বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার মালয়েশিয়া সফরকালে গতকাল মঙ্গলবার মালয়েশিয়ার সর্ববৃহৎ ইসলামী রাজনৈতিক দল ইসলাম সে-মালয়েশিয়া (পাস)-এর প্রেসিডেন্ট তান শ্রী আব্দুল হাদী আওয়াং এমপির সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন এমপি এবং পাস-এর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল সাহের সোলাইমান এমপি।
মতবিনিময়কালে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়, মুসলিম উম্মাহর সমসাময়িক চ্যালেঞ্জ এবং বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার জনগণের মধ্যে বিদ্যমান ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার করার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।
এর আগে জনাব মিয়া গোলাম পরওয়ার মালয়েশিয়ার ক্ষমতাসীন জাস্টিস পার্টির সহ-সভাপতি এবং মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহীমের কন্যা নূরুল ইজ্জাহ আনোয়ারের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এ সময় ও ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন এমপি উপস্থিত ছিলেন।
ইসলামের দাওয়াতকে জীবনের মূল মিশন হিসেবে গ্রহণের আহ্বান
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, মুসলিম হিসেবে প্রত্যেকেরই উচিত ইসলামের সুমহান দাওয়াতকে নিজের জীবনের মূল মিশন হিসেবে গ্রহণ করা। একই সঙ্গে দাওয়াতি কাজে আত্মনিয়োগের মাধ্যমে ব্যক্তিগত চরিত্রকে সুন্দর করে একটি আদর্শ ও কল্যাণময় সমাজ বিনির্মাণে এগিয়ে আসতে হবে।
গতকাল মঙ্গলবার ইসলামী দাওয়াহ সার্কেল মালয়েশিয়ার উদ্যোগে আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ইসলামী দাওয়াহ সার্কেল মালয়েশিয়ার সভাপতি ড. আবু আবদুল্লাহর সভাপতিত্বে এবং সংগঠনের সেক্রেটারি সৈয়দ মোবাস্বীর হোসাইন এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন এমপি। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন ড. ইউসুফ আলী ও হাফেজ এনামুল হক। অনুষ্ঠানে কুয়ালালামপুর ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চল থেকে আগত বাংলাদেশি ছাত্র, শিক্ষক, গবেষক, প্রকৌশলী, সাংবাদিক, চিকিৎসক এবং বিভিন্ন পেশার সাধারণ প্রবাসী পেশাজীবীরা অংশগ্রহণ করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, মানুষের কাছে আল্লাহর বাণী পৌঁছে দেওয়াই হলো দাওয়াত। এটি কেবল একটি কাজ নয়; বরং জীবনের একটি মহান মিশন। দাওয়াতকে জীবনের লক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করলে মানুষের চিন্তা, চরিত্র ও আচরণ ধীরে ধীরে পরিশুদ্ধ হয়। তিনি আরও বলেন, দাওয়াতের প্রথম প্রভাব পড়ে নিজের জীবনের ওপরই; এতে সততা, ধৈর্য, নম্রতা ও দায়িত্ববোধের মতো গুণাবলি বিকশিত হয়।
প্রবাসী পেশাজীবীদের মেধা, দক্ষতা ও অর্থনৈতিক সক্ষমতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, একটি বৈষম্যহীন ও সুন্দর সমাজ গঠনে প্রবাসীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তারা চাইলে প্রবাসে শক্তিশালী কমিউনিটি গড়ে তুলতে পারেন এবং নিজ দেশের সামাজিক উন্নয়নেও কার্যকর অবদান রাখতে পারেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন এমপি প্রবাসীদের বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে রেমিট্যান্স প্রেরণের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এতে দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তি আরও শক্তিশালী হবে। একই সঙ্গে প্রবাসী বিনিয়োগের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং প্রবাস ফেরত নাগরিকদের পুনর্বাসনে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণে সংশ্লিষ্ট মহলকে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
সভাপতির বক্তব্যে ড. আবু আবদুল্লাহ মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কমিউনিটির ঐক্য, দাওয়াতি কার্যক্রম এবং বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি প্রবাসীদের অধিকার আদায়ে ইসলামী দাওয়াহ সার্কেলের ধারাবাহিক প্রচেষ্টার কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন।
