আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে ব্রাজিলকে ২-১ গোলে হারিয়ে দারুণ জয় তুলে নিয়েছে ফ্রান্স। ম্যাচের প্রথমার্ধে তুলনামূলক নিয়ন্ত্রিত ফুটবল খেললেও দ্বিতীয়ার্ধে ১০ জনের দলে পরিণত হয়েও কার্যকর ফিনিশিংয়ে এগিয়ে ছিল ফ্রান্স। অন্যদিকে ব্রাজিল দ্বিতীয়ার্ধে জেগে উঠলেও সুযোগ কাজে লাগাতে না পারায় হার এড়াতে পারেনি। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে হওয়া ম্যাচের শুরুতেই আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে এগিয়ে আসে ব্রাজিল। পঞ্চম মিনিটে ভালো সুযোগ পেয়েও লক্ষ্যভ্রষ্ট হন রাফিনহা। তিন মিনিট পর ফরাসি তরুণ ফরোয়ার্ড হুগো একিটিকের হেডও লক্ষ্য খুঁজে পায়নি। এরপর ধীরে ধীরে বলের দখল ও আক্রমণে প্রাধান্য নিতে শুরু করে ফ্রান্স, যদিও দু’দলই পরিষ্কার গোলের সুযোগ তৈরি করতে হিমশিম খাচ্ছিল। ২৭তম মিনিটে খেলার ধারার বিপরীতে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পায় ব্রাজিল। গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেল্লি ডি-বক্সের বাইরে থেকে দারুণ এক বাঁকানো শট নিলেও তা অল্পের জন্য পোস্টের বাইরে দিয়ে যায়। এরই পাঁচ মিনিট পর ম্যাচে এগিয়ে যায় ফ্রান্স। মাঝমাঠে বল কাড়েন অ্যারিয়েল চুয়ামেনি, সেখান থেকে বল যায় উসমান দেম্বেলের কাছে। তার নিখুঁত পাস ধরে দ্রুতগতিতে এগিয়ে চিপ শটে গোল করেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। আন্তর্জাতিক ফুটবলে এটি তার ৫৬তম গোল, যা তাকে অলিভিয়র জিরুডের খুব কাছাকাছি নিয়ে গেছে। প্রথমার্ধে বল দখলে পিছিয়ে থাকলেও দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই আক্রমণে ঝাঁপিয়ে পড়ে ব্রাজিল। পরপর কয়েকটি সুযোগ তৈরি করলেও গোলের দেখা পায়নি তারা। এই আক্রমণের মাঝেই ৫৫তম মিনিটে বড় ধাক্কা খায় ফ্রান্স। ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডার ওয়েজলির ওপর কঠিন ফাউলের জন্য প্রথমে হলুদ কার্ড দেখানো হলেও ভিএআর দেখে সরাসরি লাল কার্ড দেখানো হয় ডায়ট উপামেকানোকে। ফলে ১০ জনের দলে পরিণত হয় ফ্রান্স। সংখ্যাগতভাবে এগিয়ে থাকার সুবিধা নিতে পারেনি ব্রাজিল। বরং ৬৫তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করে ফ্রান্স। মাইকেল ওলিসের চমৎকার থ্রু পাস ধরে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে গোল করেন একিটিকে, যা ছিল জাতীয় দলের হয়ে তার দ্বিতীয় গোল। ৭৮তম মিনিটে ব্যবধান কমায় ব্রাজিল। ফ্রি-কিক থেকে তৈরি আক্রমণে ক্যাসিমিরোর বল কাটব্যাক করলে শট নেন লুইস এইহিক, আর মাঝপথে দিক পরিবর্তন করে বল জালে পাঠান ব্রেমার। ব্রাজিলের জার্সিতে এটি ছিল তার প্রথম গোল। শেষদিকে একের পর এক আক্রমণে ফ্রান্সকে চাপে রাখে ব্রাজিল, কিন্তু সমতায় ফিরতে পারেনি। ম্যাচের অন্তিম মুহূর্তে ব্রেহমের শটে সামান্য স্পর্শ দিতে পারলে হয়তো গোল পেয়ে যেতেন থিয়াগো বা ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, কিন্তু তা হয়নি। ফলে জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে ফ্রান্স। এই জয়ের পর আগামী রোববার কলম্বিয়ার বিপক্ষে আরেকটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে ফ্রান্স, আর ব্রাজিল মঙ্গলবার মুখোমুখি হবে ক্রোয়েশিয়ার। যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টনে গ্যালারিতে হাজির ৬৬,২১৫ জন দর্শকের বড় অংশই ছিলেন ভিনিসিয়ুস-রাফিনিয়াদের সমর্থক। তবে ভক্তদের স্তব্ধ হতে হয়েছে মাঠে সেলেসাওদের ম্লান পারফরম্যান্সে এবং এমবাপে-একতিকেদের নৈপুণ্যে। দুই দফা পিছিয়ে পড়ার পর দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচে ফেরার ইঙ্গিত দিয়েও পারল না ব্রাজিল। ২-১ গোলে হারল ১০ জনের ফ্রান্সের কাছে।