সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে এর আগে কেবল ভারতেরই হ্যাটট্রিক শিরোপা জয়ের রেকর্ড রয়েছে। এবার সেই অবিস্মরণীয় কীর্তি গড়ার দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। তবে টানা তৃতীয় শিরোপা জয়ের এই হাতছানি বাড়তি চাপ তৈরি করছে কি না, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। ২৫ মে টুর্নামেন্ট শুরুর আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে এসে দলের নবনিযুক্ত অধিনায়ক মারিয়া মান্দা জানালেন, চাপ থাকলেও তা সামলে ধাপে ধাপে এগোতে চায় তার দল।
গত দুই আসরে চ্যাম্পিয়ন হলেও এবার শূন্য থেকেই শুরু করতে চান মারিয়া। ২৮ মে মালদ্বীপ এবং ৩১ মে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে গ্রুপ পর্ব পার হতে হবে বাংলাদেশকে। ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন হিসেবে মাঠে নামার স্নায়ুচাপ নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মারিয়া বলেন, ‘আসলে বিগত দিনগুলোতে আমরা খেলে আসছি, আমরা জানি সব দলই অনেক ভালো। তাই চাপ তো থাকবেই।কারণ এখন নতুন করে আবার সাফ শুরু হচ্ছে। তবে আমরা চেষ্টা করব আমাদের সর্বোচ্চটা দিয়ে খেলার।’
অধিনায়ক হিসেবে মারিয়ার পরিণত মানসিকতার প্রশংসা করেছেন কোচ পিটার বাটলারও। দলে তরুণদের আধিক্য থাকায় মারিয়ার ওপর নেতৃত্বের ভার তুলে দিয়েছেন তিনি। কোচের বিশ্বাস, সামনে থেকে দৃষ্টান্ত স্থাপন করে দলকে এগিয়ে নিতে পারবেন এই মিডফিল্ডার। ফুটবলে ‘ম্যাচ বাই ম্যাচ’ বা ধাপে ধাপে এগোনোর কৌশলটি বেশ পুরোনো এবং কার্যকর। অতিরিক্ত প্রত্যাশার চাপ যেন খেলোয়াড়দের স্বাভাবিক খেলায় প্রভাব না ফেলে, সে কারণেই এই ফর্মুলায় হাঁটছে বাংলাদেশ। মারিয়ার কথাতেও শোনা গেল সেই সুর।
তিনি বলেন, ‘টানা তিনবার শিরোপার লড়াইয়ে আসাটা আমাদের জন্য অনেক বড় চ্যালেঞ্জ। তবে আমরা আমাদের স্বাভাবিক খেলাটাই খেলার চেষ্টা করব এবং ম্যাচ বাই ম্যাচ ভালো করার চেষ্টা করব। সেভাবেই আমরা সব প্রস্তুতি ভালোভাবে নিয়ে এসেছি।’
থাইল্যান্ডে নিবিড় অনুশীলন ক্যাম্প শেষে ফুরফুরে মেজাজেই আছে বাংলাদেশ দল। অধিনায়ক ও কোচের সংবাদ সম্মেলনে একটি বিষয় পরিষ্কারÑশিরোপা ধরে রাখার চাপকে তারা অনুপ্রেরণা হিসেবেই নিচ্ছেন। এখন দেখার পালা, মালদ্বীপের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে নিজেদের পরিকল্পনা কতটা সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে পারেন মারিয়া-আফিদারা। সাফের মঞ্চে আরও একবার লাল-সবুজের বিজয় নিশান উড়বে কি না, উত্তর মিলবে মাঠের লড়াইয়ে।