দোকান কর্মচারী ও হকারদের সমাবেশে অ্যাড.আতিকুর রহমান
সংগ্রাম ডেস্ক
জুলাই আন্দোলনে শ্রমিকদের আত্মত্যাগের মর্যাদায় শ্রম সংস্কার কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান।
গতকাল মঙ্গলবার বিকেল ৪ টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের মাওলানা আকরম খাঁ হলরুমে দোকান কর্মচারী ও হকারদের অধিকারের দাবিতে শ্রমিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব দাবি জানান। ২৪ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে ছাত্র-শ্রমিক-জনতার আত্মত্যাগের স্বীকৃতি, জুলাই সনদ ও শ্রম সংস্কার কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন, দোকান কর্মচারীদের নিয়োগপত্র প্রদান, নির্দিষ্ট কর্মঘণ্টা নির্ধারণ এবং পুনর্বাসন ছাড়া হকার উচ্ছেদ বন্ধের দাবিতে বাংলাদেশ দোকান কর্মচারী ফেডারেশনের (রেজি নং-বি ২২২০) আয়োজনে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
দোকান র্কমচারী ফেডারেশন সভাপতি এস এম লুৎফর রহমানের সভাপতিত্বে, বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন কেন্দ্রীয় সিনিয়র সহ-সভাপতি অধ্যাপক হারুনুর রশিদ, কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক লসকর মোঃ তসলিম কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আলমগীর হোসাইন, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সভাপতি আব্দুস সালাম, ঢাকা মহানগরী উত্তরের সভাপতি মাওলানা মুহিবুল্লাহসহ ইউনিয়নের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ। সঞ্চালনা করেন দোকান কর্মচারী ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান।
অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান বলেন, দেশে প্রায় ৯২ লাখ দোকান কর্মচারী রয়েছেন, যার মধ্যে প্রায় দুই লাখ নারী শ্রমিক। অথচ অধিকাংশের পরিচয়পত্র ও নিয়োগপত্র নেই, নির্দিষ্ট কর্মঘণ্টা নেই, ১২ ঘণ্টা বা তারও বেশি সময় কাজ করেও তারা ন্যায্য মজুরি পান না। অনেক প্রতিষ্ঠানে সাপ্তাহিক ছুটিও দেওয়া হয় না এবং তাদের জন্য কোনো বেতন কাঠামো নির্ধারণ করা হয়নি। স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরও এই বিপুল শ্রমজীবী জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়াকে তিনি দুঃখজনক বলে উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, অবিলম্বে দোকান কর্মচারীদের জন্য নির্দিষ্ট কর্মঘণ্টা, নিয়োগপত্র, পরিচয়পত্র, বেতন কাঠামো ও চাকরির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। শ্রমিকদের শুধু আশ্বাস নয়, তাদের ন্যায্য অধিকার বাস্তবায়ন করতে হবে।
হকারদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশের সবচেয়ে অবহেলিত শ্রমজীবী জনগোষ্ঠী হলো হকাররা। উচ্ছেদের নামে অনেক ক্ষেত্রে চাঁদাবাজির সুযোগ সৃষ্টি করা হয়। পুনর্বাসনের ব্যবস্থা ও যথাযথ নোটিশ ছাড়া হকার উচ্ছেদ আইনসম্মত নয়। হকারদের আইনি স্বীকৃতি দিতে হবে এবং তাদের জীবিকার অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্র চাপ অনুভব না করলে অধিকার দেয় না। তাই শ্রমিকদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। তবে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন সবসময় নিয়মতান্ত্রিক ও গণতান্ত্রিক উপায়ে অধিকার আদায়ে বিশ্বাস করে।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাক্সক্ষার সঙ্গে সাংঘর্ষিকভাবে শ্রমিকদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ করা হচ্ছে এবং শ্রম সংস্কারের প্রশ্নে অনীহা দেখা যাচ্ছে। জনগণের প্রত্যাশা ও সংস্কারের দাবিকে উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। জনগণের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে শ্রমিকবান্ধব সংস্কার বাস্তবায়ন করতে হবে।
সমাবেশ থেকে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, শ্রম সংস্কার কমিশনের সুপারিশ কার্যকর, দোকান কর্মচারীদের চাকরির নিরাপত্তা, নির্দিষ্ট কর্মঘণ্টা ও বেতন কাঠামো প্রণয়ন এবং পুনর্বাসন ছাড়া হকার উচ্ছেদ বন্ধসহ বিভিন্ন দাবি দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়।