‘যে বর্জ্য ছিল ঢাকার বোঝা, সেই বর্জ্যই এখন শিক্ষা উপকরণে পরিণত হয়েছে’—বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য, ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমীর ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র প্রার্থী মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সরকারি ইউনানী ও আয়ুর্বেদিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন।
পরিদর্শনকালে হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগ ও চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম ঘুরে দেখেন মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন। এ সময় তিনি চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে হাসপাতালের সার্বিক কার্যক্রম ও বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে কথা বলেন।

বিরোধীদলীয় নেতা ও আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমানের পক্ষ থেকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে বিভিন্ন সামগ্রী হস্তান্তর করেন তিনি। এর মধ্যে হাসপাতালের এক্স-রে মেশিন পরিচালনার জন্য একটি ভোল্টেজ স্ট্যাবিলাইজার, ল্যাবে রক্ত পরীক্ষার প্রয়োজনীয় রিএজেন্ট এবং হাসপাতালের বেডের জন্য ম্যাট্রেস রয়েছে।
উপহারসামগ্রী হস্তান্তর শেষে কলেজ ও হাসপাতালের শিক্ষক এবং চিকিৎসকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন। এ সময় তিনি প্রতিষ্ঠানটির চিকিৎসাসেবার প্রশংসা করেন এবং বিদ্যমান বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় ভূমিকা রাখার আশ্বাস দেন।
মতবিনিময়কালে বর্জ্য থেকে পরিবেশবান্ধব উপায়ে তৈরি কলম কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণ করা হয়। এ প্রসঙ্গে মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, ‘যে বর্জ্য ছিল ঢাকার বোঝা, সেই বর্জ্যই এখন শিক্ষা উপকরণে পরিণত হয়েছে।’
বর্জ্য থেকে কলম তৈরির উদ্যোগকে ভবিষ্যতের বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, পুনর্ব্যবহারযোগ্য বর্জ্যকে কাজে লাগিয়ে কাগজ, কলমসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্য উৎপাদনের শিল্পকারখানা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে নগরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নতুন সম্ভাবনা তৈরির পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সুযোগও সৃষ্টি হতে পারে।
তিনি বলেন, ‘চলো বদলে দেই ঢাকা উত্তর’—এই অঙ্গীকারকে বাস্তবে রূপ দিতে তারা কাজ করছেন। রাজনৈতিক নেতৃত্বের সদিচ্ছা থাকলে জনগণের কল্যাণে বাস্তবভিত্তিক ও কার্যকর নানা উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব। বর্জ্য থেকে তৈরি পরিবেশবান্ধব কলম শিশুদের হাতে তুলে দেওয়া সেই সম্ভাবনার একটি ছোট উদাহরণ।
মতবিনিময় সভায় তিনি বলেন, দেশের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে আধুনিক চিকিৎসার পাশাপাশি ইউনানী ও আয়ুর্বেদিক চিকিৎসাব্যবস্থার উন্নয়ন ও সম্প্রসারণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। সরকারি ইউনানী ও আয়ুর্বেদিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের বিদ্যমান সমস্যাগুলো সমাধানে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ভূমিকা রাখার আশ্বাস দেন তিনি।