সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জিতে দেশে ফেরা বাংলাদেশ দলকে প্রশংসার পাশাপাশি ভাসানো হচ্ছে আর্থিক পুরস্কারেও। আজ সোমবার জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের অডিটোরিয়ামে সকাল ১১টায় ক্রীড়া দিবসের অনুষ্ঠানে শিরোপা জয়ী দলটিকে সংবর্ধনার আয়োজন করেছে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। এর আগে শনিবার দলটি দেশে ফিরলে রাতে রাজধানীর হাতিরঝিল অ্যাম্ফিথিয়েটারে আয়োজিত জমকালো সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে খেলোয়াড়দের জন্য নগদ অর্থ পুরস্কারের ঘোষণা দিয়েছেন বাফুফে ও সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তারা। অনুষ্ঠানে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য পেয়েছে ফুটবলারদের জন্য ঘোষিত আর্থিক পুরস্কারগুলো। বাফুফে সহ-সভাপতি ও ডেভেলপমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান নাসের শাহরিয়ার জাহেদী ঘোষণা দেন, চ্যাম্পিয়ন দলের প্রত্যেক ফুটবলারকে ১ লাখ টাকা এবং কর্মকর্তাদের ৫০ হাজার টাকা করে, যা রাতেই প্রদান করা হয়। তার এই ঘোষণার পরপরই ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে প্রত্যেক খেলোয়াড়কে আরও ৫০ হাজার টাকা করে দেওয়ার কথা জানান। অন্যদিকে, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পরপরই আর্থিক পুরস্কারের কথা জানালেও হাতিরঝিলের অনুষ্ঠানে টাকার অঙ্ক প্রকাশ করেননি। আজ জাতীয় ক্রীড়া দিবসে এই পুরস্কারের ঘোষণা দেওয়া হবে জানিয়ে তিনি আশ্বাস দেন, ফুটবলারদের জন্য দারুণ কিছুই অপেক্ষা করছে। এর আগে রাত ৯টার পর আলোকসজ্জায় সজ্জিত হাতিরঝিলের অ্যাম্ফিথিয়েটারে সাফজয়ী দল প্রবেশ করতেই অপেক্ষমাণ ফুটবলপ্রেমীরা উল্লাসে ফেটে পড়েন। উপস্থাপকের ডাকে একে একে সব ফুটবলার মঞ্চে ওঠেন। এ সময় এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়, যখন অধিনায়ক মিঠু চৌধুরী ট্রফি হাতে নিয়ে তা তুলে দেন ইনজুরির কারণে দলের সঙ্গে মালেতে যেতে না পারা সতীর্থ আশিকুর রহমানের হাতে। আশিকুর স্ক্যাচে ভর করেই এই আনন্দঘন মুহূর্তে শরিক হতে মঞ্চে এসেছিলেন। পুরো দেশবাসীকে এই শিরোপা উৎসর্গ করে অধিনায়ক মিঠু চৌধুরী বলেন, জাতীয় দলের সঙ্গে তাদের ফাইভ স্টার হোটেলে রেখে উজ্জীবিত করা হয়েছিল। এই ট্রফির পেছনে সবার অনেক শ্রম ও ঘাম রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। অনুষ্ঠানে সমর্থকদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন দলের দুই আমেরিকান প্রবাসী ফুটবলার রোনান ও ডেকলান সুলিভান। বাংলা বলতে না পারলেও ইংরেজিতে দেওয়া সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে দুই ভাই জানান, বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের এমন বাঁধভাঙা ভালোবাসায় তারা সিক্ত এবং পুরো বিষয়টি তারা দারুণ উপভোগ করছেন। যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক নিজে ২০০৩ সালের সাফ চ্যাম্পিয়ন দলের গোলরক্ষক হওয়ায় বর্তমান দলের গোলরক্ষক মাহিনের প্রশংসায় পঞ্চমুখ ছিলেন। স্মৃতি রোমন্থন করে তিনি জানান, কক্সবাজার থেকে খেলা দেখার সময় গোলরক্ষক মাহিনের দুর্দান্ত সেভগুলো দেখে ২০০৩ সালের সাফ ফাইনালে তার নিজের টাইব্রেকার সেভের কথাই বারবার মনে পড়ে যাচ্ছিল। বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ দলের ব্রিটিশ কোচ মার্ক কক্স এই তরুণদের নিয়ে দারুণ আশাবাদী। ২০৩৪ সালের মধ্যেই এই দলটির বিশ্বমানের পর্যায়ে পৌঁছানোর সক্ষমতা রয়েছে বলে তিনি মনে করেন। বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়ালও আগামী ১০ বছরের মধ্যে এই তরুণদের আরও বড় মঞ্চে দেখার আশা প্রকাশ করেন। অনূর্ধ্ব-২০ দলটি মূলত বাফুফের ডেভেলপমেন্ট কমিটির অধীনে পরিচালিত হয়। এই কমিটির চেয়ারম্যান নাসের শাহরিয়ার জাহেদী দেশের ফুটবলের পাইপলাইন শক্তিশালী করার ওপর জোর দিয়ে বলেন, দৃঢ় লক্ষ্য থাকলে যে সফল হওয়া যায় তা এই দলের সাফল্যেই প্রমাণিত। ধারাবাহিকভাবে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ফুটবলাররা যেন নিজেদের মেলে ধরতে পারে, বাফুফেকে এখন তা নিয়েই নিবিড়ভাবে কাজ করতে হবে।
ফুটবল
আজ এনএসসিতে সাফজয়ী ফুটবলারদের সংবর্ধনা
সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জিতে দেশে ফেরা বাংলাদেশ দলকে প্রশংসার পাশাপাশি ভাসানো হচ্ছে আর্থিক পুরস্কারেও। আজ সোমবার জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের অডিটোরিয়ামে সকাল ১১টায় ক্রীড়া দিবসের অনুষ্ঠানে শিরোপা জয়ী দলটিকে সংবর্ধনার আয়োজন করেছে
Printed Edition