জাপানে চলমান অনূর্ধ্ব-১৮ এশিয়া কাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে মালয়েশিয়াকে ৪-২ গোলে হারিয়ে দারুণ সূচনা করলেও দ্বিতীয় ম্যাচেই হারের স্বাদ পেয়েছে বাংলার যুবরা। গতকাল রোববার গ্রুপের দ্বিতীয় ম্যাচে তিব্রপ্রতিদ্বন্ধীতা গড়েও শেষ পর্যন্ত পরাজয়ের হতাশা নিয়েই মাঠ ছেড়েছে লাল-সবুজ জার্সীর দলটি।

এশিয়া কাপের গত আসরে চীনকে সহজে হারাতে পারলেও এবার উল্টো হার মানতে হয়েছে মুন্নাদের। চীনের বিপক্ষে দারুণ শুরু করেও শেষ পর্যন্ত হতাশা সঙ্গী হলো বাংলাদেশের। ম্যাচে দুইবার এগিয়ে থেকেও সেই লিড ধরে রাখতে পারেনি বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৮ হকি দল। ফলে পুরুষদের অনূর্ধ্ব-১৮ এশিয়া কাপে নিজেদের দ্বিতীয় পুল ম্যাচে চীনের কাছে ৩-২ ব্যবধানে হেরে গেছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।

জাপানের কাকামিগাহারায় অবস্থিত কাওয়াসাকি হেভি ইন্ডাস্ট্রিজ হকি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে আত্মবিশ্বাস নিয়েই মাঠে নেমেছিল বাংলাদেশ। প্রথম ম্যাচে মালয়েশিয়াকে ৪-২ গোলে হারানোর পর দলের লক্ষ্য ছিল টানা দ্বিতীয় জয় তুলে নেওয়া। ম্যাচের নবম মিনিটেই সেই লক্ষ্যপূরণের পথে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। পেনাল্টি কর্নার থেকে সফলভাবে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন মুন্না ইসলাম। প্রথম দুই কোয়ার্টারে সেই ব্যবধান ধরে রেখে বিরতিতে যায় বাংলাদেশ। তবে তৃতীয় কোয়ার্টার শুরু হতেই ম্যাচে ফিরে আসে চীন। ৩১তম মিনিটে জুয়ান বোলাং গোল করে সমতা ফেরান। এতে ম্যাচ নতুন করে জমে ওঠে। চীনের সমতায় কিছুটা চাপে পড়লেও বাংলাদেশ দ্রুত ঘুরে দাঁড়ায়। ৪১তম মিনিটে ওপেন প্লে থেকে আকাশ তুহিন গোল করে আবারও লিড এনে দেন দলকে। কিন্তু সেই আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। মাত্র দুই মিনিট পরই ওপেন প্লে থেকে ঝাং ইউওয়েই গোল করে আবারও সমতায় ফেরান চীনকে।

ম্যাচের শেষ ভাগে আক্রমণের ধার আরও বাড়ায় চীনারা। সেই চাপের ফলও পেয়ে যায় তারা। লিয়াও জিয়াঝেন জয়সূচক গোলটি করে চীনের জয় নিশ্চিত করেন এবং বাংলাদেশকে হতাশায় ডুবিয়ে দেন। মজার বিষয় হলো, গত আসরে এই চীনকেই ৫-২ গোলে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু এবার সেই প্রতিশোধই যেন নিয়ে নিল পূর্ব এশিয়ার দলটি। এই পরাজয়ের ফলে সেমিফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে কঠিন অবস্থায় পড়ে গেছে বাংলাদেশ। দুই ম্যাচ শেষে ‘বি’ পুলের চারটি দলেরই সমান তিন পয়েন্ট রয়েছে। ফলে শেষ ম্যাচে পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের জন্য জয়ের বিকল্প প্রায় নেই। সেই ম্যাচের ফলই নির্ধারণ করবে সেমিফাইনালের টিকিট কার হাতে উঠবে।