বৈরি আবহাওয়ার কারণে সাময়িক বন্ধ থাকার পর রাজধানী ঢাকার সদরঘাট নৌবন্দর থেকে দক্ষিণাঞ্চলের লঞ্চ চলাচল পুনরায় শুরু হয়েছে। তবে আবহাওয়ার উন্নতি হলেও নদীপথে এখনও সতর্কতা জারি রেখেছে কর্তৃপক্ষ। আর এই সতর্কতার মধ্যেই সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল থেকে অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে কয়েকটি লঞ্চের ঝুঁকিপূর্ণভাবে ঘাট ছেড়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

মঙ্গলবার (২৬ মে) সন্ধ্যায় সদরঘাট টার্মিনালে সরেজমিনে গিয়ে বিভিন্ন লঞ্চে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে হাতিয়া, বেতুয়া ও চরফ্যাশন রুটের লঞ্চগুলোতে অতিরিক্ত যাত্রী বহনের চিত্র ছিল সবচেয়ে স্পষ্ট।

সরেজমিনে দেখা যায়, এমভি তাসরিফ-৩ ও এমভি টিপু-১৩ লঞ্চ দুটি ধারণক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি যাত্রী নিয়ে টার্মিনাল ত্যাগ করে। এসব লঞ্চের ছাদ থেকে শুরু করে ডেকের করিডোর ও সিঁড়িতেও তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না। অনেক যাত্রী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দাঁড়িয়েই গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। ঘাট সূত্রে জানা গেছে, হাতিয়া ও বেতুয়া রুটে যাত্রীর চাপ তুলনামূলক অনেক বেশি থাকলেও সেই অনুপাতে লঞ্চের সংখ্যা ছিল কম। ফলে দীর্ঘ সময় ধরে টার্মিনালে অপেক্ষা করতে হয় শত শত যাত্রীকে। সদরঘাটের কন্ট্রোল রুম থেকে বারবার মাইকিং করে যাত্রীদের অপেক্ষা করার অনুরোধ জানানো হলেও, অনেকেই বাড়ি ফেরার তাড়ায় ঝুঁকি নিয়ে অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই লঞ্চে উঠে পড়েন।

সবচেয়ে বিপজ্জনক দৃশ্য দেখা যায় লঞ্চগুলো ঘাট ছাড়ার সময়। ঘাটে থাকা কয়েকজন যাত্রীকে অন্য লঞ্চের ওপর দিয়ে এসে চলন্ত লঞ্চে লাফিয়ে উঠতে দেখা যায়। এ সময় পন্টুনে উপস্থিত সাধারণ যাত্রীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

বেতুয়াগামী যাত্রী শাহাদাত ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, লঞ্চের ছাদেও একদম গাদাগাদি করে যাত্রী নিচ্ছে, তাও কেউ কিছু বলছে না। আল্লাহ না করুক নদী উত্তাল থাকায় যদি কোনো দুর্ঘটনা ঘটে, তবে এর দায় কে নেবে?

হাতিয়াগামী আরেক যাত্রী শিহাব উদ্দিন বলেন, হাতিয়ায় যাওয়ার মতো পর্যাপ্ত লঞ্চ নেই। যে দুটি আছে, সেগুলোও কানায় কানায় ভর্তি। এখন কষ্ট হলেও এই লঞ্চেই যেতে হবে। আর কত ঘণ্টা ঘাটে অপেক্ষা করব?

একই রুটের যাত্রী সুমন জানান, দুই দিন ধরে টিকিটের চেষ্টা করেও পাইনি। আজও যদি কোনোভাবে যেতে না পারি, তাহলে ঈদের আগে আর বাড়ি পৌঁছাতে পারব না।

এদিকে সাধারণ যাত্রীদের অভিযোগ, অতিরিক্ত যাত্রী বহন না করার জন্য প্রশাসনের কঠোর নির্দেশনা থাকলেও তা কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ। লঞ্চ ছাড়ার সময় ঘাটের গেটে কিছুটা তদারকি বা কড়াকড়ি দেখা গেলেও, লঞ্চ মাঝনদীতে বা ঘাট থেকে একটু সরার পর কৌশলে আরও যাত্রী ওঠানো হচ্ছে।

এদিকে সদরঘাট টার্মিনালে দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের অনেক যাত্রীকে ঝুঁকি নিয়ে লঞ্চে উঠতে বাধা দিতে দেখা গেছে। তবে যাত্রীদের হুড়োহুড়ি ও জোর করে ওঠার প্রবণতার কাছে সেই নির্দেশনা ও বাধা উপেক্ষিতই থেকে যাচ্ছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) যুগ্ম পরিচালক মুহাম্মদ মোবারক হোসেন বলেন, আমরা প্রতিটি লঞ্চের ওপর কঠোর তদারকি রাখছি যাতে কেউ অতিরিক্ত যাত্রী বহন করতে না পারে। কোনো লঞ্চের ধারণক্ষমতা পূর্ণ হওয়ার সাথে সাথেই সেটিকে ঘাট ত্যাগ করতে বাধ্য করা হচ্ছে। যাত্রী সুরক্ষায় আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।