি’ উদ্বোধন এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে ‘কালিনকা’ গানের সঙ্গে ঐতিহ্যবাহী নৃত্য পরিবেশন করেন তরুণ শিল্পীরা। এছাড়া পরিবেশিত হয় বিভিন্ন ঐতিহাসিক ও দেশাত্মবোধক গান। সাহিত্যিক পর্বে রুশ কবিতা ‘রেকুইয়েম’ এবং ‘ওয়েট ফর মি’ আবৃত্তি করা হয়।

অনুষ্ঠানে যুদ্ধের শহীদদের স্মরণে একটি ভিডিও প্রদর্শন করা হয়। পরে ‘রদিনা’ অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যরা নিজেদের পরিবারের হারানো স্বজনদের স্মৃতিচারণ করেন এবং ‘ওয়াল অব মেমোরি’-তে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। দিনব্যাপী আয়োজনের সমাপ্তি ঘটে সমবেত সংগীত পরিবেশনার মাধ্যমে। আয়োজকরা জানান, এ আয়োজন শুধু মহান বিজয়ের স্মৃতিকে সম্মান জানায়নি, বরং বাংলাদেশ ও রাশিয়ার সাংস্কৃতিক বন্ধন আরও দৃঢ় করেছে। ঢাকায় প্রতি বছর ৯ মে অত্যন্ত গুরুত্ব ও বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে রাশিয়ার বিজয় দিবস উদযাপিত হয়ে থাকে।