বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে আরেকটি গৌরবময় দিন এনে দিলো অনূর্ধ্ব-২০ ফুটবল দল। সাফ অনূর্ধ্ব-২০ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতীয় যুবাদের টাইব্রেকারে ৪-৩ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বার শিরোপা জিতেছে বাংলাদেশের যুবারা। এই জয়ে গোটা দেশ আনন্দে ভাসছে, আর তরুণ ফুটবলারদের বীরোচিত পারফরম্যান্স ক্রীড়াপ্রেমীদের মাঝে নতুন করে স্বপ্ন জাগিয়েছে। গতকাল শনিবার অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ দলের সদস্যরা ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে সন্ধ্যা সাতটার দিকে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। চ্যাম্পিয়ন দলকে অর্ভ্যথনা জানাতে আগেভাগেই বিমানবন্দরে উপস্থিত হয়েছিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক নিজেই ২০০৩ সালে সাফ চ্যাম্পিয়ন ফাইনালে টাইব্রেকারে একটি শট ঠেকিয়েছিলেন। তাই অনুজদের অভিনন্দন জানাতে ফুল নিয়ে বিমানবন্দরে হাজির হন তিনি। অ-২০ দলের অধিনায়ক মিঠু চৌধুরীকে ফুল দিয়ে বরণ করেন। এই সময় ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি বাফুফে ডেভলপমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান সহ-সভাপতি নাসের শাহরিয়ার জাহেদীসহ আরও অনেকে ছিলেন।

ফুটবল সংস্কৃতিতে উন্নত দেশে ক্লাব কিংবা জাতীয় দলের সাফল্যে ছাদ খোলা বাসের প্রচলন রয়েছে। ২০২২ সালে সাফ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর বাংলাদেশ নারী দল প্রথম এই সম্মাননা পায়। ২০২৪ সালে পুনরায় সাফ চ্যাম্পিয়ন ও ২০২৫ সালে এশিয়া কাপে প্রথমবার ওঠার পর নারী দল আরও দুইবার এই ছাদ খোলা বাসে উঠেছিল। পুরুষ দলের জন্য এই প্রথম ছাদখোলা বাসে ফুটবলাররা বিমানবন্দর থেকে হাতিরঝিলের এম্ফিথিয়েটারে যায়। সেখানে মিঠু-রোনানদের জন্য সংবর্ধনার আয়োজন করেছে বাফুফে। ইতোমধ্যে আলো ঝলমল ও রোনানদের ছবিতে প্রস্তুত হাতিরঝিল। এর আগে শুক্রবার মালদ্বীপ জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনাল ম্যাচে নির্ধারিত সময়ের দুই অর্ধে কোনো দলই গোলের দেখা পায়নি। ফলে ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানে শুরুতেই ভারতের ওপর চাপ তৈরি করেন বাংলাদেশের গোলরক্ষক ইসমাইল হোসেন মাহিন। ভারতের রিশি সিংয়ের প্রথম শটটি ডান দিকে ঝাঁপিয়ে অসাধারণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন তিনি। এরপর ভারত আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি।

টাইব্রেকারের উত্তেজনা বাড়িয়ে তোলে একের পর এক নাটকীয় মুহূর্ত। বাংলাদেশের স্যামুয়েল রাকসাম শট মিস করলে কিছুটা শঙ্কা তৈরি হয়। তবে ভারতের ওমাং দোদুমের শট গ্যালারিতে উড়ে গেলে আবারও স্বস্তি ফিরে আসে বাংলাদেশ শিবিরে। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের হয়ে নির্ণায়ক শট নিতে এসে ভারতের গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন রোনান সুলিভান, আর তাতেই নিশ্চিত হয় শিরোপা জয়।

এই ঐতিহাসিক সাফল্যের পরপরই শিরোপাজয়ী দলকে সংবর্ধনা দেয়ার আয়োজন করেছেন যুব ও ক্রীড়ামন্ত্রী আমিনুল হক। তিনি জানান, সাফজয়ী নারী দলের মতোই অনূর্ধ্ব-২০ দলকেও ছাদখোলা বাসে করে ঢাকাজুড়ে শোভাযাত্রার মাধ্যমে সংবর্ধনা দেয়া হয়। বিমানবন্দর থেকে শুরু হওয়া এই শোভাযাত্রা রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে হাতিরঝিলে গিয়ে শেষ হয়। ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, ফাইনাল ম্যাচটি ছিল অত্যন্ত শ্বাসরুদ্ধকর এবং টাইব্রেকারে জয় নিশ্চিত করে বাংলাদেশ দল অসাধারণ দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে। তিনি প্রধানমন্ত্রী, দেশবাসী এবং ক্রীড়া পরিবারের পক্ষ থেকে পুরো দলকে অভিনন্দন জানান। একই সঙ্গে এই অনূর্ধ্ব-২০ দলটিকে নিয়ে ভবিষ্যৎ নিয়েও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। তার মতে, এই তরুণ ফুটবলারদের অনেকেই খুব শিগগিরই জাতীয় দলে জায়গা করে নিতে সক্ষম হবে। তিনি আরও বলেন, দেশের ক্রীড়াবান্ধব পরিবেশ এবং সরকারের সমর্থন অব্যাহত থাকলে ফুটবল, ক্রিকেটসহ সব খেলাধুলায় বাংলাদেশ আরও এগিয়ে যাবে। খেলাধুলাকে সমাজ গঠন এবং দেশকে এগিয়ে নেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে উল্লেখ করে তিনি এ ধারাবাহিকতা বজায় রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।