ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শেষ বিদায়ের রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতা ও জানাজার মধ্যেই দেশটিতে নতুন করে ভয়াবহ সামরিক হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দিবাগত মধ্যরাতে ইরানের কেশম দ্বীপ, সিরিক এবং হরমুজ প্রণালির খার্গ দ্বীপে একের পর এক শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) নিশ্চিত করেছে যে, তারা ইরানের ৮০টিরও বেশি নির্দিষ্ট সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে নতুন দফায় বিমান হামলা চালিয়েছে।

মার্কিন হামলায় সিরিক এলাকার মাছ ধরা ও বাণিজ্যিক জেটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইরানের স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সেখানে বেশ কয়েকজন বেসামরিক মানুষ আহত হয়েছেন এবং তাদের মিনাব হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এবং শীর্ষ পারমাণবিক আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এই হামলাকে গত মাসে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত শান্তি সমঝোতা স্মারকের (MoU) গুরুতর লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছেন।

গালিবাফ বলেছেন, "যুক্তরাষ্ট্রের দাদাগিরি ও চাঁদাবাজির যুগ শেষ। আমরা তাদের সামনে মাথা নত করব না।"

ইরান জানিয়েছে, জাতিসংঘের সনদ ৫১ ধারা অনুযায়ী নিজেদের আঞ্চলিক অখণ্ডতা ও জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় তারা যেকোনো সামরিক আগ্রাসনের উৎসে আঘাত হানতে দ্বিধা করবে না।

যুক্তরাষ্ট্রের হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরানের এলিট ফোর্স ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) প্রতিবেশী বাহরাইন এবং কুয়েতে অবস্থিত ৮৫টি মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে একযোগে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। আইআরজিসি দাবি করেছে, তারা বাহরাইনের সালমান বন্দর, মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের সামুদ্রিক এলাকা এবং কুয়েতের আলি আল-সালেম বিমানঘাঁটিকে সফলভাবে নিশানা করেছে। এছাড়া একটি মার্কিন MQ-9 Reaper ড্রোন গুলি করে ভূপাতিত করার দাবি করেছে ইরান।

ইরানের কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ড (খাতাম আল-আম্বিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্স) জানিয়েছে, মার্কিন আগ্রাসনের বিরুদ্ধে তারা আরও "বিধ্বংসী প্রতিক্রিয়া" (Crushing Response) দেখাবে। তেহরান স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, তারা হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনায় কোনো বহিরাগত বা মার্কিন হস্তক্ষেপ বরদাশত করবে না। তাদের ঘোষণা অনুযায়ী, এই প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ ও তেলবাহী ট্যাংকার চলাচলের একমাত্র নিরাপদ পথ হলো ইরানের নির্ধারিত রুট।

ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা খামেনি গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ বিমান হামলায় নিহত হন। এরপর তেহরান, কোম এবং ইরাকের নাজাফ ও কারবালাসহ বিভিন্ন পবিত্র শহরে কয়েক দিনব্যাপী তার শেষ বিদায়ের জানাজা ও শোক মিছিলের আয়োজন করা হয়। ইরাকের নাজাফ শহরে আয়োজিত খামেনির জানাজা ও শোক মিছিলে ২৩ লাখেরও বেশি মানুষ অংশ নেন। এই শোক অনুষ্ঠান উপলক্ষে ইরাকে সরকারি ছুটিও ঘোষণা করা হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের এই নতুন হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সামরিক উত্তেজনা ও রাজনৈতিক সংকট আরও জটিল রূপ ধারণ করেছে । পাল্টাপাল্টি হামলার কারণে মধ্যপ্রাচ্যে সম্প্রতি ঘোষিত ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতিটি এখন পুরোপুরি ভেস্তে যাওয়ার মুখে পড়েছে।