স্টাফ রিপোর্টার

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে মাদরাসা ছাত্র-শিক্ষকদের ভূমিকা, আত্মত্যাগ এবং ভবিষ্যৎ প্রত্যাশা নিয়ে সেমিনারের আয়োজন করেছে কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ, তা’মীরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসা ঢাকা।

গতকাল রোববার রাজধানীর কাকরাইলের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, মুক্তিযোদ্ধা হলে অনুষ্ঠিত সেমিনারের প্রতিপাদ্য ছিল অগ্নিঝরা জুলাই গণঅভ্যুত্থানে মাদরাসা ছাত্র-শিক্ষকদের অবদান ও প্রত্যাশা।

তা’মীরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসা ঢাকার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ড. মুহাম্মাদ খলিলুর রহমান মাদানির সভাপতিত্বে এবং কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদের ভিপি তোফায়েল আহমাদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন দৈনিক আমার দেশ-এর সম্পাদক ড. মাহমুদুর রহমান।

প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, এমপি। বিশেষ অতিথি ছিলেন দলটির নির্বাহী পরিষদ সদস্য নূরুল ইসলাম বুলবুল, এমপি। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগা।

এছাড়া অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমীর আব্দুস সবুর ফকির, তা’মীরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসার সাবেক অধ্যক্ষ মাওলানা যাইনুল আবেদীন, মাদরাসার গভর্নিং বডির সভাপতি অধ্যাপক মো. নূর নবী মানিক, জামিয়া আরাবিয়া ইসলামিয়া ঢাকার মুহাদ্দিস মাওলানা আবু তাহের জিহাদী এবং বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি হাফেজ দেলোয়ার হোসাইন প্রমূখ।

এ সময় বক্তারা বলেন, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে স্বৈরতন্ত্র ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে যে গণঅভ্যুত্থান গড়ে উঠেছিল, তা অসংখ্য মানুষের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে সফল পরিণতি লাভ করে। সেই আন্দোলনে শিশু, তরুণ ও যুবকদের পাশাপাশি মাদরাসা শিক্ষার্থীরাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। অনেকেই প্রাণ হারান, আবার অনেকে আহত ও পঙ্গুত্ব বরণ করেন।

তারা আরও বলেন, এই আত্মত্যাগের মূল লক্ষ্য ছিল একটি বৈষম্যহীন, জবাবদিহিমূলক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা। সে লক্ষ্য বাস্তবায়নে জুলাই সনদের কার্যকর বাস্তবায়ন, সংবিধান সংস্কার এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সরকার ও সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানান বক্তারা।

সেমিনারে তা’মীরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসার পাঁচ শহীদ শিক্ষার্থীর আত্মত্যাগ গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়।

বক্তারা বলেন, শহীদ আদিল, শহীদ মুনতাসির, শহীদ নাসির, শহীদ ওসমান ও শহীদ শাকিল আন্দোলনের উত্তাল দিনগুলোতে জীবন উৎসর্গ করে ইতিহাসে অবিস্মরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তাঁদের আত্মত্যাগ নতুন প্রজন্মকে ন্যায়, সত্য ও গণমানুষের অধিকারের পক্ষে কাজ করতে অনুপ্রাণিত করবে বলেও বক্তারা উল্লেখ করেন।