বায়ার্ন মিউনিখকে বিদায় করে টানা দ্বিতীয়বারের মতো ফাইনালে জায়গা করে নিেেয়ছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন পিএসজি। উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালের ফিরতি লেগ ১-১ সমতায় শেষ হলেও, দুই লেগ মিলিয়ে ৬-৫ অ্যাগ্রিগেটে বায়ার্ন মিউনিখকে বিদায় করে ফাইনালে জায়গা করে নিল বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। ফলে প্যারিসের সেই গোল-উৎসবের রেশ কাটতে না কাটতেই মিউনিখে রচিত হলো অন্যরকম এক নাটকীয়তা। বুধবার রাতে অ্যালিয়ানজ অ্যারেনায় ম্যাচের শুরুতেই স্তম্ভিত হয়ে পড়ে বায়ার্ন ভক্তরা। মাত্র ১৩৯ সেকেন্ডের মাথায় পিএসজিকে এগিয়ে দেন ব্যালন ডি'অর জয়ী উসমান দেম্বেলে। বাঁ প্রান্ত দিয়ে খভিচা কাভারাস্কেইয়ার গতিময় দৌড় আর মাপা ক্রস খুঁজে নেয় আনমার্কড দেম্বেলেকে, যিনি নিখুঁত ফিনিশিংয়ে জাল কাঁপাতে ভুল করেননি। এই গোলের পর বায়ার্ন কোচ ভিনসেন্ট কোম্পানির রক্ষণভাগের কৌশলÑবিশেষ করে ফুলব্যাকদের পজিশন অদলবদল করা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে। গোল খেয়ে মরিয়া হয়ে ওঠে বায়ার্ন।
মাইকেল ওলিসে আর জামাল মুসিয়ালারা বারবার হানা দিচ্ছিলেন পিএসজির দুর্গে। ম্যাচের মাত্র ৮ মিনিটের মাথায় হলুদ কার্ড পেলেও নুনো মেন্দেস ছিলেন অদম্য। ওলিসের একটি নিশ্চিত গোল নিজের শরীর দিয়ে ঠেকিয়ে দিয়ে পিএসজিকে রক্ষা করেন তিনি। অন্যদিকে, কাভারাস্কেইয়া পুরো মাঠ জুড়ে রাজত্ব করেছেন, উপামেকানোকে নাটমেগ করে তাঁর একক দৌড় ছিল দেখার মতো। ম্যাচজুড়ে রেফারি জোয়াও পেদ্রো পিনহেইরোর কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে উত্তপ্ত ছিল মাঠ। নুনো মেন্দেসের ফাউলে লাল কার্ডের দাবি এবং জোয়াও নেভেসের হ্যান্ডবলের পেনাল্টি আবেদন নাকচ করে দিলে ক্ষোভে ফেটে পড়েন বায়ার্ন ফুটবলাররা। যোগ করা সময়ের একেবারে শেষ মুহূর্তে (৯৪ মিনিট) হ্যারি কেইন গোল করে ম্যাচে সমতা ফেরান। কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে। ইউরোপসেরার ট্রফি ছোঁয়ার অপেক্ষাটা কেইনের জন্য আবারও হাহাকার হয়েই রইল। আগামী ৩০ মে বুদাপেস্টের পুসকাস অ্যারেনায় শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে আর্সেনালের মুখোমুখি হবে পিএসজি। আর্সেনালের সামনে এখন ২০ বছরের ইউরোপীয় শিরোপা খরা কাটানোর মিশন। আর পিএসজির সামনে নিজেদের রাজসিংহাসন ধরে রাখার অদম্য ইচ্ছা। বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা কি পারবে তাদের শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখতে, নাকি ‘গানার্স’রা নতুন ইতিহাস লিখব তা দেখার অপেক্ষা।