মালদ্বীপে ভারতকে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপ জেতা বাংলাদেশ যুব ফুটবল দলকে সংবর্ধনা ও আর্থিক পুরস্কার দিয়েছে সরকার। সোমবার (৬ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক ক্রীড়া দিবস উপলক্ষে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বিজয়ী দলকে পুরস্কার তুলে দেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। সাফ অনূর্ধ্ব-২০ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনালে ভারতকে টাইব্রেকারে ৪-৩ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় বাংলাদেশ। তরুণ ফুটবলারদের এই অর্জনে দেশজুড়ে আনন্দের আবহ তৈরি হয়। সেই সময় প্রতিমন্ত্রী দেশে ফেরার পর দলকে সংবর্ধনা দেওয়ার ঘোষণা দেন। সেই অনুযায়ী প্রথমে ছাদখোলা বাসে সংবর্ধনা দেওয়া হয়, এরপর সোমবার আয়োজন করা হয় আনুষ্ঠানিক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান।

জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে দলের প্রত্যেক খেলোয়াড় ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের হাতে ১ লাখ টাকা করে আর্থিক পুরস্কার তুলে দেয়া হয়। পাশাপাশি প্রত্যেককে ক্রীড়া কার্ড ও সম্মাননা ক্রেস্ট দেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক ক্রীড়া দিবসে সাফজয়ী ফুটবলারদের সম্মাননা দিতে পেরে সন্তোষ প্রকাশ করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি ভবিষ্যতে ফুটবলারদের জন্য আরও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার আশ্বাসও দেন। মালদ্বীপের মালেতে অনুষ্ঠিত এই টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের তরুণরা যে দৃঢ়তা দেখিয়েছে, তা দেশের ফুটবলে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। এই অর্জনের স্বীকৃতি হিসেবেই তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মাননা দিয়েছে ক্রীড়া মন্ত্রণালয়।

অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী দেশের ক্রীড়াঙ্গনের অতীত ঐতিহ্য স্মরণ করার পাশাপাশি ফেডারেশনগুলোর ভবিষ্যৎ উন্নয়নে সরকারের নানা পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন এবং দেশের ক্রীড়া সংগঠকদের ত্যাগের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, ফুটবল ও ক্রিকেটের মতো গুটিকয়েক ফেডারেশন বাদে দেশের অধিকাংশ ফেডারেশনের অবস্থা বর্তমানে বেশ জরাজীর্ণ। তিনি সাবেক ফুটবলার ও সংগঠদের উদ্ধৃতি দিয়ে স্মৃতিকাতর হয়ে জানান, একটা সময় এমন অনেক নিবেদিতপ্রাণ সংগঠক ছিলেন যারা নিজেদের স্ত্রীর গহনা কিংবা ব্যক্তিগত গাড়ি বিক্রি করে খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিক পরিশোধ করেছেন। এই গুণী মানুষদের প্রতি সম্মান জানিয়ে তিনি মন্তব্য করেন যে, গুণীদের যথাযথ সম্মান দিলে দেশে ভবিষ্যতে আরও অনেক গুণী মানুষের জন্ম হবে। সরকার এই ক্রীড়া ব্যক্তিত্বদের পাশে সবসময় থাকবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।

দেশের ক্রীড়া ফেডারেশনগুলোকে শক্তিশালী ও স্বাবলম্বী করার বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী তাকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেছেন। ফেডারেশনগুলো যাতে আর্থিক সংকটে না পড়ে এবং দেশের বাইরে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অংশগ্রহণের সময় স্বাচ্ছন্দ্যে চলতে পারে, সেজন্য একটি টেকসই কর্পোরেট সিস্টেম চালুর উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। আমিনুল হক উল্লেখ করেন যে, তিনি ইতিমধ্যে বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক এবং বড় বড় কর্পোরেট হাউসের কর্ণধারদের সাথে ব্যক্তিগতভাবে আলোচনা করেছেন। তারা এই উদ্যোগে বেশ ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন। নিজের খেলোয়াড়ি জীবনের অভিজ্ঞতার কথা টেনে তিনি বলেন, অতীতে আর্থিক অনুদানের জন্য ফেডারেশন বা ক্লাব কর্মকর্তাদের যেভাবে মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হয়েছে, সেই পরিস্থিতির অবসান ঘটিয়ে সব ফেডারেশনকে নিয়মের মধ্যে এনে শক্তিশালী করাই সরকারের বর্তমান লক্ষ্য।

এসময় উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুব উল আলম, বাফুফের সভাপতি তাবিথ আউয়াল, এশিয়ান আর্চারি ফেডাড়েশনের সভাপতি কাজী রাজিব উদ্দিন আহমেদ চপল, বিসিবির পরিচালক নাজমুল আবেদীন ফাহিমসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এর আগে, শনিবার রাতে বিমানবন্দর থেকে ছাদখোলা বাসে করে চ্যাম্পিয়নদের নিয়ে যাওয়া হয় হাতিরঝিলের অ্যাম্ফিথিয়েটারে। সেখানে আয়োজিত জমকালো অনুষ্ঠানে খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ ও কর্মকর্তাদের সম্মানিত করা হয়। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) চ্যাম্পিয়ন দলের প্রত্যেক ফুটবলারকে ১ লাখ টাকা করে এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ৫০ হাজার টাকা করে পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এছাড়া ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) পক্ষ থেকেও আলাদা আর্থিক প্রণোদনার কথা জানানো হয়েছে।