সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপে স্বাগতিক ভারতের সঙ্গে একই গ্রুপে পড়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ। আগামী ২৫ মে থেকে ৬ জুন পর্যন্ত ভারতের গোয়ায় এই টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হবে। গতকাল বুধবার ঢাকা কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ড্র শেষে ছয়টি অংশগ্রহণকারী দলকে দুই গ্রুপে ভাগ করা হয়। গ্রুপ 'বি'-তে দুইবারের চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ এবং রেকর্ড পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন ভারতের সঙ্গে অন্য দলটি হলো মালদ্বীপ। গ্রুপ 'এ'-তে রয়েছে নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও ভুটান। প্রতি গ্রুপ থেকে দুটি করে দল সেমিফাইনালের জন্য কোয়ালিফাই করবে। এদিকে পাকিস্তান এই আসরে অংশগ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এবারের আসরে বাংলাদেশ নামছে টানা তৃতীয় শিরোপা জয়ের লক্ষ্য নিয়ে। ২০২২ সালে নেপালের মাটিতে গোলাম রব্বানী ছোটনের অধীনে ভারতকে হারিয়ে প্রথমবার শিরোপা জিতেছিল বাংলাদেশ। এরপর ২০২৪ সালেও নেপালে অনুষ্ঠিত আসরে পিটার বাটলারের হাত ধরে লাল-সবুজের দল চমৎকারভাবে তাদের শিরোপা ধরে রাখে। বিগত উভয় আসরেই বাংলাদেশ গ্রুপ পর্বে ভারতকে হারিয়েছিল এবং ফাইনালে নেপালকে পরাজিত করেছিল। অন্যদিকে ইতিহাস বলছে, নারী সাফের প্রথম পাঁচ আসরের সবকটিতেই চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ভারত। ফলে এবারের টুর্নামেন্টে আবারও ভারতকে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখা হচ্ছে, বিশেষ করে বাংলাদেশের গ্রুপে থাকায় ম্যাচটি নিয়ে বাড়তি আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

ড্রয়ের আগে ফিফা নারী র‌্যাঙ্কিংও হালনাগাদ করা হয়। সেখানে বাংলাদেশ আগের অবস্থানেই থেকে গেছে, অর্থাৎ ১১২ নম্বর স্থানে রয়েছে। তবে দলের রেটিং কিছুটা কমে দাঁড়িয়েছে ১১৬৫.৫৭, যা আগের তুলনায় ৪.৮৭ পয়েন্ট কম। সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সেও বাংলাদেশের জন্য চ্যালেঞ্জিং সময় গেছে, বিশেষ করে মার্চে অনুষ্ঠিত নারী এশিয়ান কাপের ম্যাচগুলোতে। ওই টুর্নামেন্টে ‘বি’ গ্রুপে চীন, উত্তর কোরিয়া ও উজবেকিস্তানের বিপক্ষে খেলেছিল বাংলাদেশ।

তিনটি ম্যাচেই হারতে হয়েছে দলটিকে, এবং পুরো আসরে কোনো গোল করতে পারেনি তারা। বিপরীতে ১১ গোল হজম করে দলটি, যা বড় টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থার একটি কঠিন চিত্র তুলে ধরেছে। সব মিলিয়ে আসন্ন নারী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের সামনে যেমন রয়েছে শিরোপা ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ, তেমনি রয়েছে শক্ত প্রতিপক্ষ ভারতকে মোকাবিলা করার গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা।