মোঃ কায়সার হামিদ (জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত সাবেক ফুটবলার) : রেকর্ডের ভাঙা-গড়া দিয়ে শুরু করি। শনিবার (২০ জুন) ভোররাতে মরক্কোর ইসমায়েল সাইবারি মাত্র ৭২ সেকেন্ডে গোল করলেন স্কটল্যান্ডের বিরুদ্ধে। চলতি বিশ্বকাপের দ্রুততম গোলের রেকর্ড গড়লেন সাইবারি। কয়েক ঘণ্টা পরেই প্যারাগুয়ের মাতিয়াস গালারজা গোল করে বসলেন খেলা শুরুর ৬৫ সেকেন্ডের মধ্যে । তুরস্কের বিরুদ্ধে। এই তুরস্কের কিংবদন্তী স্ট্রাইকার হাকান শুকুর ২০০২ সালে স্বাগতিক দঃ কোরিয়ার বিপক্ষে ১১ সেকেন্ডের লক্ষ্যভেদে বিশ্বকাপে দ্রুততম গোলের রেকর্ড গড়ে রেখেছেন।
হাকাম শুকুরের দ্রুততম গোলের রেকর্ড অক্ষুণ্ন থাকলেও বিশ্বকাপে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড ভেঙে যাবে যে কোন মুহূর্তে। সোমবার (২২ জুন) আর্জেন্টিনা মাঠে নামছে অষ্ট্রিয়ার বিপক্ষে। চলতি আসরে নিজেদের প্রথম ম্যাচে লিওনেল মেসির হ্যাট্রিকে আলজেরিয়াকে হারিয়েছে আর্জেন্টিনা । অষ্ট্রিয়ার বিপক্ষেও ফেভারিট বিগত আসরের চ্যাম্পিয়নরা। ম্যাচটির দিকে আলাদাভাবে নজর থাকবে সবার। মেসি ইতোমধ্যে বিশ্বকাপে সর্বাধিক ১৬ গোলের রেকর্ডে মিরোস্লাভ ক্লোসার পাশে বসে গেছেন। অষ্ট্রিয়ার বিপক্ষে গোল করে রেকর্ডটি এককভাবে নিজের করে নেয়ার সুযোগ থাকছে আর্জেন্টিনার অধিনায়কের সামনে। এছাড়া ১৯৫৪ বিশ্বকাপে হাঙ্গেরির সেন্ডার ককসিচের পর দ্বিতীয় খেলোয়াড় হিসেবে টানা দুই ম্যাচে হ্যাট্রিক করতে পারেন কিনা মেসি , দেখার অপেক্ষায় আছি। ১৯৫৮ বিশ্বকাপে ফ্রান্সের জ্যাঁ ফন্তেইন আর ১৯৭০-এ পঃ জার্মানির গাড মুলার দুটি হ্যাট্রিক করেন। আর্জেন্টিনার গ্যাব্রিয়েল বাতিস্তুতা ১৯৯৪ আর ১৯৯৮ বিশ্বকাপে ১টি করে হ্যাট্রিক করেছেন। ককসিচের রেকর্ড ছুঁতে না পারলেও ইতিহাসের পঞ্চম খেলোয়াড় হিসেবে ফিফা বিশ্বকাপে দুটি হ্যাট্রিকের মালিক বনে যাওয়ার সম্ভাবনা আর্জেন্টিনার খুদে জাদুকরের রয়েছে।
বেলজিয়াম আর ইরানের ম্যাচেও চোখ থাকবে। ‘জি’ গ্রুপের অন্য দুই দল নিউজিল্যান্ড আর মিশর । গ্রুপের প্রথম দুটি ম্যাচই ড্র ছিল। তাই চার দলের সামনেই জয় নিয়ে গ্রুপের শীর্ষে ওঠার সুযোগ থাকছে। যে দল জিতবে, তাদের জন্য খুলে যেতে পারে নক আউট পর্বের রাস্তা । আর ড্র কিংবা পরাজয়ে ঝুলে যাবে ভাগ্য। এদিকে, কেপ ভার্দে একই দিন মাঠে নামছে দুইবারের বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন উরুগুয়ের বিপক্ষে। ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন স্পেনকে রুখে দিয়ে ইতোমধ্যে আলোচনার শীর্ষে নবাগত কেপ ভার্দে। দলের গোলরক্ষক ভোজিনহা
বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন। স্পেনের বিপক্ষে ড্র অঘটন ছিল না, প্রমাণ হবে উরুগুয়েকে কেপ ভার্দে পয়েন্ট পেলে। এতে তাদের ‘রাউন্ড অফ ৩২’-তে খেলার সম্ভাবনাও উজ্জ্বল হবে। শেষ ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ সৌদি আরব।
ব্রাজিল ভক্তদের জন্য সুখবর এসেছে। প্রথম ম্যাচে মরক্কোর সাথে ড্রয়ের পর ব্রাজিল জিতেছে হাইতির বিপক্ষে। দুর্বল প্রতিপক্ষ হলেও জয় তো জয়ই । ব্যবধানটাও খারাপ না , ৩-০। তবে ব্রাজিলের খেলায় উন্নতির অনেক জায়গা রয়েছে। রক্ষণের পুরনো ভুলভ্রান্তি বজায় ছিল । হাইতি একাধিকবার আতংকের সৃষ্টি করেছে ব্রাজিলের বক্সে। অ্যালিসন বেকার একটি নিশ্চিত গোল বাঁচিয়েছেন। তবে জোড়া গোল করা কুনহা নজর কেড়েছেন। আর একমাত্র ভিনিসিয়ুস জুনিয়রকে মনে হয়েছে তিনি দলের শতভাগ নিবেদিতপ্রাণ। এছাড়া প্রথমার্ধের শেষ দিকে রাফিনহার ইনজুরি ব্রাজিলের জন্য দুশ্চিন্তার । বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচে খেলার সময়ও তিনি হ্যামস্ট্রিং ইনজুরির শিকার হয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন। হাইতির বিরুদ্ধেও তাঁকে তুলে নিতে বাধ্য হলেন কোচ কার্লো আনচেলত্তি। রাফিনহা দ্রুত সুস্থ হয়ে মাঠে ফিরুক, এটা চাইছি। ব্রাজিলের সাফল্যের জন্য রাফিনহাকে খুব দরকার। একই গ্রুপে মরক্কো স্কটল্যান্ডকে হারিয়েছে। দুই ম্যাচে ব্রাজিলের সমান ৪ পয়েন্ট পাওয়া গত বিশ্বকাপের সেমিফাইনালিস্ট মরক্কো সেরা ৩২-এ খেলবে , আশা করা যায়।
মেক্সিকোর পর যৌথ স্বাগতিক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পৌঁছে গেছে নক আউট পর্বে। প্যারাগুয়ের পর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জয় পেয়েছে মার্কিনীরা। আগেই বলেছিলাম , এবারের ফরম্যাটে ‘সেরা ৩২’ যোগ হওয়ায় অপেক্ষাকৃত বড় দলগুলোর শুরুতেই ঝরে পড়ার সম্ভাবনা কম। আবার অন্তত একটি জয় পেলেও অনেকেই উঠে যাবে সেরা ৩২-এ । বর্তমান ফরম্যাটে ১২টি গ্রুপের প্রথম দুটি করে দল পরবর্তী রাউন্ডে তো খেলবেই, সেরা তৃতীয় হিসেবে আরও আটটি দলের সামনে থাকছে নক আউটে খেলার সম্ভাবনা। তাই শুরুতে হোঁচট খেলেও নিজেদের সামলে নেবার সুযোগ থাকছে সবার।