সবশেষে বক্তারা প্রবাসীদের নৈতিক উন্নয়ন, সামাজিক ঐক্য এবং দাওয়াতি কাজকে আরও বিস্তৃত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা বলেন, এ ধরনের কার্যক্রম একটি সুন্দর ও কল্যাণময় সমাজ গঠনে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
মির্জা আব্বাসকে দেখতে হাসপাতালে জামায়াত সেক্রেটারি মিয়া গোলাম পরওয়ার
চিকিৎসাধীন বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ও মাননীয় সংসদ সদস্য মির্জা আব্বাসকে দেখতে গেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার। গতকাল সোমবার মালয়েশিয়ার প্রিন্স কোর্ট হাসপাতালে গিয়ে তিনি বিএনপি নেতার চিকিৎসার সর্বশেষ অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং তাঁর দ্রুত ও পূর্ণ সুস্থতা কামনা করে মহান রবের নিকট দোয়া করেন। এ সময় মিয়া গোলাম পরওয়ারের সঙ্গে ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন এমপি উপস্থিত ছিলেন।
হাম প্রাদুর্ভাবে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় জামায়াতের উদ্বেগ
হাম প্রাদুর্ভাবে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার।
গতকাল মঙ্গলবার প্রদত্ত এক বিবৃতিতে জামায়াত সেক্রেটারি মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, “দেশে চলমান হাম প্রাদুর্ভাবে ক্রমাগতভাবে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় অবিলম্বে কার্যকর ও তাৎক্ষণিক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।”
তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশে হঠাৎ করেই হামের সংক্রমণ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিশেষ করে শিশু ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মানুষ এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছে এবং মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, নিশ্চিত ও সন্দেহভাজন হামে মৃতের সংখ্যা ইতোপূর্বে সাড়ে চারশত ছাড়িয়ে গেছে, যা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক এবং একটি স্বাধীন দেশের জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্য চরম উদ্বেগের বিষয়। সঠিক সময়ে যথাযথ প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ, টিকাদান কর্মসূচির স্থবিরতা এবং গ্রামীণ ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে চিকিৎসা সেবার অপ্রতুলতার কারণেই আজ পরিস্থিতি এই পর্যায়ে পৌঁছেছে।”
তিনি বলেন, “আমরা অত্যন্ত দুঃখের সাথে লক্ষ্য করছি যে, জনস্বাস্থ্যের এই চরম সংকটের মুহূর্তেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে যে ধরনের জরুরি ও সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন ছিল, তা দৃশ্যমান হচ্ছে না। রোগ ছড়ানোর উৎস চিহ্নিত করা, আক্রান্তদের আইসোলেশন নিশ্চিত করা এবং দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করার ক্ষেত্রে এক ধরনের উদাসীনতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।”
এই বিপর্যয়কর পরিস্থিতি থেকে দেশের মানুষকে, বিশেষ করে কোমলমতি শিশুদের রক্ষা করতে আমি জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি:
১. দেশের প্রতিটি অঞ্চলের জন্য অবিলম্বে বিশেষ ক্র্যাশ প্রোগ্রাম হাতে নিয়ে শতভাগ হামের টিকাদান নিশ্চিত করতে হবে।
২. আক্রান্ত এলাকাগুলোতে বিশেষ মেডিকেল টিম গঠন করে জরুরি ওষুধ ও পুষ্টি সহায়তা পৌঁছানোর ব্যবস্থা করতে হবে।
৩. দেশের সকল সরকারি হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে হাম রোগীদের জন্য পৃথক ওয়ার্ড এবং পর্যাপ্ত চিকিৎসার সরঞ্জাম নিশ্চিত করতে হবে।
৪. রোগটি সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মাঝে সচেতনতা বাড়াতে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালাতে হবে।
পাশাপাশি, আমি জামায়াতে ইসলামীর সকল স্তরের নেতাকর্মী ও সাধারণ জনশক্তিকে স্ব-স্ব এলাকায় হামে আক্রান্ত অসহায় ও দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং টিকাদান কার্যক্রমে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে সহযোগিতা করার আহ্বান জানাচ্ছি।