গাজীপুরের শ্রীপুরের একটি পোশাক কারখানায় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ছেন একের পর এক শ্রমিক। প্রতিদিনের মতো কাজের আশায় কারখানায় প্রবেশ করলেও অনেকেই ফিরছেন হাসপাতালের বিছানায়। টানা দুই দিনের এমন ঘটনায় শ্রমিকদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে আতঙ্ক, আর তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন।

শ্রীপুর উপজেলার টেপিরবাড়ী এলাকার কালার অ্যান্ড কোং লিমিটেড কারখানায় বুধবার সকালে আবারও কয়েক ডজন শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েন। কারখানার একটি নির্দিষ্ট ফ্লোরে কাজ শুরুর কিছু সময় পরই কয়েকজন শ্রমিক হঠাৎ দুর্বল হয়ে পড়েন। পরে একই ধরনের সমস্যায় আক্রান্ত হন আরও অনেকে।

অসুস্থ শ্রমিকদের অভিযোগ, প্রথমে কয়েকজন নারী শ্রমিক মাথা ঘুরে বসে পড়েন। এরপর আশপাশের অন্য শ্রমিকদের মধ্যেও মাথা ঘোরা, বুকের অস্বস্তি, পেটের ব্যথা ও বমি ভাব দেখা দেয়। একসঙ্গে অনেক শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়ায় কারখানার ভেতরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে কাজ বন্ধ রেখে আক্রান্তদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়।

এর আগের দিন মঙ্গলবারও একই কারখানায় অর্ধশতাধিক শ্রমিক অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। পরপর দুই দিনে একই ধরনের ঘটনা ঘটায় শ্রমিকদের মধ্যে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

মাওনা চৌরাস্তার আল-হেরা হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. আবুল হোসেন জানান, হাসপাতালে আসা শ্রমিকদের বেশিরভাগই নারী। তাদের শরীরে মাথা ঘোরা, বুকে ব্যথা, পেটের সমস্যা ও বমি বমি ভাবের মতো উপসর্গ পাওয়া গেছে।

শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শফিকুল ইসলাম জানান, প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে এটি ম্যাস হিস্টেরিয়া (Mass Hysteria) বা ম্যাস সাইকোজেনিক ইলনেসের মতো মনে হচ্ছে। তবে প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে প্রয়োজন পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও বিস্তারিত তদন্ত।

তিনি আরও জানান, বিষয়টি খতিয়ে দেখতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন, প্রয়োজনীয় নমুনা সংগ্রহ এবং তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

কারখানার প্রশাসনিক কর্মকর্তা সঞ্জীব কুমার দে বলেন, কাজ শুরুর পর কয়েকজন শ্রমিক অসুস্থ হওয়ার খবর পাওয়া যায়। পরে একই ধরনের সমস্যায় আরও শ্রমিক আক্রান্ত হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে উৎপাদন কার্যক্রম সাময়িক বন্ধ রাখা হয়।

এদিকে শ্রমিকদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাদের দাবি, সহকর্মী লিজা আক্তারের মৃত্যুর পর থেকেই কারখানার পরিবেশ ও নিরাপত্তা নিয়ে নানা প্রশ্ন রয়েছে। তাই শুধু বর্তমান ঘটনার নয়, সব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে সুষ্ঠু তদন্ত চান তারা।

শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহীনুর আলম জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। শ্রমিকরা শান্তিপূর্ণভাবে তাদের উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি তদন্ত করছে।