মোহাম্মাদ মনিরুজ্জামান, মোংলা থেকেঃ

মোংলা সমুদ্রবন্দর সংলগ্ন এলাকায় চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠিত হলে উপকূলীয় অঞ্চলে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে বলে সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা। এর ফলে স্থানীয় বেকারত্ব কমার পাশাপাশি আমদানি-রফতানি কার্যক্রম বাড়লে মোংলা বন্দরের কার্যপরিধিও সম্প্রসারিত হবে। চীনের জন্য নির্ধারিত অর্থনৈতিক অঞ্চলের স্থান ইতোমধ্যে সরকারের উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদল পরিদর্শন করেছে।

গত ২৫ জুন প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরকালে বেইজিংয়ে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) এবং চীনের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান চায়না সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন কর্পোরেশনের (সিসিইসিসি) মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এই সমঝোতার ভিত্তিতে মোংলা বন্দর-সংলগ্ন ১১০ একর জমিতে চীন–বাংলাদেশ মোংলা বন্দর অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

গত ১৬ আগস্ট প্রস্তাবিত প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেন জ্বালানি মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি উপদেষ্টা, নৌপরিবহন, সড়ক ও সেতুমন্ত্রী এবং বিডার চেয়ারম্যান। পরিদর্শনকালে নৌপরিবহন, সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানান, আগামী অক্টোবর থেকে অর্থনৈতিক অঞ্চলটির নির্মাণকাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে প্রায় ৬০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সামিউল হক বলেন, মোংলা বন্দরে অর্থনৈতিক অঞ্চল গঠনে চীনা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে হওয়া এই চুক্তি দেশের বিনিয়োগ নীতিতে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। তাঁর মতে, বাংলাদেশ এখন বড় পরিসরে চীনা বিনিয়োগ আকর্ষণে গুরুত্ব দিচ্ছে। মোংলা বন্দরকে কেন্দ্র করে ভবিষ্যতে চীনের আরও বিনিয়োগ আসতে পারে, যা উপকূলীয় এলাকায় কর্মসংস্থান বাড়াতে এবং বেকারত্ব কমাতে সহায়ক হবে। এ জন্য স্থানীয়দের দক্ষ করে তুলতে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি মত দেন।

মোংলা বন্দর সিএন্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোশাররফ হোসেন বলেন, বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনে চীনের সঙ্গে চুক্তিটি মোংলা বন্দরের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। এর মাধ্যমে বন্দরে চীনা বিনিয়োগের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, সরকারি সহযোগিতা থাকলে মোংলা বন্দর এবং এর সঙ্গে যুক্ত শিল্পাঞ্চলে বিদেশী বিনিয়োগ বাড়তে পারে। এতে বন্দরের কার্যক্রম ও সরকারের রাজস্ব আয় বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে নাব্যতা সংকটসহ বিদ্যমান বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা সমাধানের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

চীনকে দেওয়া এই ১১০ একর জমি ২০১৫ সালে শুরু হওয়া দ্বিপক্ষীয় উদ্যোগের অধীনে প্রথমে ভারতের অর্থনৈতিক অঞ্চলের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছিল। কিন্তু ভারত সরকারের মনোনীত ডেভেলপার নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভূমি উন্নয়নের কাজ শুরু করতে পারেনি। ২০২৪ সালের আগস্টে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও প্রকল্পটির বাস্তব অগ্রগতি হয়নি। বেজার কর্মকর্তারা জানান, চুক্তিতে নির্ধারিত দুই বছরের মধ্যেও ভারতীয় ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানটি ভূমি উন্নয়নের মূল কাজ শুরু করতে ব্যর্থ হয়। পরে ২০২৫ সালের অক্টোবরে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রকল্পটি তালিকা থেকে বাদ দেয় বা বাতিল করে। মোংলা বন্দরের পাশে চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চল, ৬০ হাজার কর্মসংস্থানের লক্ষ্য।