বাংলাদেশের ফুটবলের দীর্ঘদিনের সংকট নিরসনে একটি বড় মাইলফলক অর্জিত হতে যাচ্ছে। যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের সঙ্গে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) শীর্ষ কর্মকর্তাদের এক ফলপ্রসূ বৈঠকে সরকার নীতিগতভাবে তিনটি প্রধান স্টেডিয়াম বাফুফেকে বরাদ্দ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এছাড়া পুরুষ ও নারী উভয় দলের ফুটবলারদের মাসিক ভিত্তিতে সরকারি চুক্তির আওতায় এনে একটি স্থায়ী বেতন কাঠামোর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে সচিবালয়ে বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল ও অন্যান্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রায় দুই ঘণ্টার এক বৈঠক করেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী। বৈঠকে বাফুফে প্রতিনিধিরা ফুটবলের জন্য নির্দিষ্ট বা ‘ডেডিকেটেড’ ভেন্যুর দাবি জানান। আলোচনা শেষে মন্ত্রী জানালেন, ফিফা অনুদানের সঠিক ব্যবহার এবং ফুটবলের পেশাদারিত্ব বজায় রাখতে তিনটি মাঠ আনুষ্ঠানিকভাবে ফেডারেশনের হাতে তুলে দেয়া হবে। প্রাথমিকভাবে যে তিনটি স্টেডিয়াম বাফুফেকে দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে সেগুলো হলো: কমলাপুর বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী মোস্তফা কামাল স্টেডিয়াম (ঢাকা), সিলেট জেলা স্টেডিয়াম ও এম এ আজিজ স্টেডিয়াম (চট্টগ্রাম) তিনি বলেছেন, আনুষ্ঠানিক চুক্তির মাধ্যমে এই মাঠগুলো হস্তান্তর করা হবে। গ্যালারি উন্নয়ন থেকে শুরু করে স্টেডিয়ামের সার্বিক ব্যবস্থাপনা ফিফার অর্থায়নে আধুনিকায়ণ করা হবে। বৈঠক শেষে বাফুফের সহ-সভাপতি ফাহাদ করিম একে অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেছেন, 'প্রতিমন্ত্রীর নেতৃত্বে এবং সরকারের সহযোগিতায় আমরা এই মেয়াদেই একটি পূর্ণাঙ্গ ফুটবল-বান্ধব স্টেডিয়াম পাব বলে আশা করছি। স্থানীয় অন্য খেলার আয়োজকদের সাথে যেন কোনো বিরোধ তৈরি না হয়, সে বিষয়েও তিনি সমন্বয়ের আশ্বাস দেন। তিনি জানান, ফুটবল ও অন্যান্য খেলাধুলা যাতে সুস্থভাবে সহাবস্থান করতে পারে, সেভাবেই সমঝোতা স্মারক তৈরি করা হবে। হামজা চৌধুরীর মতো প্রবাসী খেলোয়াড়দের জাতীয় দলে অন্তর্ভুক্তি এবং নতুন নেতৃত্বের অধীনে দেশের ফুটবলে যে জোয়ার তৈরি হয়েছে, এই তিনটি ভেন্যু প্রাপ্তি তাকে আরও ত্বরান্বিত করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এদিকে জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক ও প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক দায়িত্ব নেয়ার পরপরই ক্রীড়াবিদদের বেতনের আওতায় আনার ঘোষণা দিয়েছেন।
গতকাল বিভিন্ন ফেডারেশনের সঙ্গে বৈঠকে তিনি বিষয়টি তুলে ধরেছেন। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সঙ্গে বিশেষ বৈঠকেও তিনি একই অবস্থান আরও দৃঢ়ভাবে পুনর্ব্যক্ত করেছেন। বাফুফে কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, ‘‘মেয়েদের ফুটবলাররা যেভাবে ধারাবাহিকভাবে ভালো পারফরম্যান্স করছে, তা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। তাদের উৎসাহিত করার পাশাপাশি পুরুষ ফুটবলারদেরও প্রণোদনার আওতায় আনা হবে। পুরুষ ও নারী উভয় দলের ফুটবলারদের মাসিক ভিত্তিতে সরকারি চুক্তির আওতায় এনে একটি স্থায়ী বেতন কাঠামোর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। নারী ফুটবলাররা বাফুফের মাসিক বেতনের আওতায় রয়েছেন। সেটা মাঝে মধ্যে অনিয়মিত হওয়ায় নেতিবাচক খবরের শিরোনাম হয় ফুটবল ফেডারেশন। সরকারের উদ্যোগের ফলে ঋতুপর্ণাদের পাশাপাশি হামজারাও বেতনের আওতায় আসছেন। বয়সভিত্তিক ফুটবল টুর্নামেন্ট চালিয়ে নিতে একটি ক্যালেন্ডার তৈরি করা হবে বলে জানিয়েছেন আমিনুল।
যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, ‘‘আমাদের বয়সভিত্তিক ফুটবল টুর্নামেন্ট চালিয়ে নিতে এরই মধ্যে ফুটবল ফেডারেশনের কাছ থেকে একটি ক্যালেন্ডার চেয়েছি। আমরাও আমাদের জায়গা থেকে ফুটবলকে এগিয়ে নিতে একটি বাৎসরিক ক্যালেন্ডার তৈরি করে বয়সভিত্তিক টুর্নামেন্টগুলো আমরা করব। বিশেষ করে গত অনেক বছর ধরেই দেখে আসছি যে, আমাদের জেলা পর্যায়ে লিগগুলো হয় না। যদিও গত বছর থেকে আমাদের আন্তঃজেলা ফুটবল টুর্নামেন্ট শুরু করেছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন।
সেটাকে আমরা স্থায়ীভাবে প্রত্যেক জেলায় জেলায় লিগ চালাতে চাই। এ বিষয়গুলো নিয়ে আমরা তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। এ সময় যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুলের সঙ্গে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) বৈঠকে সভাপতি তাবিথ আউয়াল, বাফুফের সদস্যগণ, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুব উল আলমসহ আরও অনেকই উপস্থিত ছিলেন।