টানা ১৪ ম্যাচে অপরাজিত থাকার ধারা বজায় রেখে দ্বিতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে উঠেছে ইংলিশ ক্লাব আর্সেনাল। এমিরেটস স্টেডিয়ামে সেমিফাইনাল পর্বের দ্বিতীয় লেগে বুকায়ো সাকার একমাত্র গোলে অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদকে হারিয়ে বুদাপেস্টের টিকিট নিশ্চিত করেছে মিকেল আর্তেতার শিষ্যরা। ক্লাবের ইতিহাসে এই নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালের টিকিট কাটল আর্সেনাল। লন্ডনের মাটিতে দ্বিতীয় লেগের এই কঠিন লড়াইয়ে ১-০ গোলের জয় ধরে রাখল আর্সেনাল; আর দুই লেগ মিলিয়ে ২-১ ব্যবধানে অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদকে হারিয়ে তারা পৌঁছে গেল ফাইনালে! নিজেদের ঘরের মাঠ এমিরেটস স্টেডিয়ামে আর্তেতা এবং তার শিষ্যদের জন্য কী দুর্দান্ত এক রাত! সাকা টাচলাইন থেকে দৌড়ে এসে মাঠে হাঁটু গেড়ে বসে পড়লেন। আকাশের দিকে আঙুল তুলে স্রষ্টাকে ধন্যবাদ জানাচ্ছেন তিনি। আজকের লন্ডনের এই মায়াবী রাতের নায়ক এখন তিনিই। ইংলিশ এই তারকার ৪৫ মিনিটের সেই গোলই গানারদের পৌঁছে দিল ৩০ মের চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনালে! এমিরেটস স্টেডিয়াম যেন এক আগ্নেয়গিরির মতো ফেটে পড়ল! বৃষ্টির বাগড়ায় আবহাওয়া কিছুটা গুমোট হয়ত ছিল, কিন্তু উত্তর লন্ডনের আজকের এই উৎসবের আমেজকে তা বিন্দুমাত্র ম্লান করতে পারেনি। আর্সেনালের পুরো স্কোয়াড একে অপরের হাত ধরে দৌড়ে যাচ্ছে সমর্থকদের দিকে– ক্লাবের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসের পাতায় এক স্মরণীয় রাতকে উদযাপন করতে। আর্তেতার মুখে চওড়া হাসি! বাতাসে ঘুসি ছুড়ে তিনি সমর্থকদের উদ্বুদ্ধ করছেন তার এই বিজয়ী দলের জন্য আনন্দ উল্লাস করে যেতে। স্টেডিয়ামের লাউডস্পিকারে তখন তারস্বরে বাজছে “ফ্রিড ফ্রম ডিজায়ার”, আর সেই তালের সাথে তাল মিলিয়ে নাচছেন আর্সেনালের খেলোয়াড় এবং সমর্থকরা। আর্সেনালের ইতিহাসে এটি এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। শেষবার তারা উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে খেলেছিল ২০০৬ সালে। এই একটি মুহূর্তের জন্য ক্লাবটির খেলোয়াড় এবং সমর্থকরা দীর্ঘ ২০টি বছর অপেক্ষা করেছেন! এবার ৩০ মের সেই গ্র্যান্ড ফাইনালের লড়াই লড়তে তাদের গন্তব্য বুদাপেস্ট! ’এটা সত্যি অসাধারণ! আমাদের কাছে এর গুরুত্ব কতটা, সমর্থকদের কাছে এর মানে কী– তা আপনারা দেখতেই পাচ্ছেন। আমরা সবাই আজ ভীষণ খুশি,’ অ্যামাজন প্রাইম-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সাকা এভাবেই নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেন। প্রিমিয়ার লিগে ম্যানসিটি এভারটনের মাঠে ড্র করলে আর্সেনালের সামনে ২২ বছরে শিরোপা খরা কাটানোর সুযোগ এসেছে। বাকি তিন ম্যাচ জিতলে লিগ চ্যাম্পিয়ন হবে তারা। এবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে ওঠায় ডাবলস জয়ের হাতছানি তাদের সামনে। সেই কাক্সিক্ষত ফাইনালে আর্সেনাল মুখোমুখি হবে বায়ার্ন মিউনিখ অথবা পিএসজির। আজ (বুধবার) মিউনিখে দ্বিতীয় লেগের সেমিফাইনাল লড়াইয়ে নামার আগে বায়ার্নের বিপক্ষে ৫-৪ গোলের ব্যবধানে এগিয়ে আছে পিএসজি। ২০০৬ সালে আর্সেন ওয়েঙ্গারের অধীনে প্রথমবার চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে খেলেছিল আর্সেনাল। ঠিক ২০ বছর পর আর্তেতার হাত ধরে আবারও সেই সুযোগ এল। ম্যাচ শেষে আর্তেতা আবেগপ্লুত কণ্ঠে বলেন, ‘অবিশ্বাস্য এক রাত। আমরা একসাথে আবার ইতিহাস তৈরি করেছি। আমি সবার জন্য অত্যন্ত গর্বিত। স্টেডিয়ামের পরিবেশ এবং সমর্থকদের সমর্থন ছিল অনন্য।’ তিনি আরও বলেন, ‘স্টেডিয়ামের বাইরে আমাদের যেভাবে স্বাগত জানানো হয়েছে, তা ছিল বিশেষ এবং অনন্য। এখানকার পরিবেশ এবং আমাদের সমর্থকদের তৈরি করা এনার্জি আমি আগে কখনও এই স্টেডিয়ামে অনুভব করিনি। আমরা জানতাম এই জয়টি সবার কাছে কতটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। ছেলেরা অবিশ্বাস্য কাজ করেছে এবং ২০ বছর পর আমাদের ইতিহাসে দ্বিতীয়বারের মতো আমরা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে ফিরেছি।’ অন্যদিকে আর্সেনালের সামনে এখন রূপকথার দরজা খোলা। প্রিমিয়ার লিগ শিরোপার দৌড়ে যেমন তারা টিকে আছে, তেমনি ইউরোপসেরার মুকুট থেকেও মাত্র এক ধাপ দূরে। এই মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লিগে এখন পর্যন্ত অপরাজিত আর্তেতার দল। পুরো প্রতিযোগিতায় সবচেয়ে কম গোল হজম করা দলও তারা। বুদাপেস্টে অপেক্ষা করছে নতুন এক মহারণ। প্রতিপক্ষ হতে পারে পিএসজি অথবা বায়ার্ন মিউনিখ। কিন্তু এই মুহূর্তে আর্সেনাল সমর্থকদের চোখে শুধু একটাই স্বপ্ন- ২২ বছরের লিগ অপেক্ষার পর যেমন নতুন সূর্যোদয়ের আশা, তেমনি ইউরোপের মঞ্চেও প্রথমবারের মতো রাজত্ব করার আকাক্সক্ষা।