ভারতের গোয়া শহরে সাফ নারী ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপের পর্দা উঠছে আজ সোমবার। উদ্বোধনী দিনে দুটি ম্যাচ অনুষ্টিত হবে। দিনের প্রথম ম্যাচে ভুটানের প্রতিপক্ষ নেপাল। অপর ম্যাচে স্বাগতিক ভারতের মুখোমুখি হবে মালদ্বীপ। সাফের এবারের আসরে পাকিস্তান ছাড়া ছয়টি দল অংশ নিচ্ছে। দলগুলো হচ্ছে ভুটান, মালদ্বীপ, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ ও স্বাগতিক ভারত। দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে টানা দুইবারের চ্যাম্পিয়ন হিসেবে এবারও শিরোপা ধরে রাখার মিশন নিয়েই মাঠে নামবে বাটলারের শিষ্যরা। আগামী ২৮ মে মালদ্বীপের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে লাল-সবুজদের হ্যাটট্রিক শিরোপা জয়ের অভিযান। তবে টুর্নামেন্ট শুরুর আগের দিন গতকাল রোববার সংবাদ সম্মেলনে এসে বাংলাদেশ দলের প্রধান কোচ পিটার বাটলার স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন অতীতের ইতিহাস নিয়ে পড়ে থাকতে রাজি নন তিনি, তার চোখ কেবলই ভবিষ্যতের দিকে।
সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নে এশিয়ান কাপের বাছাইপর্ব থেকে ছিটকে যাওয়ার প্রসঙ্গটি উঠে আসে। তবে সেই ব্যর্থতাকে ‘হতাশা’ হিসেবে মানতে নারাজ ইংলিশ কোচ পিটার বাটলার। এই ইংলিশ কোচ বলেন, ‘আমি মোটেও মনে করি না যে সেটি কোনো হতাশার ছিল। বাংলাদেশ ফুটবলের ইতিহাসে এবারই প্রথম আমরা অনূর্ধ্ব-২০ এবং সিনিয়র দল উভয় ক্ষেত্রেই কোয়ালিফাই করতে পেরেছিলাম।আমি বিষয়টিকে কোনোভাবেই হতাশা হিসেবে দেখি না; বরং এটি আমাদের চলমান প্রক্রিয়ার একটি মাইলফলক।’ অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত এশিয়ান কাপের অভিজ্ঞতাকে পুঁজি করে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে ভালো করার ছক কষছেন বাটলার। কোরিয়া ও চীনের মতো পরাশক্তিদের বিপক্ষে খেলা দলকে পরিণত করেছে বলে মনে করেন তিনি। তার মতে, ‘সেরাদের সাথে লড়তে হলে পরিকল্পনা আর প্রস্তুতিটাই আসল। কথায় আছে না ’প্রস্তুতি নিতে ব্যর্থ হওয়া মানে ব্যর্থ হওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া।’
গ্রুপ ‘বি’-তে বাংলাদেশের সঙ্গী স্বাগতিক ভারত এবং মালদ্বীপ। ৩১ মে স্বাগতিকদের বিপক্ষে হাই-ভোল্টেজ ম্যাচ। তবে স্বাগতিক ভারতকে নিয়ে বাড়তি কোনো ভয় বা উত্তেজনা নেই বাটলারের। পেশাদার এই কোচ প্রতিটি দলকে সমান চোখে দেখার পক্ষপাতী। তিনি বলেন, ‘ভারত শক্তিশালী দল, নিজেদের মাঠে খেলছে, তাই তারা গোছানো থাকবে। তবে আমি ভারতকে যেভাবে দেখি, মালদ্বীপকেও ঠিক একইভাবে দেখি। আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো নিজেদের গেম প্ল্যানটি পেশাদার উপায়ে মাঠে প্রয়োগ করা।’ থাইল্যান্ডের একাডেমিতে ১২ দিনের কঠোর প্রস্তুতি এবং প্রস্তুতি ম্যাচগুলোর অভিজ্ঞতা দলের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে। নতুন প্রজন্মের তরুণ ফুটবলারদের নিয়ে গড়া এই দলটিকে নিয়ে দারুণ আশাবাদী কোচ। তার বিশ্বাস, ইতিহাস নিয়ে পড়ে না থেকে নতুন করে ইতিহাস গড়ার এটি এক দারুণ সুযোগ।